নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সনাতনী সম্প্রদায়ের অন্যতম সংঘটন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকনের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা এক মামলায় ৫ হিন্দু যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।আজ রবিবার (১৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জহিরুল কবির এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা হলেন, সঞ্জয় চৌধুরী (৪০), সুভাষ মুহুরী (৩৪), সুজন বিশ্বাস (৪০), সদীপ দে (৪০) ও সুশীল দে টুটুল (৫০)। তারা সকলেই চট্টগ্রাম প্রবর্তক সংঘের অনুসারী।
ইসকনের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসকনের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্যের জেরে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়েছিল। আদালত উক্ত মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজমকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কাউন্টার টেরোরিজম তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতার বিষয়টি আদালতে প্রতিবেদন আকারে জমা দিয়েছে।
তদন্তকৃত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল। আসামিরা আদালতে আত্মসর্মপন করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য গত বছরের ২৩ আগস্ট নন্দনকাননের রাধামাধব ও গৌর নিতাই মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তাপস আর্চায্য বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। কাউন্টার টেরোরিজমের উপ পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান মামুন চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ওই ৫ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালত। আজ ৫ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালতে দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪, ২৫ (২), ২৮ (২), ২৯ (২), ৩১ (২) ও ৩৫ ধারায় অভিযোগ করেন বাদী। পুলিশি তদন্তে ২৪ ধারা বাদে সবগুলো ধারাই রাখা হয়েছে। তবে ২৯(২) এর বদলে তদন্তে ২৯(১) ধারা রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত বেশ কিছুদিন ধরেই চট্টগ্রামে ইসকন ও প্রবর্তক সংঘের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে।



