চকরিয়া অফিস : চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ মামুন নামের এক রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে হয়রানির করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে অর্জিত টাকা বিনিয়োগ করে দেশে এসে মাত্র ১০ শতক জমি কিনতে গিয়ে কতিপয় ভূমিদস্যু চক্রের রোষানলে পড়েছেন তিনি। ভূমিদস্যু চক্রের মুলহোতা হাজি নুর হোসেন বাদি হয়ে পুলিশ প্রশাসনের দপ্তরে কল্প কাহিনীতে বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা মামুনুর রশিদ মামুন।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে চকরিয়া শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রেমিট্যান্স যোদ্ধা মামুনুর রশিদ মামুন এসব অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এ ধরনের কাল্পনিক ঘটনায় তাকে জড়িয়ে বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার ও পরিকল্পিত হয়রানি বন্ধে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাকে সম্মানহানি করতে হয়রানি করা হলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে রেমিট্যান্স যোদ্ধা মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, তার বাড়ি চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আমি দুবাই প্রবাস জীবনে রয়েছি। তার আগে সেখানে সরকারি চাকরিতে ছিলাম। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। আমার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীরা প্রতিবছর বাংলাদেশ সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিই। এভাবে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে সহযোগিতা দিয়েছি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে অর্জিত টাকা বিনিয়োগ করে চকরিয়া থানা সেন্টার এলাকায় ভরামুহুরী মৌজার মুল মালিক থেকে উচিতমুল্য দিয়ে ১০ শতক (৩০ কড়া) জমি কিনতে আমি আগ্রহী হই। সেই আলোকে কথাবার্তা বলেছি মাত্র। কিন্তু এখনো আমি ওই জমি রেজিস্ট্রি নিইনি। মালিকপক্ষ ওই জমিতে থাকা তাদের স্থাপনা সমুহ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে নিস্কন্টক করে দেওয়ার পর রেজিস্ট্রি হবার কথা।
এরই মধ্যে সেখানে মালিকপক্ষ সংস্কার কাজ শুরু করলে আগের ভাড়াটিয়া থানা সেন্টার এলাকার ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত হাজি নুর হোসেন হঠাৎ করে এসে বেপরোয়া হয়ে উঠে। অথচ ৭-৮ বছর আগে হাজী নুর হোসেন সেখান থেকে তার ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, জমির মালিকপক্ষ তাদের পুরানো দোকানপাট অপসারণে সংস্কার কাজ শুরু করলেও অভিযুক্ত ভূমিদস্যু নুর হোসেন উল্টো তাকে জড়িয়ে পুলিশ সুপার মহোদয় ও চকরিয়া থানার ওসির দপ্তরে সাজানো অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন। যেখানে আমি ওই জমি এখনো রেজিস্ট্রি নিইনি, সেখানে আমাকে জড়িয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্নভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে বিষয়টি আইনীভাবে কতটুকু যৌক্তিকতা আছে, সম্মানিত সাংবাদিক সমাজের কাছে প্রশ্ন রাখছি।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা মামুনুর রশিদ মামুন অভিযোগ করে বলেন, ২০২১ সালে আমি কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচন পরবর্তী কিছু চক্রান্তকারী চক্রের ইন্ধনে সেই থেকে কতিপয় মহল যে কোনো ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে নানাভাবে অপচেষ্ঠা চালিয়ে হয়রানি করে আসছে। এখনকার হয়রানিমুলক অপচেষ্টার বিষয়টিও তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এসব হয়রানি করে মুলত কৌশলে কতিপয় চক্র আমাকে জিম্মি করতে চান, আবদার পুরণে বাধ্য করতে চান। এখানে আমার বক্তব্য, প্রবাস জীবনে কষ্ঠে অর্জিত টাকা দিয়ে জমি কিনতে চাইলে কী আমি অপরাধী হবে যাবো। মালিকপক্ষ জমিতে সংস্কার কাজ করলে ক্রেতার কেন দোষ হবে, সাংবাদিক ভাইদের কাছে উত্তর চাই।
সর্বশেষে এ ধরনের কাল্পনিক ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার ও পরিকল্পিতভাবে হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একইসঙ্গে সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, পুনরায় তাকে জড়িয়ে মিথ্যাচার হয়রানি করা হলে এব্যাপারে যথাযথ আদালতে আইনের আশ্রয় নেব।




