ডা. তারিক মেহের: এই যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে কথা ওঠে মাঝেমধ্যে এটা নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আমি জামালপুর জেলা শহরে বড় হয়েছি, শৈশব, থেকে কৈশোর এবং তারপর সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহে উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য ব্যয়িত সময় ব্যতিরেকে আজ অব্দি পেশাগত জীবনের এক দীর্ঘ সময় এখানেই কাটছে।
স্বর্গত গোপাদি ছিলেন আমার কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, জিলা স্কুলে ছিলেন স্বর্গত পণ্ডিত স্যার এবং অরুণ স্যার, শৈশবে সংগঠন করতে গিয়ে পেয়েছি স্বপন দাকে, প্রবাসী প্রকৌশলী বন্ধু পল্লব আর আমার খোশ মহলের বাসা ছিলো পাশাপাশি। আজ ৫০ পেরিয়ে আমি অনুভব করি এই মানুষদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কোনদিন কোন প্রশ্ন ওঠেনি আমার।
এই যে আমলা পাড়ার শাশ্বত, পল্লব কিংবা সিনিয়রদের ভেতরে ভুলু দা কিংবা অরুপ দা অথবা অনুজ প্রতীম স্বরুপ কাহালী এনাদের কাউকেই আজ অব্দি ধর্মীয় লেন্সের দৃষ্টিতে দেখা হয় নাই।আমার বয়সে এক মাত্র বাবরি মসজিদ ভাঙনের কালে কিছুটা ধর্মীয় উত্তেজনা লক্ষ্য করেছি কিন্তু আমাদের সমবেত উদ্যোগের প্রেক্ষিতে সেটি আর বাড়তে পারেনি।
এখন হয়তো সেভাবে সময় করা হয়ে ওঠে না, একটা সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি প্রধান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছে। আমরা অংশ নিয়েছি আনন্দের সাথে এবং প্রতিটি অনুষ্ঠান ছিলো উৎসবমুখর।
কিছুদিন আগে পূজা বিষয়ক একটি প্রস্তুতি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি মিটিং এ গিয়ে মনে হলে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প আগের চেয়ে অনেক বেশী এখন। হিন্দু নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন মন্তব্যে সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেলেও সেটি আর ব্যাখ্যা করছি না এখানে।
বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকলে তাদের ওপর ভারতীয় এক ধরনের চাপ থাকে যেটি তাদেরকে সব সময় সতর্ক রাখে ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় এবং সহায় সম্পত্তি এক ধরনের বাড়তি নিরাপত্তা পায়। ১৯৯১ এর পর থেকে আজ অব্দি পূজা মণ্ডপে হামলা, জমি দখল এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাংলাদেশ ত্যাগের পরিসংখ্যানকে পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।
পবিত্র কুরআন পাকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন যার যার ধর্ম তার কাছে। তিনি আরও বলেন- তিনি চাইলেই সকলকে একই ধর্মের অধীনে তৈরী করতে পারেন কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা বৈচিত্র্যের ভেতর মানুষ যেন তাকে স্মরণ করে।ইতিহাসের দিকে তাকাই। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের সাথে কারবালার যুদ্ধে কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বীও শহিদ হয়েছিলেন যাদেরকে বলা হয় পীরালী ব্রাহ্মণ।
সম্রাট আকবর এর পারিষদ ছিলো সিয়া, সুন্নি আর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিয়ে নিয়ে। আমি দিল্লি গিয়ে দেখেছি হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু মাজারে এবং আজমীর গিয়ে হযরত খাজা মাইনুদ্দীন চিশতী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর মাজারে গিয়ে দেখেছি সেখানে হিন্দু মুসলিম সব ধর্মের অনুসারীরাই তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
পরিশেষে সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানাই শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা এবং প্রকাশ করি উৎসবে অংশগ্রহণের অভিপ্রায়।
ডা. তারিক মেহের: এই যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে কথা ওঠে মাঝেমধ্যে এটা নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আমি জামালপুর জেলা শহরে বড় হয়েছি, শৈশব, থেকে কৈশোর এবং তারপর সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহে উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য ব্যয়িত সময় ব্যতিরেকে আজ অব্দি পেশাগত জীবনের এক দীর্ঘ সময় এখানেই কাটছে।
স্বর্গত গোপাদি ছিলেন আমার কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, জিলা স্কুলে ছিলেন স্বর্গত পণ্ডিত স্যার এবং অরুণ স্যার, শৈশবে সংগঠন করতে গিয়ে পেয়েছি স্বপন দাকে, প্রবাসী প্রকৌশলী বন্ধু পল্লব আর আমার খোশ মহলের বাসা ছিলো পাশাপাশি। আজ ৫০ পেরিয়ে আমি অনুভব করি এই মানুষদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কোনদিন কোন প্রশ্ন ওঠেনি আমার।
এই যে আমলা পাড়ার শাশ্বত, পল্লব কিংবা সিনিয়রদের ভেতরে ভুলু দা কিংবা অরুপ দা অথবা অনুজ প্রতীম স্বরুপ কাহালী এনাদের কাউকেই আজ অব্দি ধর্মীয় লেন্সের দৃষ্টিতে দেখা হয় নাই।আমার বয়সে এক মাত্র বাবরি মসজিদ ভাঙনের কালে কিছুটা ধর্মীয় উত্তেজনা লক্ষ্য করেছি কিন্তু আমাদের সমবেত উদ্যোগের প্রেক্ষিতে সেটি আর বাড়তে পারেনি।
এখন হয়তো সেভাবে সময় করা হয়ে ওঠে না, একটা সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি প্রধান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছে। আমরা অংশ নিয়েছি আনন্দের সাথে এবং প্রতিটি অনুষ্ঠান ছিলো উৎসবমুখর।
কিছুদিন আগে পূজা বিষয়ক একটি প্রস্তুতি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি মিটিং এ গিয়ে মনে হলে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প আগের চেয়ে অনেক বেশী এখন। হিন্দু নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন মন্তব্যে সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেলেও সেটি আর ব্যাখ্যা করছি না এখানে।
বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকলে তাদের ওপর ভারতীয় এক ধরনের চাপ থাকে যেটি তাদেরকে সব সময় সতর্ক রাখে ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় এবং সহায় সম্পত্তি এক ধরনের বাড়তি নিরাপত্তা পায়। ১৯৯১ এর পর থেকে আজ অব্দি পূজা মণ্ডপে হামলা, জমি দখল এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাংলাদেশ ত্যাগের পরিসংখ্যানকে পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।
পবিত্র কুরআন পাকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন যার যার ধর্ম তার কাছে। তিনি আরও বলেন- তিনি চাইলেই সকলকে একই ধর্মের অধীনে তৈরী করতে পারেন কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা বৈচিত্র্যের ভেতর মানুষ যেন তাকে স্মরণ করে।ইতিহাসের দিকে তাকাই। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের সাথে কারবালার যুদ্ধে কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বীও শহিদ হয়েছিলেন যাদেরকে বলা হয় পীরালী ব্রাহ্মণ।
সম্রাট আকবর এর পারিষদ ছিলো সিয়া, সুন্নি আর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিয়ে নিয়ে। আমি দিল্লি গিয়ে দেখেছি হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু মাজারে এবং আজমীর গিয়ে হযরত খাজা মাইনুদ্দীন চিশতী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর মাজারে গিয়ে দেখেছি সেখানে হিন্দু মুসলিম সব ধর্মের অনুসারীরাই তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
পরিশেষে সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানাই শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা এবং প্রকাশ করি উৎসবে অংশগ্রহণের অভিপ্রায়।