বশির আলমামুন: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বহুল প্রত্যাশার পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালের (পিসিটি) পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আতপ চাল বোঝাই একটি বাল্ক ভ্যাসেল হ্যান্ডলিংয়ের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। গতকাল বুধবার মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে আমদানিকৃত চালবাহী এমসিএল-১৯ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে ‘এমসিএল-১৯‘ নামের জাহাজে করে আমদানি করা ২ হাজার ৬৫০ টন আতপ চাল গতকাল বুধবার বিকেলে খালাসের জন্য পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) আনা হয়। এর মধ্য দিয়ে টার্মিনালটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। খালাস করা চালগুলো নগরের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডিতে পাঠানো হচ্ছে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল চালু হওয়ার কথা ছিল গত জুলাই মাসে। সিদ্ধান্ত ছিল নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনায় চলবে টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম। তবে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথমে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হবে। এরপর তাদের কেনা যন্ত্রপাতি দিয়ে চালু হবে টার্মিনালের কাজ। কিন্তু সব প্রক্রিয়া শেষে কখন টার্মিনালটি চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয় করে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালের অবকাঠামোগত নির্মাণ সম্পন্ন করে। পতেঙ্গার ড্রাইডক থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত রাস্তার পাশের ৩২ একর জায়গায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। এর মধ্যে ১৬ একরের ব্যাকইয়ার্ড সুবিধাসহ ৬০০ মিটার জেটি নির্মাণ করা হয়। এই টার্মিনালের ইয়ার্ডে একসাথে সাড়ে চার হাজার টিইইউএস কন্টেনার রাখা যাবে এবং বছরে গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। পিসিটির জেটিতে ১৯০ মিটার লম্বা ও ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের ৩টি কন্টেনারবাহী জাহাজ বার্থিং দেয়া যাবে। এছাড়া ২২০ মিটারের একটি ডলফিন জেটিও প্রকল্পটিতে রয়েছে। টার্মিনালটি গত জুলাই মাসে পরীক্ষামূলকভাবে উদ্বোধনের দিন ঠিক হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে হঠাৎ গতকাল বিকালে মিয়ানমার থেকে ২,৬৫০ টন আতপ চাল নিয়ে আসা এমসিএল-১৯ নামের জাহাজটিকে পিসিটিতে ভিড়ানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, কন্টেইনার টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারিভাবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে চাল নিয়ে আসা ক্রেনহীন অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজগুলোকে এই টার্মিনালে বার্থিং দিয়ে চাল খালাস করা হবে। এখানে ইকুইপমেন্ট স্থাপন এবং অপারেটর নিয়োগসহ বিভিন্ন কাজ শেষ হতে সময় লাগবে।
সেভেন সীজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, আমাদের একটি জাহাজ বার্থিং দেয়ার মাধ্যমে পিসিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক নতুন কার্যক্রমের সাথে আমি জড়িত। সারের জাহাজ বার্থিং দেয়ার মাধ্যমে বন্দরের এনসিটি টার্মিনালও আমি শুরু করেছিলাম। আগামী কিছুদিন মিয়ানমার ও ভারত থেকে চাল নিয়ে আরো কয়েকটি ছোট জাহাজ আসবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের শেষ সময় ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে ব্যয় আরও ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আরডিপি বরাবর আবেদন করে প্রকল্প সংস্থা।
গত বছরের মার্চে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল’ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকার। টার্মিনাল অপারেশন পরিচালনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাবে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ভারতের আদানি পোর্ট আ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড ও সিঙ্গাপুরের পিসিএর মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাক-সমীক্ষা অনুযায়ী প্রকল্পটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বার্ষিক পরিচালনা ব্যয় ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।




