মিরসরাই প্রতিনিধি: মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ছাত্রলীগের দুইগ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কলেজ এলাকা থেকে সংঘর্ষ পৌর সদরে ছড়িয়ে পড়লে সবাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
সংঘর্ষে ৪ জন ছাত্রলীগ কর্মী গুরতর আহত হয়েছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এঘটনায় মিরসরাই থানা পুলিশ দুটি মোটর সাইকেল সহ দুইজন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হলেন, ছাত্রলীগ কর্মী ইমতিয়াজ ও সাইমুন।
জানা গেছে, শনিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে মিরসরাই বিশ্বিবিদ্যালয় কলেজ সড়কে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ইভটিজিং এর ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক ও পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নাহিদের সমর্থকরা কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহনেওয়াজ নিশাদ অনুসারিদের ধাওয়া দেয়।
এই ঘটনার রেশ ধওে রোববার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরসরাই পৌরসভা মার্কেটের সামনে কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহনেওয়াজ নিশাদ ও তার সহপাঠীদের ওপর হামলা হয়। হামলায় নিশাদসহ তার অনুসারি রাজিব, সাকিব ও সজিব ও হাছান নামের পাঁচজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়।
ওইদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিরসরাই পৌর বাজারের ফুট ওভার ব্রিজের নিচে আহত ছাত্রলীগ নেতা নিশাদের গ্রুপের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় মিরসরাই পৌরসভা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর। এসময় উপজেলা সড়কে হাসান নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ধারালো অস্র দিয়ে কোপানোর সময় হাসানের মা নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পেছন পেছন দৌঁড়াতে দেখা যায়।
সর্বশেষ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুনরায় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা নিশাদের কর্মীরা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ তালবাড়ীয়া গ্রামে হামলা চালায় ছাত্রলীগ কর্মী রিয়াদের বাড়িতে। এসময় তারা ঘরের দরজা জানালা ভাংচুর করে এবং রিয়াদকে না পেয়ে তার এবং তার বড় ভাই সালমান ও রিয়াদের মোটর বাইকে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা শাহনেওয়াজ নিশাদ অভিযোগ করেন, ‘শনিবার সকালে আমার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে আসলে কয়েকজন বখাটে তাকে ইভটিজিং করে। এসময় আমরা বখাটেদের ধাওয়া করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ ঘটনার জেরে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর ইকবালের অনুগতরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি পারিবারিক কাজে নারায়নগঞ্জে আছি। যে ঘটনা ঘটেছে এটি একটি ইভটিজিং এর ঘটনা। ঘটনার সাথে অহেতুক আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্টো মোবাইল ফোনে ফোন করে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।’
মিরসরাই বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আবছার বলেন, ‘কলেজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে আসতে পারে। তবে ক্যাম্পাসে এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। ক্যাম্পাসের বাহিরে ঘটতে পারে। তবে আমাকে কেউ এ বিষয়ে জানায়নি।’
এ বিষয়ে মিরসরাই থানার সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) রাজিব পোদ্দার জানান, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনার পরপর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



