ক্রাইম প্রতিবেদক: আমরা বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিনা। যেখানেই হামলা হচ্ছে বিএনপির নেতা কর্মীরা প্রতিরোধ করছে। আগামীদিনের আন্দোলনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারী আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশের সকল জেলা, উপজেলা গুলোতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার (১১জানুয়ারী) দুপুরে নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত গণঅবস্থান কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ এবং বিএনপির ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত এই কর্মসূচীর আয়োজন করেন।
তিনি বলেন, আমাদের ১০ দফা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই অবস্থান কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। এ কর্মসুচির মাধ্যমে আরেকটি ধাপ আমরা এগিয়ে গিয়েছি। পলো প্রাউন্ডের জনসভার পর আজকে এবং ২৪ তারিখের গণমিছিলে চট্টগ্রামবাসী আবারো প্রমান করেছেন দখলদার, অবৈধ, অনির্বাচিত, ফ্যাসিস্ট সরকারকে জনগণ আর চায় না। আজকে আবারো বার্তা দিয়েছেন দখলদার ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় হও।পরিষ্কার বার্তা।
আমীর খসরু বলেন, শেখ হাসিনা আপনি দেয়ালের লিখন পড়তে শিখুন। আপনাকে বিদায় হতে হবে। আর যদি দেয়ালের লিখন পরতে না পারেন আপনাদের জন্য মোটেও মঙ্গল হবে না। বাংলাদেশের জনগণ জয়ী হবে। তার ফলশ্রুতিতে আপনাদের আগামি দিনের রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়বে। সুতরাং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আপনারা টিকতে পারবে না । আর কিছু চাটুকারের দল নিয়ে জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যদি মনে করেন আবারো আরেকটি অবৈধ ভোট চুরির কাজ কারবার করবেন সে কাজ করতে দেবেনা বাংলাদেশের মানুষ। ভোট চোরদের এরমধ্যে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশের মানুষ। শেখ হাসিনার মত ভোট চোরদের যে প্রকল্প, যে প্রক্রিয়া, সে প্রক্রিয়ার সাথে কারা যোগ দিতে চাচ্ছে, কোন নেতা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ নিবিড়ভাবে সব পর্যবেক্ষন করছে। প্রত্যেকের কর্মকান্ড দেখছে। তারা রাজনীতিতে পরাজিত হয়ে গেছে। তারা পুলিশের একটি অংশ, সরকারী কর্মকর্তাদের একটি অংশকে ব্যবহার করছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় দলনেতা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান।
তিনি বলেন, আজকে গুম, খুন, হত্যা, মিথ্যা মামলা, গায়েবী মামলার মাধ্যমে বিএনপির এ আন্দোলনকে বাঁধাগ্রস্থ করার কোনো সুযোগ নাই। এ আন্দোলনের মালিকানা বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে ফেলেছে। আন্দোলনের মালিকানা যখন জনগণ নিয়ে নেই তখন সে আন্দোলনের প্রতিরোধ কেউ করতে পারবেনা। সুতরাং নেতা যেই থাকুক বিএনপির তার পিছনে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে। আর বাংলাদেশের মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নেই ফ্যাসিস্ট,স্বৈরাচার সরকার সে যেই হোক তার থাকার কোনো সুযোগ নাই।
চট্টগ্রাম থেকে যে বার্তা আমরা দেয় সে বার্তা সারা বাংলাদেশে চলে যায় এবং মানুষ উজ্জীবিত হয়। সে বার্তা ফ্যাসিস্টদের পতনের বার্তা। পলোগ্রাউন্ডের পরে বাকি যে ৯ টি সমাবেশ হয়েছে তাতে বিপুল জনসংখ্যার মাধমে আমরা করতে পেরেছি। এবং সমস্ত বাংলাদেশে সেসব জনসভা উজ্জীবিত করেছে। সরকার আজ ভয়ে নিজেরা এত বেশী ভীত হয়ে গিয়েছে তারা আমাদের ভয় দেখাতে চাচ্ছে। মানুষ যখন ভীত হয়ে আরেকজনকে ভয় দেখাতে চাই তার অবস্থা টা আপনি বুঝতে পারছেন। এত ভীত তারা আজকে। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা সে ভয়কে আজ জয় করে ফেলেছে।নেতা কর্মীরা প্রমান করেছে সেই শোভাযাত্রা, মিছিলে যত বাধায় আসুক আমাদের নেতা কর্মীরা পিছপা হয়না। জীবন দিয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের ১৩ জন সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছে। পিছপা হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে ঘরবন্দী। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ অনেক নেতৃবৃন্দকে জেলে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে কি ভাটা পড়েছে?
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মীর মো, নাছির উদ্দিন, আবুল খায়ের ভূঁইয়া জয়নাল আবেদিন ফারুক, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল, মাহবুবের রহমান শামীম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, উপজাতি সম্পাদক ম্যা মা চিং, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, সহ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, সহ গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়া, ব্যারিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কাজী মুফিজ, মশিউর রহমান বিপ্লব, সাচিং প্রু জেরী, মামুনুর রশীদ মামুন, ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দিপেন তালুকদার, নোয়াখালী জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুর রহমান, উত্তর জেলা বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, বান্দরবন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড, শামীম আরা স্বপ্না, মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক এম এ আজিজ প্রমুুখ।




