নিজস্ব প্রতিবেদক: কতোয়ালী পুলিশের নাকের ডগায় কুষ্টিয়া কেরু এন্ড কোম্পানীর “ফরট্টি মদের অন্তরালে দেশীয় পাহাড়ী চোলাই মদ” বিক্রী হচ্ছে হরহামেশা। হাত বাড়ালেই মিলছে চোলাইমদ। অবাধে চলছে বিকিকিনি। প্রকাশ্যে, দিন-দুপুরে বসছে সে মদ পানের আসর। ফিসারী ঘাটের আলোচিত মদকারবারি “অনুপ বিশ্বাসের” মদের মহালের চিত্র এটি। এ মহাল থেকে মদ কিনে মাদকসেবীরা সেবন করছে মহলটির বিপরীত পাশে ঝুপড়িসহ আশপাশের এলাকার নানা বয়সের শ্রেনী পেশার মানুষ ও কিশোর।
শুধু রাতে নয়, সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে শুরু হয় মাদকসেবিদের উপদ্রব। এদের উচ্ছৃশঙ্খল আড্ডাবাজি ও মাতলামিতে প্রতিদিন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারিরা। পুলিশ দেখলেও কি না দেখলে কি !
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কতোয়ালী পুলিশের নীরব ভূমিকায় ফিশারিঘাট এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে মদের কারবার ও মাদকসেবিদের উপদ্রব। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে খবর পেয়ে মাঝেমধ্যে র্যাব অভিযান চালালেও পুলিশ যেন কিছুই জানে না ! জনশ্রুতি রয়েছে, দৈনিক মাসোহারায় লাইসেন্সবিহীন এ অবৈধ মদের মহাল চালানোয় হাত রয়েছে স্বয়ং কোতোয়ালী থানা পুলিশ ও পুলিশ ফাঁড়ির হাবিলদারের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোতোয়ালী থানার ওসির মোবাইলে কল করলে তিনি দি ক্রাইমকে জানান, তার সরকারী লাইসেন্স রয়েছে। চোলাই মদ বিক্রীর কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি দি ক্রাইমকে জানান, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে সুনিদিষ্ট কোন তথ্য নেয়। তবে তথ্য পেল তিনি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন।
সম্প্রতি ফিশারিঘাট এলাকার ইকবাল রোডে বেলা ১১টার পর থেকে মাদকসেবিদের একটি ধারণকৃত ভিডিওচিত্র দি ক্রাইমের কাছে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইকবাল রোডের প্রশাসনের তালিকাভূক্ত চিহ্নিত মাদককারবারি অনুপ বিশ্বাসের মদের মহল থেকে মদ কিনে ঝুপড়ি, টঙ দোকান ও আশপাশের অলিগলিতে সেবন করছে বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিরা। প্রতিদিন ওই টং গুলোতে বসে ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যাক্তি মদ সেবন করে থাকেন। মাদকসেবিদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
সূত্রে জানা গেছে, থানার অধীনে পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির স্ব-ঘোষিত ক্যাশিয়ার প্রত্যেক মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও রাস্তার ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নিকট থেকে দৈনিক ৫০ হাজার টাকার অধিক “পুলিশি বকেরা” আদায় করতে দেখা যায়। এই স্ব-ঘোষিত ক্যাশিয়ার অনেক বছর ধরে এই কাজে বহাল রয়েছে। তার বাসা ফিরিঙ্গী বাজার এলাকায় হওয়াতে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
সুত্রটি আরো জানা গেছে, থানার স্ব-ঘোষিতি ক্যাশিয়ার সিপাহী কুদ্দুস কতোয়ালী থানাধীন প্রায় ৩০টি আবাসিক প্রতিটি হোটেল থেকে মাসিক ৪০/ ৫০ হাজার টাকা করে “পুলিশি বকেরা” আদায় করছে। এসব হোটেল গুলো সাবেক পুলিশ কমিশনার ও ওসি থাকা অবস্থায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল। নতূন কমিশনার ও কতোয়ালীতে এই ওসি আসার পর থেকে “চিহ্নিত” হোটেল গুলোতে পতিতা ব্যবসা জমজমাট ভাবে চলছে। এ ছাড়াও অত্র থানার আইন শৃংখলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি হয়েছে। প্রতিদিন এই থানার কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়ত হচ্ছে “চুরি”।
পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এস আই নয়ন বড়ুয়া দি ক্রাইমকে মুঠোফোনে জানান, আমার ফাঁড়িতে স্ব-ঘোষিত কোন ক্যাশিয়ার নেই । চলতি মাসে কয়টি “চুরি” হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাত্র একটি চুরি হয়েছে। এ চুরির বিষয়ে থানায় মামলাও দায়ের হয়েছে।




