দি ক্রাইম ডেস্ক: চন্দনাইশ উপজেলায় বৈষম্যেবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতাকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, হামলার পেছনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ ও তার অনুসারিরা জড়িত।
এর আগে, এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে জসিম উদ্দিন আহমেদকে ‘খুনি ও স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার প্রার্থীতা বাতিলের দাবি জানায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনের জেরে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বদুরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ওই রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই নেতাকর্মীকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নির্বাহী সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটভুক্ত হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং দলের কর্মী মঈন উদ্দীন মাহিন।
হাসপাতালে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান, তারা পটিয়া থেকে চন্দনাইশে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বদুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ১০–১২ জনের একটি দল তাদের গতিরোধ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের মুখ চেপে ধরে চাকু দিয়ে আঘাত ও লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়।
হামলার প্রতিবাদে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজের সামনে এনসিপির নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান জানান, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি। শনিবার বিকেলে মহাসড়কে অবরোধের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে আহত জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে জামায়াত। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেওয়া বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং তার সঙ্গে থাকা মঈন উদ্দীনকে লাঠিসোটা ও চাকু দিয়ে অতর্কিত হামলা করে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা জাতির জন্য অশনি সংকেত এবং এটি গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতার অজুহাতে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।




