লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া: প্রেমের ইতি টানতে গিয়ে যুগল প্রেমিক পালিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে একজন শ্রীঘরে অপরজন সেইভ হোমে। প্রণয় বুঝে না বয়স, জাত, কাল। দুই জনই পোশাক শ্রমিক।নগরীর পতেঙ্গা ইপিজেট গার্মেন্টস পোশাক শিল্প শ্রমিকের কাজের সুবাধে তারা একে অপরের সাথে পরিচয়, মন দেয়া নেয়া, আবেগ আপ্লুত হয়ে লাইলী মজনু হয়ে পরিবারের অমতে নিজেদের ইচ্ছা পূরণে করতে পাড়ি জমাতে গিয়ে বেরসিক পুলিশ এ যুগলকে আটক করে তাদের মনের ভাসনা পূরণ করতে দেয়নি।
খবর নিয়ে দেখা গেছে, প্রেমিক চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা ৮ নং ওয়ার্ডের মোল্লা বাড়ির মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের পুত্র মোঃ ইলিয়াছ (২৪)ও তার প্রেমিকা কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপের পাড়ার মনজুর আলমের কন্যা মরিয়ম বেগম (১৩)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, যুগল প্রেমিক কুতুবদিয়া থেকে পালিয়ে গিয়ে গোপনে বিয়ে করার জন্য চকরিয়া উপজেলায় এক কাজি অফিসে যাওয়ার সময় চকরিয়া থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) রাত ১০টায় তাদেরকে আটক করে। প্রেমিক ইলিয়াছ তার প্রেমিকা মরিয়মের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করে গত সোমবার ০১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় দুই জন কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দেয়। মরিয়মের পারিবার মেয়েকে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে নিরুপায় হয়ে থানায় লিখিত সাধারণ ডায়েরী করে।
তারই অনুসন্ধানে চকরিয়া থানায় আটক যুগল প্রেমিককে আজ বুধবার (০৩ আগস্ট) সকালে কুতুবদিয়া থানাকে হস্তান্তর করে। কুতুবদিয়া আটককৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নং-০৫ তাং ০৩ আগস্ট/২২। একই দিনে থানা কুতুবদিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জি,আর-৮১/২২ মামলা মূলে আদালতে সোপর্দ করে।
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাইদীন নাঁহির আদালত আসামী ইলিয়াছকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তবে মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় অর্থাৎ জন্মনিবন্ধন অনুপাতে মেয়ের বয়স ১৩ বছর হওয়ায় আদালত মেয়েকে অভিভাবকের জিম্মায় দিতে চাইলে মেয়ে রাজি না হওয়ায় আদালত চট্টগ্রাম মহিলা ও শিশু কিশোর হেফাজত নিরাপদ আবাসন অর্থাৎ সেইভ হোমে প্রেরণ করেন।



