নগর প্রতিবেদক: বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় হত্যার উদ্দেশ্যে আইনের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইচ চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এএম নাজিমুদ্দীন।
সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে গভীর সংকট ও দুর্ভিক্ষ চলছে। এই অগণতান্ত্রিক স্বৈরচারী সরকারের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের ভোটের অধিকার ভাতের অধিকার মানবাধিকার কিছুই না থাকার কারণে আজকে মানুষ আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যাচ্ছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে তারাই লুটপাট করছে। লুটপাট আর দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থ পাচার করছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে, উন্নয়নের কথা বলে মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই। আজকে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ বিনা চিকিৎসা মারা যাচ্ছে। আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে। দুর্নীতি লুটপাটের কারণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করতে চায়। তাকে চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। অবিলম্বে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে আগামী পাঁচ তারিখ যে রোড মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন জনস্রোতের মুখে এই অবৈধ সরকার পালিয়ে যাবে।
প্রধান বক্তা বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুর রহমান শামীম বলেন, সরকার বিভিন্ন উস্কানি দিয়ে মানুষের অধিকারের আদায়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে বিচ্যূত করতে চায়। ইতিমধ্যে অনেক ষড়যন্ত্র শুরু করছে। সকলের সজাগ দৃষ্টি রেখে আগামী ৫ অক্টোবর গণতন্ত্রমুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়। ৫ তারিখে গণ আন্দোলনের মুখে সরকার পালাতে বাধ্য হবে। সর্বদিকে তাদের পরিণতি খারাপ হয়ে এছেসে। তারা এখন চালাক চাতুরি করে মানুষকে আরও একটি ধোকা দেওয়ার জন্য তালবাহানা শুরু করছে তা দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে। তাই তাদের অবস্থা এখন দেশে-বিদেশে নড়বড়ে। যেকোনো মুহূর্তে গণতন্ত্র মুক্তি অতি সন্নিকটে।
বিশেষ অতিথি আবুল হাশেম বক্কর তার বক্তব্যে বলেন, যত ষড়যন্ত্র হোক না কেন ৫ তারিখের সমাবেশ যেকোনো কিছুর বিনিময় হোক চট্টগ্রামের মানুষ সফল করবে ইনশাল্লাহ। সেদিন লাখো জনতার জনস্রোতের মুখে দুঃশাসন থেকে মুক্ত হবে। শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে এই স্বার্থপর সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
সভাপতি তার বক্তব্য বলেন, মানুষ আজকে না খেয়ে মারা যাচ্ছে। দেশের দুর্ভিক্ষ চলছে। দ্রব্যমূল্য উর্ধগতি ও দুর্নীতি দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায় এ দেশের মানুষ। এ অবৈধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশের চিকিৎসা ও ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক-স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই সরকারকে পদত্যাগ করা উচিত।
বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দলে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রমিক দলের সিনিয়র সভাপতি ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলার সভাপতি শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, উত্তর জেলার সভাপতি মোতালেব চৌধুরী, কক্সবাজার জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি মমতাজ মিয়া, বান্দরবান জেলার সভাপতি আব্দুস শুক্কুর, মোহাম্মদ আজিজ উদ্দীন মিন্টু, বিভাগীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক গাজী আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান মজুমদার, মোহাম্মদ আলী, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি আসলাম কালু চৌধুরী, ব্যাংক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ, মো. জামাল উদ্দিন, নোয়াখালী জেলার শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ হারুন, পতেঙ্গা শিল্প অঞ্চলের সভাপতি মোহাম্মদ জাফর, নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান বিপ্লব, কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন, বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, রাঙ্গামাটি জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন প্রমুখ।




