আবদুল্লা আল হারুন : রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান সুসংহত,সমন্বিত এবং গনমুখী লক্ষ্য ও নীতির মাধ্যমে সঠিক ষ্ট্রেটেজি নিয়ে ৫/১০ সালা পরিকল্পনা করা জরুরী।পিছনে তাকাবো ভুল থেকে শিক্ষা নিতে, ইতিহাস পড়বো-অতীত জানতে, একটি সফল ও কার্যকর পরিকল্পনা ও নীতি গ্রহন করার সহযোগী হিসেবে।
ভাসানী- মুজিব – তাজউদ্দীন – জিয়া-এরশাদ- খালেদা- হাসিনা-সকলেই সময় পরিস্হিতি এবং প্রয়োজনে দেশের মানুষের সৃষ্ট কিছু সাধারণে অসাধারণ বক্তিত্ব।এদের বুঝা-জানা- পড়া চলবে এবং চর্চাও চলবে।
কিন্তু এরাও কখনো নায়ক, কখনো অতিনায়ক, কখনো ভিলেন, কখনো পার্শ্ব নায়ক। কখনো নন্দিত- কখনো নিন্দিত। কেননা ক্ষমতাসীন বা বিজয়ীরাই সর্বদা ইতিহাসের গতি ঠিক করে। তাই ইতিহাস সময় ও পরিস্হিতি পরিবর্তনের সাথে বদলায়। নিখাদ দেশপ্রেমী কখনো দেশদ্রোহী হয়। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বিদেশী চর হয়। হতেই পারে । কেননা যে কোন মন্তব্য, বিচার বা রায় -বিশ্লেষনের তীক্ষ্ন দূরদৃষ্টি ছাড়াও ব্যক্তির ভাব ও প্রভাবিত মতাদর্শের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
কিন্তু কেউ তো দেশের উর্ধে নয়। সবার উপরে দেশ। এই দেশেই একদিন ২০/২৫/৩০ কোটি মানুষ হবে। নতুন প্রজন্মের নতুন নায়ক , মহানায়ক আসবে, নতুন নেতৃত্ব আসবে- সময়ের নিয়মে।একে অন্যের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে শিকারের পুরানো খেলা বাদ দিয়ে তাই দেশের কল্যাণে, আগামীর কল্যাণে ভাবতে হবে । গত ২/৩ দশক ধরে সামগ্রিকভাবে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের যে মানসিক, নৈতিক, মনস্তাত্বিক স্খলন হয়েছে তা ভয়াবহ।
সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত -শর্টকাট পথে দ্রুত অর্থ উপার্জনের দৌড়ে ৯৯ শতাংশ মানুষ সামিল হয়েছে। কপালে দাগ নিয়ে তসবীধারী নামাজী, পরিশুদ্ধ জাত ব্রাম্মন, কঠিন চীবর নেয়া পুরাহিত, গলায় ঝুলানো ক্রুশে ঈশ্বরের স্তুতি জপকরা যীশুর শিশু- প্রায় সকলেই এখানে অভিযাত্রী।
পেশা, ধর্ম,জাত ,শিক্ষা, অভিজাত,উঁচু নীচু সকলেই একাট্টা এই শর্টকাট ও দ্রুত অর্থ আহরণের প্রাণান্ত প্রতিযোগীতায়।এখানেই জনে জনে সম্প্রীতি আর একাত্মতা- গাহে সাম্যের গান। নৈতিক, মনস্তাত্বিক এবং মানবিক এই ক্যানসারের চিকিৎসা অতি জরুরী।
রাস্ট্রবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, ভোক্তা মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষক, সমাজ বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, সাইকিয়াট্রিস্ট, সমাজ বিশ্লেষক, হিউম্যান সাইকোলজিস্ট, বিহেবিয়ার এনালিস্টদের সমন্বিত গবেষনা, পরামর্শ এবং ব্যবস্হাপত্রে এ ক্যানসার নির্মূল করতে হবে। কেননা এই সীমাহীন খাই খাই, চাই চাই- দৌঁড়ে মানুষ যে কোন কিছু করতে দ্বিধা করছে না।
