লাইফস্টাইল ডেস্ক: সাদা-কালো রং দিয়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই ২০০২ সাল থেকে পথ চলতে শুরু করে দেশীয় ব্র্যান্ড সাদাকালো। সবসময় আলাদা গুরুত্ব পায় ফ্যাশন হাউসটি। প্রধান নির্বাহী আজহারুল হক আজাদ জানান, “এবারের নকশায় বর্ণমালা ছাড়াও ‘বাংলা আমার চিরন্তন’ কথাটিকে শহীদ মিনারের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন একটি মোটিফ সাজিয়েছি। এবারের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবিগুলোর নকশাতেও এর ছাপ মিলবে। এবারের বিপিএল খেলায় ভাষ্যকার এবং খেলোয়াড়দের জন্য ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজক কমিটির অর্ডারের পরিপ্রেক্ষিতে পাঞ্জাবি, শাড়ি এবং হস্তবন্ধনী তৈরি করে দিয়েছি আমরাই।”
বর্ণমালা ও পাখি নিয়ে রঙ বাংলাদেশ
বর্ণমালা ও পাখির নকশায় সুতি, হাফসিল্ক, লিলেন, কটন ক্রেপ, সেমি পিওর কাপড়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট, টাই-ডাই ও এমব্রয়ডারির কাজের দ্বারা পোশাকের জমিনে অলংকরণ করা হয়েছে। রঙ বাংলাদশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস জানান, ‘শোকের কালো ছায়া এখন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা সাদাকালোর সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে কালোর বিভিন্ন ধরন এবং লাল সূর্যের নানান শেড ব্যবহার করেছি। বর্তমানে একুশে ফেব্রুয়ারি আর শুধু আমাদের মাতৃভাষা দিবস নয়, বরং বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিত একটি দিন। তাই আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপনের জন্য মূল রং সাদাকালোকে মাথায় রাখার পাশাপাশি অন্য রংও ব্যবহার করেছি।’
মাতৃভাষা দিবসে অঞ্জন’স
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে মাথায় রেখে অঞ্জন’সও ব্যতিক্রমী কিছু করেছে। এবারের আয়োজন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ জানান, ‘সাদাকালো রংকে ভাষাশহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা হিসেবে ব্যবহার করেছি। আর অনুষঙ্গ হিসেবে লাল রঙের ব্যবহার যেন দিবসটির ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে।’
কে-ক্র্যাফটের একুশে ফেব্রুয়ারি
শোক, গভীর শ্রদ্ধা এবং গৌরবগাথা বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কে-ক্র্যাফটের এবারের একুশের সংগ্রহশালায়। তাঁত, কটন, লিনেন এবং হাফ সিল্কের তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফোটাতে বিভিন্ন হাতের কাজ, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট এবং টাই-ডাইয়ের কাজ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী খালিদ মাহমুদ খান জানান, ‘এবারের মোটিফে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছি মাতৃভাষার ইতিহাস, লাইন মোটিফ, ট্রাইবাল, টার্কিশ, টেক্সচার, বর্ণ ও শব্দমালার বিন্যাস। এ ছাড়া ট্র্যাডিশনাল এবং জ্যামিতিক নকশায় সৃজনশীল অলংকরণে তৈরি করেছি এবারের সব পোশাক।’
এ ছাড়া দেশীয় সব ফ্যাশন হাউস এবারের ২১ ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে তৈরি করেছে নান্দনিক সব ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, সিঙ্গেল ওড়না, ব্লাউজ, আনইস্টিচ ড্রেস, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, উত্তরীয়, কুর্তি, লং কুর্তি। আর ছোটদের জন্য রয়েছে কামিজ, ফ্রক, স্কাট টপস সেট।
‘সারা’র পোশাকে একুশ
পোশাকের মধ্যে বাংলা ভাষার এ গৌরবগাথা তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সারা লাইফস্টাইলে থাকছে পোশাকের রকমারি আয়োজন। এ বছর সারা লাইফস্টাইলের মাতৃভাষা দিবসের আয়োজনে নারীদের সংগ্রহে থাকছে থ্রি-পিস, কুর্তি, টপস। পুরুষদের সংগ্রহে রয়েছে পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, টি-শার্ট। মেয়েশিশুদের সংগ্রহে থাকছে ফ্রক, টপস, কুর্তি। ছেলেশিশুদের সংগ্রহে থাকছে টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট সেট। মাতৃভাষা দিবস সংগ্রহের এসব পোশাকে হৃদয়ের গভীর থেকে পোশাকের ক্যানভাসে উঠে এসেছে একুশ। সারা লাইফস্টাইলের মাতৃভাষা দিবসের সংগ্রহে ফুটে উঠেছে একুশের বাহারি নকশা। মাত্র ৫০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে মাতৃভাষা দিবস কালেকশনের এসব পোশাক কিনতে পারবেন।
আর্টের ভাষা দিবস
আর্টের ভাষা দিবসের পোশাকগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য মার্জিত কালার কম্বিনেশন। পোশাকের কাপড়ের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ কটন কাপড়। তারুণ্যের চাহিদা বিবেচনায় শতভাগ সুতি কাপড়ে এবং হালকা কালারের ভেতর পোশাকের ডিজাইনে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। আর্টের নিত্যনতুন ডিজাইন ও কালেকশনে রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, পলো শার্ট, জিন্স প্যান্ট, গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, পাঞ্জাবি। এ ছাড়াও রয়েছে মেয়েদের আধুনিক ও রুচিসম্মত পোশাক।



