নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল, আজকে বর্তমান সরকারও একই কায়দায় মানুষের উপর নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে। তারা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মানকে ক্ষুন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে খুব পরিষ্কার করে বলেছে, এরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে গণতন্ত্রহীন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা অপশক্তি তাদের সে প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই অগণতান্ত্রিক শক্তি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করেছে। গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা বিভেদ, অনৈক্য এবং সংকীর্ণতার দ্বারা জাতীয় অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’
তিনি অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাস সহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান। বাংলাদেশের মহান মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের প্রেরণা জুগিয়েছিলেন তারা। নিজেদের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিলেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে।’
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এনামুল হক বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন পূরণে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার মানুষের সর্বজনীন অধিকার, সেটি সমুন্নত রাখতে আমাদের মিলিত শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।’
চমেক শাখা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে বীর বাঙালি যখন অত্যাসন্ন বিজয়ের আনন্দে উন্মুখ, ঠিক তখন দখলদার বাহিনীর গুপ্ত ঘাতকরা রাতের আঁধারে মেতে ওঠে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞে। জাতি হারায় তার অসংখ্য মেধাবী সন্তানদের।
মহানগর নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহবায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের, যার আদর্শ হবে গণতন্ত্র। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় বাধা।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস জাতীয় জীবনে একটি বেদনাময় দিন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দুই দিন আগে হানাদার বাহিনীর দোসররা দেশের বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। তারা মনে করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করলেই এই দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি।’
চট্টগ্রাম জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দীন আহমেদ মানিক বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিলেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে দখলদার বাহিনীর ঘাতকরা রাতের আঁধারে বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে।
মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজের সভাপতিত্বে ও আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনায় অনান্যদেও মধ্যে অংশ নেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, কৃষকদলের সদস্য সচিব কামাল পাশা নিজামীসহ প্রমূখ।




