নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের নলডাঙ্গায় বর্ষা মৌসুমেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। ফলে পানির অভাবে খাল-বিলে ও ডোবায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে অনেকে সেচ দিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন, আবার বাড়তি খরচ থেকে বাঁচতে অনেকে বারনই নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে পানিতে অক্সিজেন-সংকটের কারণে নদীর ছোট-বড় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ও পোনা মারা যাচ্ছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে বারনই নদীর দুই ধারে ট্যাংরা, পুঁটি, চিংড়ি, গুচিসহ অনেক মাছ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা সেগুলো ধরে নিয়ে যান।

শ্যামনগর অভয়াশ্রমের পাহারাদার সমজান আলী সমু বলেন, ‘পাট জাগ দেওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের সংকট হয়। ফলে অভয়াশ্রমের ৫-৮ কেজি ওজনের মা মাছ মরে ভেসে ওঠে। ৮ কেজি ওজনের গ্রাস কার্প ভেসে উঠলে আমার নাতিও একটি ধরে নিয়ে যায়। শুধু আমার নাতি নয়, হাজারো মানুষ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে গেছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজানে রাবার ড্যামের মাধ্যমে বারনই নদীর পানি আটকানো হয়েছিল। ফলে পানির স্রোত কমে যাওয়ায় এবং পানিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে হাজারো মাছ মরে ভেসে উঠছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় কম বৃষ্টি হওয়ায় খাল-বিলে ও ডোবায় পানি ছিল না। তাই পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষক। সেচ দিয়ে পাট জাগের ব্যবস্থা করতে পারলেও অনেকে সেটি করতে পারেননি। তাই বাড়তি খরচ না করে তারা বারনই নদীর পানিতে জাগ দিয়েছেন। ফলে পানি দূষণে ছয়টি অভয়াশ্রমের মা মাছ ও পোনা মারা যাচ্ছে।

উপজেলার বাশিলা গ্রামের পাটচাষি মো. শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‘সাড়ে চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। কিন্তু এ বছর ডোবা নালায় পানি না থাকায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পাট জাগ দিয়েছি। এতে অতিরিক্ত খরচ পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো এই এলাকার অনেক কৃষক পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে বারনই নদীতে তারা পাট জাগ দিয়েছেন।’

বারনই নদীর পাশে বসবাসকারী মো. আতিকুর রহমান, পবন সরকার ও বাঁশিলা গ্রামের ইমন মন্ডল বলেন, আজ সকালে গোসল করতে গিয়ে দেখি, দেশীয় প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। প্রায় চার কেজি মাছ আমরা ধরেছি।

পরিবেশ বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বী ও পরিবেশ কর্মী লতিফুর রহমান বলেন, বারনই নদীতে গণহারে পাট জাগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সেটি না করা গেলে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী একসময় বিলুপ্ত হবে। তাই মা মাছ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, এ নদীতে দেশীয় মাছের প্রজনন বাড়াতে ছয়টি অভয়াশ্রম রয়েছে। কিছুদিন আগে নদীতে পাট জাগ দেওয়ায় অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয়। এই সংকট সমাধানে করণীয় কিছু নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফৌজিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘এবার ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার মেট্রিক টন। বৃষ্টির অভাবে ডোবা-নালায় পানি না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষকরা নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুখময় সরকার বলেন, ‘বারনই নদীতে অভয়াশ্রমের মা মাছ রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

 

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের নলডাঙ্গায় বর্ষা মৌসুমেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। ফলে পানির অভাবে খাল-বিলে ও ডোবায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে অনেকে সেচ দিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন, আবার বাড়তি খরচ থেকে বাঁচতে অনেকে বারনই নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে পানিতে অক্সিজেন-সংকটের কারণে নদীর ছোট-বড় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ও পোনা মারা যাচ্ছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে বারনই নদীর দুই ধারে ট্যাংরা, পুঁটি, চিংড়ি, গুচিসহ অনেক মাছ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা সেগুলো ধরে নিয়ে যান।

শ্যামনগর অভয়াশ্রমের পাহারাদার সমজান আলী সমু বলেন, ‘পাট জাগ দেওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের সংকট হয়। ফলে অভয়াশ্রমের ৫-৮ কেজি ওজনের মা মাছ মরে ভেসে ওঠে। ৮ কেজি ওজনের গ্রাস কার্প ভেসে উঠলে আমার নাতিও একটি ধরে নিয়ে যায়। শুধু আমার নাতি নয়, হাজারো মানুষ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে গেছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজানে রাবার ড্যামের মাধ্যমে বারনই নদীর পানি আটকানো হয়েছিল। ফলে পানির স্রোত কমে যাওয়ায় এবং পানিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে হাজারো মাছ মরে ভেসে উঠছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় কম বৃষ্টি হওয়ায় খাল-বিলে ও ডোবায় পানি ছিল না। তাই পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষক। সেচ দিয়ে পাট জাগের ব্যবস্থা করতে পারলেও অনেকে সেটি করতে পারেননি। তাই বাড়তি খরচ না করে তারা বারনই নদীর পানিতে জাগ দিয়েছেন। ফলে পানি দূষণে ছয়টি অভয়াশ্রমের মা মাছ ও পোনা মারা যাচ্ছে।

উপজেলার বাশিলা গ্রামের পাটচাষি মো. শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‘সাড়ে চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। কিন্তু এ বছর ডোবা নালায় পানি না থাকায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পাট জাগ দিয়েছি। এতে অতিরিক্ত খরচ পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো এই এলাকার অনেক কৃষক পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে বারনই নদীতে তারা পাট জাগ দিয়েছেন।’

বারনই নদীর পাশে বসবাসকারী মো. আতিকুর রহমান, পবন সরকার ও বাঁশিলা গ্রামের ইমন মন্ডল বলেন, আজ সকালে গোসল করতে গিয়ে দেখি, দেশীয় প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। প্রায় চার কেজি মাছ আমরা ধরেছি।

পরিবেশ বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বী ও পরিবেশ কর্মী লতিফুর রহমান বলেন, বারনই নদীতে গণহারে পাট জাগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সেটি না করা গেলে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী একসময় বিলুপ্ত হবে। তাই মা মাছ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, এ নদীতে দেশীয় মাছের প্রজনন বাড়াতে ছয়টি অভয়াশ্রম রয়েছে। কিছুদিন আগে নদীতে পাট জাগ দেওয়ায় অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয়। এই সংকট সমাধানে করণীয় কিছু নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফৌজিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘এবার ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার মেট্রিক টন। বৃষ্টির অভাবে ডোবা-নালায় পানি না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষকরা নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুখময় সরকার বলেন, ‘বারনই নদীতে অভয়াশ্রমের মা মাছ রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’