ক্রাইম প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের একাংশের অবরোধ পালনের কারণে দু’দিন শাটল ও শিক্ষকবাহী বাস চলাচল বন্ধ ছিল। আজ মঙ্গলবার ০২ আগস্ট থেকে পুনরায় এসব পরিবহন চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। একই সঙ্গে অবরোধের সময় শাটলের লোকোমাস্টার ও নিরাপত্তারক্ষী অপহরণে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীর নির্দেশে আন্দোলন থেকে সরে আসেন আন্দোলনরত কর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির কারণে আগের দিনের মতোই শহর থেকে শিক্ষার্থীবাহী শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে বিভিন্ন বিভাগের পূর্বনির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চবি উপাচার্য বলেন, ছাত্র সংগঠনের কমিটিতে পদ পদবি না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুরু থেকেই আলোচনা করেছি। আলোচনা সাপেক্ষে তারা অবরোধ থেকে সরে এসেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নেয়। কিছু হলেই শাটল বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছে। অতীতেও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে লিপ্ত থাকায় অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বরে প্রধান ফটক বন্ধ করে আন্দোলনে নামেন পদবঞ্চিতরা। ৩২ ঘণ্টা ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ থাকার পর শিক্ষা উপমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসেন তারা।
এদিকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করা, ভাংচুর করা, অপহরণ করা, অপরাধের হুমকি দেয়া, হত্যার হুমকি দেয়া কোনোভাবেই ছাত্র সংগঠনের আদর্শিক কর্মীর কাজ হতে পারেনা। যারা এসব করছে তাদের বিষয়ে সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত কঠোর হওয়া প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিতদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে এ মন্তব্য করা হয়।
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ছাত্র সংগঠনের পদপদবির বিষয়ে কোনও দাবি দাওয়া থাকলে সংগঠনের যেকোনও কর্মী, নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। কোনও সাংগঠনিক দাবি থাকলে সেটি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে সমাধান করা যায়। যারা এসব করছে তারা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থেই অরাজকতা করছে, এদের কাছে সংগঠন বা শিক্ষার মূল্য আছে বলে মনে হয়না। নিজেদের সাংগঠনিক দাবিতে অপরাধমূলক সহিংসতা যারা করছে তাদের বিষয়ে সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
দাবিগুলো হলো- সদ্য ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়া মো. ইলিয়াসকে অছাত্র, ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং টেন্ডারবাজ আখ্যায়িত করে তাঁকে আজীবন ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি বর্ধিত করা। সকল অছাত্র, জামায়াত-বিএনপি ও বিবাহিতদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া। ৫০ জন ত্যাগী, মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্রকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পদবিতে সিনিয়র-জুনিয়র ক্রম বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
২০১৯ সালের ১৫ জুলাই চবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটিতে রেজাউল হক রুবেলকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই সদস্যের কমিটি দেওয়ার ৩ বছর ১৬ দিন পর অবশেষে ৪২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।




