ডা. আবদুল্লা আল হারুন
গত ৩০শে মে,২০২৩ মাহবুব হাসান নামে জনৈক আইনজীবি যুক্তরাষ্ট্র হতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জনস্বার্থে অন্যত্র স্হানান্তরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচীব, পররাষ্ট্র সচীব এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে সুপ্রীম কোর্টে একটি রীট পিটিশন দাখিল করেছেন। তিনি কারণ হিসাবে রীটে উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাস্ট্র একমাত্র পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা যেকোন দেশকে নিয়ন্ত্রন করতে সামরিক শক্তি,অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে এবং এ পদ্ধতিতে তারা আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ভিয়েতনাম সহ বহু দেশ ধ্বংস এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে।সুতরাং যুক্তরাস্ট্রে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গচ্ছিত থাকা ঝুঁকিপূর্ন। যুক্তরাস্ট্র ইচ্ছা করলে এই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করতে পারে।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা শীতল ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।এরি মধ্যে গত ২৪/৫/২৩ সালে যুক্তরাস্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশে একটি নতুন ভিসানীতি ঘোষনা করেছে। এই রীট আবেদনটি ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারনে কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কি?
বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রাস্ট্রের নিজস্ব তহবিল যা অন্য একটি নির্দিষ্ট দেশের মুদ্রা, বন্ড, স্বর্ন হিসাবে সংরক্ষিত হয় এবং এটি রাস্ট্রের প্রয়োজনে নিজস্ব মুদ্রায় পরিবর্তন করা যায়। এটি দেশের সংরক্ষিত সম্পদ বলে বিবেচিত হয় ।প্রধানত এ রিজার্ভ মুদ্রা শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্য আমদানী এবং রাষ্টীয় জরুরী প্রয়োজন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে রাস্ট্রীয় দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। রিজার্ভ মুদ্রার বৈশ্বিক গ্রহনযোগ্যতা, স্হিতিশীলতা এবং মুদ্রাটির নিজস্ব দেশটির রাস্ট্রব্যবস্হা, সরকার, অর্থনৈতিক স্হিতিশীলতা বিবেচনা করে এটি নির্ধারিত হয়। সে বিবেচনায় বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয়, গ্রহনযোগ্য এবং স্হিতিশীল মুদ্রা মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সর্বশেষ রিপোর্ট মতে- বিশ্বের সবচাইতে গ্রহনযোগ্য এবং জনপ্রিয় রিজার্ভ বৈদেশিক মুদ্রা হচ্ছে মার্কিন ডলার। বিশ্বের সকল দেশের সর্ন্মিলিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমান ১১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এই মোট রিজার্ভের ৫৯.৫% অর্থাৎ ৬.৬ ট্রিলিয়ন ডলার মার্কিন মুদ্রায় এবং বাকী রিজার্ভ ইউরো, পাউন্ড, ইয়েন ও অন্যান্য মুদ্রায় মজুদ আছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিভাবে গঠিত হয়? রপ্তানী আয় , প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স এবং অন্যন্য রাষ্টীয় আয়- যা মার্কিন ডলারে উপার্জিত বা আয় হয়।যে মুদ্রায় আয় হবে সে মুদ্রাই রিজার্ভ হিসাবে রাখা যায়। বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানী আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানী ব্যয় ৬০ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং অবশিষ্ট ২০বিলিয়ন ডলার প্রবাসীদের রেমিটেন্স , অন্যান্য আয় বা রিজার্ভ তহবিল হতে পরিশোধ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সরানো কেন সম্ভব নয়?
তার আগে আমরা প্রথম দশটি দেশকে দেখি যাদের কাছ থেকে প্রতি বছর কি পরিমান আমদানী করি!