অত্যাচার , নির্যাতন, ফাঁদ সৃষ্টি, মানসিক চাপ, খুন, সম্ভ্রম লুট- যা ইচ্ছা- যেমন ইচ্ছা- যেভাবে ইচ্ছা করেই চলেছে। অর্থ চাই-অর্থ। টাকা আরো টাকা। বাবার লাশ, মায়ের সম্ভ্রম, বোনের শ্লীলতা, স্ত্রীর সতীত্ব- সন্তানের আকুতি- আহাজারি কিছুই তাকে থামাতে পারছে না এই সর্বনাশা অর্থলোভ থেকে। সম্রাট, শাকিলা, শামীমরা, এই মানসিক বিকারের সৃষ্টি।এই অচলায়তন ভাংতে প্রথম এবং প্রধান শক্তি হবে শক্তিশালী আইন ব্যবস্হা। এবং আইনের সঠিক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।
দশ জন দূর্নীতিগ্রস্হ কামলাকে মাসিক তিরিশ হাজার বেতনে না পুষে তিনজন সৎ, যোগ্য, দায়িত্ববানকে মাসিক একলক্ষ টাকায় নিয়োগ দিলে পরিবর্তনটা কি হবে একবার কল্পনা করুন। কিছু প্রাইভেট সংস্হা সৎ শিক্ষিত যুবকদের নিরাপত্তা কর্মী হিসাবে প্রশিক্ষিত করে বিভিন্ন সংস্হা, সভা সমিতিতে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় ওদের সরবরাহ করবে যখন যেখানে প্রয়োজন হবে। দৈনিক বা প্রতি ঘন্টা পারিশ্রমিক ভিত্তিক।আইনী প্রক্রিয়ায় ওই প্রাইভেট নিরাপত্তা কর্মীদের স্বাক্ষ্য, বয়ান বা রিপোর্ট আদালত বা স্হানীয় কোর্টে গ্রহনযোগ্য করার ব্যবস্হা করতে হবে।
এখন একটি উপজেলায় থানা ফাঁড়ি মিলে ৭০/৮০ জন জনবল -একসময় ৭-৯ জন ছিল। যত বেশী জনবল তত বেশী দূর্নীতি। জনবল বাড়ছে কিন্তু ক্রাইম কমছে না। অনেক সময় এরা নিজেরাই ক্রাইমে জড়িয়ে পড়ছে। আইন প্রয়োগকারী কর্মীদের দূর্নীতি বা অন্যান্য আইন বহির্ভূত কার্যের জন্য স্বতন্ত্র এবং শক্তিশালী বিচার বিভাগ থাকবে – যারা দ্রুত তদন্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত করবে।
সাধারন নাগরিকের শাস্তি আর আইন প্রয়োগকারী কর্মীদের শাস্তি অবশ্যই সমান বা এক হবে না।কারণ সে প্রজাতন্ত্রের শপথ নেয়া একজন আইনরক্ষী। তার শাস্তি অবশ্যই তীব্রতর হতে হবে- যেন অন্যদের জন্য তা শিক্ষনীয় হয়।
বিচার ব্যবস্হা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্হা -এ দুটির ভীত শক্ত করে পরবর্তীতে আসবে অন্যান্য সংস্কার। মোটা দাগে সর্বাধিক দূর্নীতি গ্রস্থ অথচ জরুরী সেক্টরগুলি-
১। শিক্ষা ব্যবস্হা, সিলেবাস, ভর্তি বানিজ্য, পরীক্ষা নীতি রিফর্ম
২। ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী গং দেয় ১৯৮২ সালের ঔষধ নীতির পূর্ন বাস্তবায়ন
৪। গনমুখী ও নাগরিকবান্ধব স্বাস্হ্যনীতি প্রনয়ন
৫। আমদানী ও কাস্টমস বিভাগ
৬। ব্যাংকিং সিস্টেম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়বদ্ধতা
৭। আয়কর সিস্টেম- আয়করের স্তর পূনর্বিন্যাস
৮। ভূমি ব্যবস্হাপনা সিস্টেম
৯। স্হানীয় সরকার – সিটি কর্পোরেশন
১০। বিদ্যূৎ ও জ্বালানী বিভাগ
১১। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষন
১২। বিভিন্ন কর্পোরেশনগুলোর সংস্কার ও পূনর্বিন্যাস
উপরের সব সেক্টরের স্বতন্ত্র Review, Analysis, Recommendation এবং Proposition আসতে পারে- আসবে। একই সাথে সরকারের অন্যান্য সংস্হা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যস্হাপনাকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বছর শেষে প্রতিটি সংস্হা বা প্রতিষ্ঠানের সকল আর্থিক কর্মকান্ড বিশ্বখ্যাত Deloitte( USA) PricewaterhouseCoopers (UK), Ernst & Young (UK), KPMG( Natherlands ) বা Grant Thornton( UK) বা এদের সমতুল্য প্রতিষ্ঠান দিয়ে অডিট করার ব্যবস্হা করতে হবে।
