রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (১৮ অক্ঠোবর) সকালে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব-এঁর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮ তম জন্মবার্ষিকী ও শেখ রাসেল দিবস-২০২২ পালিত হয়।
সকাল সাড় ৬টা হতে দিনব্যাপী কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানের সম্মুখে ডায়াবেটিস ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় । সকাল সাড়ে ৭টায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে সরকারী শিশু পরিবার/সুবিধা বঞ্চিত/বস্তিবাসী ছেলেমেয়েদের রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা/ ভিন্নজগৎ ভ্রমণ করানো হয়। সকাল ৯ টায় শেখ রাসেল দিবস-২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি জিলা স্কুল রংপুর থেকে শুরু হয়ে টাউন হলে এসে শেষ হয়।
সকাল সাড়ে ৯ টায় পাবলিক লাইব্রেরি মঞ্চে শেখ রাসেল এর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ৯.৪৫ ঘটিকায় রংপুর টাউন হল চত্ত্বরে দিবসটি উপলক্ষ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে একটি বড় গ্যাস বেলুনের সাথে আরও ৫৭ টি ছোট বেলুন মোট ৫৮ টি বেলুন উড়ানো হয়।
সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোঃ আসিব আহসানের সভাপতিত্বে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মবার্ষিকী ও শেখ রাসেল দিবস-২০২২ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলেন, শেখ রাসেল একটি ছোট শিশু। একটা শিশু অকালেই ঝড়ে গেল। চলে গেল চরম নির্মমতার মধ্য দিয়ে ঘাতকের বুলেটের আঘাতে। হয়তো সে জীবনে অনেক বড় হতে পারতো। তার জীবনে একটা স্বপ্ন ছিল সে একজন সেনা অফিসার হবে। হয়তো বেঁচে থাকলে আমরা তাকে দেখতাম কিন্তু তাকে বাঁচতে দেওয়া হয় নাই।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সাথে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। এছাড়াও তিনি বলেন, এদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত জীবন পায় এবং শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে দেশ পেয়েছি তা যেন বিশ্বে একটি মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে এটাই আমার লক্ষ্য।
এছাড়াও রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাবিরুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম, রংপুর, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ নূরে আলম মিনা বিপিএম(বার), পিপিএম(সেবা), রংপুর, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শিশুুদের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য ৫০০০টি ডিজিটাল ল্যাব এবং প্রতিটি সংসদীয় আসনে একটি করে মোট ৩০০টি শেখ রাসেল স্কুল অব ফিউচার শুভ উদ্বোধন করেন।
সকাল ১১টায় রংপুর গণগ্রন্থাগার ও পাবলিক লাইব্রেরিতে শেখ রাসেলকে নিয়ে রচিত বই প্রদর্শনী করা হয়। বাদ যোহর সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে সুবিধাজনক সময়ে দোয়া/প্রার্থনা এবং রংপুর মডেল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে হাসপাতাল, এতিমখানা, সরকারি শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, জেলখানা ও শিশু সদনসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা হতে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান (পায়রা চত্বর, শাপলা চত্বর, মেডিকেল মোড়, চেকপোষ্ট, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, মডার্ণ মোড়স্থ অর্জন ইত্যাদি) শেখ রাসেলের ছবি ফেস্টুন, ব্যানার স্থাপন ও আলোকসজ্জ্বাকরণ করা হয়।
বিকেল ৪ টায় রংপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে শেখ রাসেলের ছবি সম্বলিত ফ্ল্যাগ নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ এবং ছেলে/মেয়েদের ফুটবল/রাগবি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শেখ রাসেলের জীবনী নিয়ে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।
Post Views: 271




