গাজীপুর প্রতিনিধি: জন্মের ১১ মাস বয়সে মাকে হারায় সীমা। কিছুদিন পর বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান বাবা। সেই থেকে এখনো নিখোঁজ তিনি। এরপর শিশুটি বড় হয় চাচির কাছে। সীমা যখন একটু বড় হলো, চাচি বুঝলেন ও জন্মান্ধ। দুচোখে দেখতে পায় না। এতে রিকশাচালক চাচার দুঃখের বোঝা আরও বাড়ে।
বলছিলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লোহাগাছ গ্রামের শফিকুল ইসলাম মেয়ে সীমার কথা। বর্তমানে তার বয়স ১২ বছর। জন্মান্ধ এতিম শিশুটির ইচ্ছা ছিল, যে চাচির পরম যত্নে ছোট থেকে বড় হয়েছেন তাকে একবার দেখবেন। কিন্তু স্বাদ থাকলেও সাধ্য কোথায়।
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সীমার দুরবস্থার খবর পেয়ে ছুটে যান স্থানীয় সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি সীমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান, চোখে লেন্স লাগালে দেখতে পাবে সীমা।
এরপর সাদ্দাম হোসেন নিজ অর্থায়নে ঢাকা নিয়ে চোখের অপারেশন করান। এখন সীমার দুচোখেই আলো। চাচিকে দেখার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন, তা পূরণ হয়েছে। সীমা এখন পড়াশোনার জন্য স্কুলে যেতে চায়।
সীমার চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওর মা-বাবা নেই, এটা কখনো বুঝতে দেইনি। অভাবের সংসার রিকশা চালিয়ে নিজের ৩ সন্তান ও সীমাকে মানুষ করেছি। এখন ও চোখে দেখতে পায়, এর থেকে আনন্দের কিছু নেই। চোখে দেখতে পাওয়ার পর সীমা পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু আমার তো সেই সামর্থ্য নেই।’
সীমা আক্তার বলে, ‘আমি কিছুই দেখতে পেতাম না। সাদ্দাম চাচ্চু আমার চোখ ভালো করে দিয়েছে। এখন সবকিছু দেখতে পাই। আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই।’
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাই, একটি মেয়ে চোখে দেখতে পায় না। পৃথিবীতে তার কেউ নেই। এতিম মেয়েটিকে তার চাচি লালন-পালন করে বড় করছে। গত ২ জুন মেয়েটিকে ইস্পাহানী ইসলামী চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করাই। এখন সীমা চোখে দেখতে পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও জোনাকি নামের এক শিশুর চোখের লেন্স লাগিয়ে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেই। এই কাজে আমি তৃপ্তি পাই, মনে প্রশান্তি আসে। আমার মনে হয় সমাজের বিত্তশালীদের এদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এতে আমাদের সমাজ আরও সুন্দর হবে।’
শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ট্রেড ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাদ্দাম ভাইকে স্যালুট। উনার মতো মানুষ সমাজে বড্ড প্রয়োজন। এর আগেও তিনি জোনাকি নামের এক শিশুর অপারেশন করে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এবার সীমার অপারেশন ব্যবস্থা করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন।’