এতে সকল রাস্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু নিরীক্ষা – জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতাকে সুদৃঢ় করবে। এতে দূনীতি, জালিয়াতি, অর্থ তসরূপ, দায়িত্বে অবহেলা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ হবে এবং সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এমন অডিট প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিলিয়ন ডলারে কেনা যায় না।বাংলাদেশে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার কালচার যেটি সমাজকে দূর্নীতিগ্রস্হ বানাতে অনেকাংশে দায়ী।
এখানে ডিগ্রী,পদবী, বিচারের রায়, তদন্ত রিপোর্ট, পরীক্ষার প্রশ্ন, জমির নকল দলিল, জন্ম সনদ,রাষ্ট্রীয় তকমা, প্রাতিষ্ঠানিক তকমা, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, আয়কর সনদ, কোভিড টীকা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, নকল স্বামী, নকল স্ত্রী এমনকি নকল বাবা মা-ও কেনা যায়-ম্যানেজ করে টাকা দিয়ে। রুচির অকাল তো এভাবেই শুরু হয়।
অন্ধকারে নি:সংগ চলতে গেলে মানুষ উচ্চস্বরে গান করে কিংবা কলেমা বা দরূদ পড়ে- এর দুটি উদ্দেশ্য। এক- কোন অশুভ অশরীরি আত্না বা জ্বীনকে দূরে রাখার প্রচেষ্ঠা । দুই- ভীতসন্ত্রস্হ নিজকে সাহস দেয়া এবং ভয় না পাওয়ার ভান করা।
বাংলাদেশের জন্য আমেরিকার নতুন ভিসানীতির প্রভাব কি এবং এর বিস্তৃতি কোন স্তর পর্যন্ত তা আমরা হয়তো বুঝতে পারছি না বা না বুঝার ভান করছি। সরকারের দায়িত্বশীল কিছু কর্তার দায়িত্বহীন বাগম্বর সত্যিই দু:খজনক। এমন একটি সিদ্ধান্ত একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম রাস্ট্রের সরকার এবং প্রজাতন্ত্রের জনগনের জন্য বিব্রতকর,অসন্মানকর ও অপমানজনক। অবশ্য এসব প্রতিক্রিয়া গ্রহন বা বর্জন মন,মনন ও মানসিকতার বিষয়।
সারা পৃথিবীর মানুষকে জানান দেয়া হলো – দেশে সুষ্ঠু গনতন্ত্র অনুপস্হিত, একটি সুষ্ঠু ,স্বচ্ছ এবং গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সুফল কে নিবে বা কে পাবে তা বিবেচ্য নয়।বিবেচ্য হলো অন্য একটি দেশ আমাদের স্বার্বভৌম দেশকে গ্রহনযোগ্য নিবার্চনের পথ বাতলে দিচ্ছে।
প্রশ্ন হলো ভিসা নিয়ন্ত্রনের সাথে সুষ্ঠু নির্বাচন কি ভাবে সম্পর্কিত ? কেবল নতুন ভিসা নয়। উল্লেখিত শর্তানুযায়ী বৈধ ভিসাধারীরাও এই আওতায় পড়বে- তাছাড়া সংশ্লিষ্টদের পরিবারের সদস্যগন এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ না করে বিশাল একটি জনসমষ্টিকে এর আওতায় আনা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মী, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সংস্হা, আমলা, বিচার বিভাগ- বর্তমান ও সাবেক ব্যক্তিবর্গ যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনে বাঁধা, সহযোগীতা কিংবা প্রভাব খাটাবে বা অতীতে খাটিয়েছে – সবাই নীতির আওতায় আসবে।