১। চীন- – ১২.৯ বিলিয়ন ডলার
২। ভারত- – ৮.৬ বিলিয়ন ডলার
৩।সিংগাপুর – – ২.৫ বিলিয়ন ডলার
৪।যুক্তরাস্ট্র। – ২.২৬ বিলিয়ন ডলার
৫।জাপান- – ২.০০ বিলিয়ন ডলার
৬।ইন্দোনেশিয়া- – ১.৮ বিলিয়ন ডলার
৭। ব্রাজিল – – ১.৭ বিলিয়ন ডলার
৮।মালয়েশিয়া – – ১.৬ বিলিয়ন ডলার
৯।ইউ এ ই- – ১.৩ বিলিয়ন ডলার
১০।দক্ষিন কোরিয়া- ১.১ বিলিয়ন ডলার
এখন ধরে নেই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চীনের কাছে গচ্ছিত রাখবো।চীন থেকে আমাদের আমদানী ১২.৯ বিলিয়ন ডলার যা চীনা মুদ্রায় প্রায় ৯২ বিলিয়ন রেনমিনবিl আমাদের তো চীনের মুদ্রায় কোন উপার্জন নেই।চীনের আমদানীর বিপরীতে এ বিশাল পরিমান অর্থ পরিশোধ অসম্ভব।মার্কিন ডলার ভাংগিয়ে চীনা মুদ্রায় পরিশোধ করা গেলেও ভারত, সিংগাপুর, যুক্তরাস্ট, ব্রাজিল বা অন্যান্য দেশ চীনা মুদ্রা গ্রহন করবে না।কেননা চীন সহ সকল দেশ তাদের নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্হিতিশীল,শক্তিশালী এবং সকলের কাছে সমাদৃত ও গ্রহনযোগ্য মুদ্রা বিবেচনায় মার্কিন ডলারকেই গ্রহন করেছে।
এক নজরে আমাদের আমদানী বানিজ্যের অংশীদার দেশগুলির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমান
ভারত- ৫৯৫.৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
চীন- ৩২০৪.৭৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
জাপান- ১২৬৫.৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
দুবাই- ১৩৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
সিংগাপুর- ২৯৮.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
ইন্দোনেশিয়া- ৮৪.৬৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
মালয়েশিয়া -১০৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
যুক্তরাস্ট্র- ৩৭.৬২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
চীনের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিশ্বের মোট মার্কিন ডলার রিজার্ভের (৬.৬ ট্রিলিয়ন) প্রায় ৫০% ।
এবার বিশ্বজুড়ে ডলারের শক্তি, আধিপত্য এবং গ্রহনযোগ্যতা কেমন তা দেখা যাক-
সারা বিশ্বের ৮০% অর্থনৈতিক কর্মকান্ড মার্কিন ডলারের মাধ্যেমে হয়ে থাকে। ভৌগোলিক অন্চলভেদে মার্কিন ডলারের আধিপত্য নিম্নরূপ-
আমেরিকা- – ৯৫%
এশিয়া প্যাসিফিক- – ৮০%
ইউরোপ। – ২০% ( এখানে ইউরো প্রভাবশালী মুদ্রা)
পৃথিবীর অন্যান্য দেশ- ৮০%
এমন অবস্থাকে অস্বীকার করার সুযোগ কতটুকু তা বিবেচ্য। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই পারি। কিন্তু সারা বিশ্ব আমার সিদ্ধান্ত মানছে কিনা? রাশিয়ার মতো তার নিজস্ব তেল , গ্যাসের মূল্য রাশিয়ান মুদ্রায় পরিশোধের শর্ত আরোপের মতো শক্তি সামর্থ্য এবং তেমন কোন পন্য আমাদের আছে কি? আমাদের রপ্তানীযোগ্য কোন পন্যই মৌলিক বা নিজস্ব নয়- সকল পন্যেরই বিকল্প উৎস আছে।সুতরাং আমাদের মুদ্রায় মূল্য পরিশোধের শর্তে ক্রেতা দেশগুলো বাধ্য হবে কেন? দেশ প্রেম বা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা আমাদের সবার থাকবে।কিন্তু এটি দু:খজনক হলেও সত্য যে এ ক্ষেত্রে আমরা অসহায়। এখনও বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রন যুক্তরাস্ট্রের হাতে এবং তারাই শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি।
সুতরাং যুক্তরাস্ট্র থেকে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সরিয়ে আনার সুযোগ এ অবস্হায় নেই বললেই চলে। তবে ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এনে একটি মাত্র মুদ্রা মার্কিন ডলারে সকল রিজার্ভ না রেখে কয়েকটি মুদ্রা যেমন ইউরো, পাউন্ড, ইয়েন, অস্ট্রেলিয়ান ডলারে রিজার্ভের একটি অংশ সংরক্ষন করা যায়।
দেশে সত্যিকার গনতন্ত্র বা সুষ্ঠু রাজনীতির আবহ জনগনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস। এ বিশ্বাস বাস্তবায়নে জনগনকেই এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সময়ে অপরাজনীতি, পেশীশক্তির প্রদর্শন, ক্যাডার সংস্কৃতি, টাকা দিয়ে ভোট কেনা, কেন্দ্র দখল, সরকার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্হাগুলোর পক্ষপাতিত্ব ও আরো নানাবিধ কারনে নির্বাচন একটি প্রহসন বা লোকদেখানো বিষয়ে পরিনত হয়েছে। ১০-১৫ % এর অধিক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যায় না বা যাওয়ার উৎসাহ বোধ করে না। এর ফলে গনতন্ত্রের অন্যতম একটি স্তম্ভ- ‘নির্বাচন’ নামক প্রতিষ্ঠানটি জনগনের সম্পৃক্ততাহীন একটি ব্যর্থ ও অকার্য্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে যা একটি দেশের জন্য ভয়ংকর পরিনতি ডেকে আনবে।
জনগনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত পরিবেশে পূর্ন গনতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় তাদের পছন্দের সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচিত করার মতো পরিবেশ, আস্হা নিশ্চিত করতে হবে।এজন্য প্রয়োজনবোধে দলীয় সংবিধান, রাষ্ট্রীয় সংবিধানের সংশোংধন, সংস্কার করতে হবে। কারন সংবিধান জনগনের কল্যানের জন্য- রাস্ট্রের সংহতির জন্য। এতেই ১০০% জনগন বা ভোটার নির্বাচনে আগ্রহ ফিরে পাবে এবং দেশে জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধিত্বের গনতন্ত্র ফিরে আসবে- যা এখন প্রায়ই অনুপস্থিত।
দলীয় সংসদ-সদস্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি সংসদীয় এলাকায় একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকতে পারেন।এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বা প্রভাবমুক্ত এবং স্বজনপ্রীতি, পরিবারতন্ত্র মুক্ত- সর্বোপরি টাকার মানদন্ডে নিরূপনমুক্ত।
প্রত্যেক প্রার্থী ৫/৭ সদস্য দলের স্হানীয় মনোনয়ন কমিটির কাছে আবেদন করবেন। কেন্দ্র বা জাতীয় কমিটির এখানে কোন হস্তক্ষেপ থাকবে না। আবেদন পত্রের সাথে নিম্নোল্লিখিত বিষয় বা সনদ বা বক্তব্য সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদনের সময় নারিগত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়কর রিটার্ন, পুলিশের ছাড়পত্র, সিআইবি রিপোর্ট, সম্পত্তির বিবরন, ব্যাংক হিসাবের বিবরন, নির্বাচনী বাজেট, আয়ের উৎস, যোগ্যতা, অন্যান্য সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টতা, ভবিষ্যত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রযোজ্য সকল তথ্য ও বিষয় সন্নিবেশিত করে একটি প্রোফাইল আবেদন পত্রের সাথে সংযুক্ত করা হবে । যেকোন তথ্য অসত্য প্রমানিত হলে প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হবে।
অতপর দলের মনোনয়ন কমিটি একটি সাধারন সভা ডাকবে- যেখানে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি, পেশাজীবি, নিজ দল ও অন্যান্য দলের সদস্য, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, মসজিদের ঈমাম, পুরোহিত, কলেজের অধ্যাপক, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সকলেই উপস্হিত থাকতে পারবেন। প্রত্যেক প্রার্থী সর্বসমক্ষে ১০/১৫ মিনিট তার পরিচিতি, ভবিষ্যত প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনা, কেন তাকে নির্বাচিত করবেন তা বর্ননা করবেন। মনোনয়ন কমিটি তাকে মার্কিং করবেন।
সবার বক্তব্য শেষে কমিটির সভাপতি – প্রার্থীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি নিষ্ঠা, সেবাকর্ম, সমাজে অবদান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ,উপস্হাপনা – বিচক্ষনতা সবকিছু বিবেচনা করে সর্বোচ্চ মার্ক প্রাপ্ত প্রার্থীর মনোনয়ন সর্বসমক্ষে ঘোষনা করবেন। এবং উক্ত প্রার্থী ঐ সংসদীয় এলাকায় দলীয় মনোনীত চুড়ান্ত প্রার্থী বলে বিবেচিত হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থী হলে সে আজীবনের জন্য দল হতে বহিষ্কৃত হবে।
অত:পর মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্য পদের জন্য আবেদন করবেন। প্রতিটি দল এই প্রক্রিয়া অনুসরন করে প্রার্থী মনোনয়ন দিবে।
এতেই কালোটাকা, মনোনয়ন বানিজ্য,পেশী শক্তি, রাতের আঁধারে প্রাথীতা কেনা বেচা, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে টাকার লেনদেন বন্ধ হবে এবং দলের ভিতরে অসন্তোষ, গ্রুপিং, দলাদলি, বিদ্রোহ এমনকি দলত্যাগ বন্ধ হবে। সত্যিকার ত্যাগী- সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীরা উৎসাহিত হবে এবং জবাবদিহিতা সৃষ্টি হবে। নিবেদিত প্রান দেশপ্রেমীরা নির্বাচনে আগ্রহী হবে, সাধারন মানুষের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরী হবে-যা সমাজ ও রাস্ট্রের জন্য সুফল আনবে।
স্হানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মী, সমর্থক বা সাধারন জনগনের মধ্যে সহনশীলতা, সমমর্মিতা, সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে। হানাহানি, বিদ্বেষ বা একের প্রতি অন্যের নেগেটিভ মানসিকতায় পরিবর্তন আসবে। সমাজে একটি সুন্দর পরিবেশ ফিরে আসবে। হিংসা, ঘৃনা আর সংঘাতের রাজনীতি ধীরে ধীরে কমে আসবে। যোগ্যতাজনরা নির্বাচিত হওয়ার প্রথা চালু হলে অযোগ্য, স্বার্থান্বেষী দূর্বৃত্তরা নির্বাচনে আসার কথা কল্পনাও করতে পারবে না।জানি এ চর্চা, সংস্কৃতি বা পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে ।একটি রাস্ট্রে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্হা বা পদ্ধতি আনতে যদি ১০/১৫/২০/২৫ বছর লাগে – লাগুক। দেশ তো স্বাধীন হয়েছে ৫২ বছর। ইতিহাসের নিরিখে আরো ৫২ বছরও একটি জাতির উৎকর্ষতার জন্য কিছুই নয়। (চলবে)
লেখকঃ ডা. আবদুল্লা আল হারুন



