ঢাকা ব্যুরো: বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে সংস্থাটির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সে রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
শনিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বড় ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা ছিল বিমানের। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়ে যায়। এরপরই সাথে সাথে আমরা কাজ শুরু করি।
তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসে প্রশ্ন বিতরণের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন। নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার পর থেকে তারা পরিকল্পনা শুরু করে দেয় কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস করবেন এবং কিভাবে বা বিতরণ করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষার আগের দিন ৪-৫ জন মিলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নটি ফাঁস করে। পরে গ্রেপ্তাররা ফাঁস প্রশ্ন সরাসরি এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিতরণ করে টাকা নেয়। প্রশ্ন তারা সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছে। এছাড়া গরিব পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন দিয়ে তারা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই নিয়েছে যে তাদের বাড়ি কিংবা জমিজমা লিখে দিবে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা এর আগেও বিভিন্ন প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের কাছে স্বীকার করে। নিয়োগ পরীক্ষার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি কমিটি গঠিত হয়েছিলো। কমিটির চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে সেই রহস্য উদঘাটন করার জন্য আমরা আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। গ্রেপ্তারদের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি। তারা জানিয়েছেন, এর আগেও কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই টাকার ভাগ তারা আবার ঐসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দিয়েছেন। এসব বিষয়ে আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করবো গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে আমরা আরো জানার চেষ্টা করবো এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রটির সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছেন। এছাড়া বিমানের ডিজিএম ও জিএম এর সমন্বয়ে যে কমিটিটা গঠিত হিয়েছিলো তাদের কাজ ছিল প্রশ্ন ফাঁসের মতো বিষয় রোধ করা। কিন্তু তাদের চোখের আড়ালে কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস করা হলো, তা আমরা জানতে চাইবো। এ বিষয়ে তাদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো।
যারা ফাঁস করা প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিমানের কমিটি প্রশ্ন ফাঁসের দায় নিবে কিনা জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এছাড়া গ্রেপ্তারদের কাছেও রিমান্ডে আমরা এ বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করবো।
চক্রটি ফাঁস করা এই প্রশ্ন কতজন পরীক্ষার্থীদের কাছে বিলি করেছিলো এ বিষয়ে ডিবি কি জানতে পেরেছে- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আমরা সঠিক সংখ্যাটি জানাতে পারবো।
অপর প্রশ্নে ডিবি প্রধান বলেন, আমরা অভিভাবকদেরও বলেছিলাম প্রশ্ন ফাঁসের এই ধরনের ঘটনা তাদের চোখের সামনে আসলে যেন তারা আমাদের জানান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কমিটির গাফিলতি নাকি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরীক্ষা কমিটির কাজ হচ্ছে প্রশ্নপত্র ছাপানো থেকে শুরু করে নিরাপদে পরীক্ষা হলে পৌঁছানো এবং পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। এই কমিটির চোখ ফাঁকি দিয়ে যেভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে সেটি আমরা জানার চেষ্টা করবো, তারা ঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিনা।
প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকলে তাকে গ্রেপ্তার না করতে কোন চাপ ডিবির ওপর থাকে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত থাকে তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনি। কোন তথ্য আসলে তা আমরা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আইন বিচার বিশ্লেষণ করে মামলা করা হচ্ছে, যাতে আসামিরা সর্বোচ্চ সাজা পায়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসে গ্রেপ্তারকৃত বিমানের জুনিয়র ৫ কর্মকর্তা হলেন- আওলাদ হোসেন, মো.জাহাঙ্গীর আলম (৩৬), এনামুল হক (২৮), মো. হারুন-অর-রশিদ ও মাহফুজুল আলম (৩১)। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।