তাহলে পুলিশ অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, উপজেলার কর্মকত , জেলা কর্মকর্তা , নির্বাচন দপ্তর,ম্যাজিস্ট্রেট, জজ, পাতি নেতা,উপনেতা, মহানেতা, তাদের পরিবারের সদস্য এর আওতায় আসছে। শুধু সরকারী দল নয়- বেসরকারী কোন দল, গোষ্ঠী বা স্হানীয় মাস্তান সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্হ করলে তারাও এই নীতিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
আরো ভাবার বিষয় হলো যুক্তরাস্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞার ঢেউ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো পর্যন্ত গিয়ে পড়বে। যেকোন দল যেকোন ফর্মুলায় যেনতেন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ভাগাভাগির পলিটিক্সে জড়িত থেকে অতীতে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যহত করার চক্রান্ত করে থাকলে তারাও এ নীতির আওতায় আসতে পারে। এমনকি বহুল আলোচিত ২০১৪ বা ২০১৮ নিবার্চনের বিষয়টিও আমলে আসতে পারে।সোশাল মিডিয়ায় শোনা যাচ্ছে কিছু কিছু ভিসাধারীরা ইতিমধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে তাদের বৈধ ভিসার স্হগিতকরনের বার্তাও পেয়েছে।
যুক্তরাস্ট্রে অধ্যয়নরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্তানেরাও এই নীতিমালার আওতায় আসলে ছাত্রদের শিক্ষাজীবন ব্যহত হতে পারে। তাছাড়া যাদের যুক্তরাস্ট্র বা কানাডায় স্বনামে বা বেনামে ইনভেষ্টার, এন্ট্রোপ্রেনার বা পারিবারিক ব্যবস্হায় বিনিয়োগ, বাড়ী, ব্যবসা, অর্থ মজুদ আছে তাঁরাও ঝুঁকিতে থাকবেন।তাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একটি বিশাল জনগোষ্টি এই ভিসা নিয়ন্ত্রন নীতির আওতায় আসবে এবং একটি অস্বস্তিকর মানসিক চাপে আছেন বা থাকবেন। তারা আগামী সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোন প্রকার নির্দেশ প্রদান, হস্তক্ষেপ, প্রভাব, বা উপরের নির্দেশে ভোটের রায় পরিবর্তন, ভোট প্রদানে বাধা -এসবের পরিনতি কি হবে তা বুঝে দুবার চিন্তা করবেন এসব করতে।
দেশের আঠার কোটি মানুষ এখন এক একজন সাংবাদিক। সবার হাতে ক্যামেরা। সোশাল মিডিয়া উন্মুক্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তা, পুলিশ,নির্বাচনী কর্তা, নেতা, কর্মীর বিরুদ্ধে যে কোন অভিযোগ প্রমানসহ উপস্হাপন কোন ব্যাপার নয়। বিরোধীপক্ষ, ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষ, সুশীলজন, শান্তিপ্রিয় দেশপ্রেমী, রাজনীতি বিমুখ নিরপেক্ষ নাগরিকের বিশাল জনগোষ্ঠি এবং অরাজনৈতিক দেশী বিদেশী সাংবাদিক তো রয়েছেই।
আশা করি সরকার, বিরোধীদল ও সংশ্লিষ্ট কর্তাগন প্রিয় স্বদেশের ও জনগনের ভাবমূর্তি এবং গনতন্ত্রের সৌন্দর্য সমুন্নত করে একটি স্বচ্ছ, গ্রহনযোগ্য এবং দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন উপহার দিয়ে সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিবেন – “আমরাও পারি।”


