ক্রাইম প্রতিবেদক: লোকালয়ে আইসিডি, জনমনে আতংক, দায় কার? বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।আজ সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুন ও রাসায়নিক বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ১০ জন ফায়ার ফাইটারসহ নিহতের সংখ্যা সর্বশেষ ৪৮ জনে পৌঁছেছে বলে গণমাধ্যম থেকে জানা যায়। এছাড়া শতাধিকেরও বেশি আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিএম ডিপোতে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে তার দায় কি কাস্টমস এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই এড়াতে পারবে সে প্রশ্ন রেখে সুজন বলেন সেখানে যে এতোগুলো রাসায়নিক পণ্য ভর্তি কনটেইনার ছিল এবং ঐ কনটেইনারগুলো রাখার উপযুক্ত পরিবেশ সেখানে ছিল কি-না তার তদারকির দায়িত্ব ছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলত ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। চট্টগ্রাম বন্দরের আইন কানুনকে সম্পূর্ণরূপে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা এসব আইসিডি চট্টগ্রাম শহরকে চারিদিক থেকে রুদ্ধ করে ফেলেছে। আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা এসব আইসিডির শব্দ দূষণের কারণে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। বিএম ডিপোর বিস্ফোরণের পর জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ এ আতংক থেকে বাঁচতে চায়।

সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, হুকুমদখলের জায়গায় গড়ে ওঠা জুটমিলের মধ্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কনটেইনার ইয়ার্ড গড়ে তোলা হয়েছে। জনগনের টাকায় আসীন প্রজাতন্ত্রের কর্তাব্যক্তিরা যদি এসব বেআইনি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে জনগন কার কাছে যাবে। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরো দুর্ঘটনার ঘটার আশংকা প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে বিভিন্ন ইয়ার্ডে থাকা রাসায়নিক কনটেইনারগুলো শহরের বাহিরে জনমানবশূন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার দাবী জানান।

তিনি বলেন, বিএম ডিপোর আশেপাশে কোন প্রকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নেই কিন্তু নগরীর পতেঙ্গা, বন্দর, কাট্টলীসহ অন্যান্য এলাকায় গড়ে ওঠা আইসিডিগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। বিএম ডিপোর মতো কিংবা এর চেয়ে আরো কম শক্তিশালী দুর্ঘটনা নিমিষেই সেখানে লাখো মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। বিএম ডিপোর অগ্নিকান্ডই শহরের ভিতর অবস্থিত কনটেইনার ইয়ার্ডগুলোকে শহরের বাহিরে সরিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বন্দরের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বার বার এসব কনটেইনার ইয়ার্ডগুলো বন্দরের ২০ কিলোমিটার দুরত্বের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় কিন্তু অজানা অদৃশ্য কারণে সিদ্ধান্তগুলো আর বাস্তবায়ন হয় না। মানুষের জীবনের চেয়ে কি তাহলে ব্যবসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ? সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এরকম একটি দুর্ঘটনা যদি আবাসিক এলাকায় স্থাপিত কনটেইনার ইয়ার্ডগুলোতে হয় তাহলে কি পরিমাণ হতাহত এবং মানবিক বিপর্যয় হতে পারে সেদিকে নজর দেওয়ার সময় এসে গেছে। ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কিভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং হতাহতদের হাসপাতালে আনা নেওয়া করবে সে প্রশ্ন আজ সকলের মুখে মুখে। তাই আর অবহেলা নয়, এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বন্দর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে শক্ত হাতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। সীতাকুন্ড থেকে বাড়বকুন্ড পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশে লোকালয় বিহীন এলাকায় চাইলে বিশাল আকারের বেসরকারি কনটেইনার শিল্প জোন স্থাপন করা যায়। পাশাপাশি বন্দর থেকে যে রেললাইনটি ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে সেটিকে ডাবল লাইনে রূপান্তর করে এসব আইসিডির সাথে সংযুক্ত করা গেলে বন্দর এবং রেলের রাজস্ব আদায় বহুগুণ বেড়ে যাবে। জনগনও সমূহ বিপদ এবং আতংক থেকে মুক্তি পাবে। তবে এ কথাও সত্য যে বেসরকারি কনটেইনার ইয়ার্ডগুলো দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে গতি এনেছে বেসরকারি আইসিডিগুলো। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এসব ইয়ার্ডে। বেসরকারি আইসিডিগুলো এখন একটি শিল্পতে পরিণত হয়েছে। তাই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তবে তা কোনভাবেই আর কোন জীবনের বিনিময়ে নয়। এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের রপ্তানি শিল্পের ভবিষ্যত। ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এ দূর্ঘটনার পর বিদেশী ক্রেতাগণ আতংকিত হয়ে পড়েছেন। তাই এ শিল্পের সাথে জড়িত সকলকে আস্থায় আনতে হবে। এজন্য সকল পক্ষকে একসাথে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।

সুজন বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আন্তরিক। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নানারকম সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। তাই কনটেইনার ইয়ার্ড মালিকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের সাথে আলোচনা করুন। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা এবং উত্তরোত্তর সফলতার জন্য বেসরকারি আইসিডিগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে কালবিলম্ব না করে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।

ক্রাইম প্রতিবেদক: লোকালয়ে আইসিডি, জনমনে আতংক, দায় কার? বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।আজ সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুন ও রাসায়নিক বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ১০ জন ফায়ার ফাইটারসহ নিহতের সংখ্যা সর্বশেষ ৪৮ জনে পৌঁছেছে বলে গণমাধ্যম থেকে জানা যায়। এছাড়া শতাধিকেরও বেশি আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিএম ডিপোতে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে তার দায় কি কাস্টমস এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই এড়াতে পারবে সে প্রশ্ন রেখে সুজন বলেন সেখানে যে এতোগুলো রাসায়নিক পণ্য ভর্তি কনটেইনার ছিল এবং ঐ কনটেইনারগুলো রাখার উপযুক্ত পরিবেশ সেখানে ছিল কি-না তার তদারকির দায়িত্ব ছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলত ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। চট্টগ্রাম বন্দরের আইন কানুনকে সম্পূর্ণরূপে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা এসব আইসিডি চট্টগ্রাম শহরকে চারিদিক থেকে রুদ্ধ করে ফেলেছে। আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা এসব আইসিডির শব্দ দূষণের কারণে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। বিএম ডিপোর বিস্ফোরণের পর জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ এ আতংক থেকে বাঁচতে চায়।

সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, হুকুমদখলের জায়গায় গড়ে ওঠা জুটমিলের মধ্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কনটেইনার ইয়ার্ড গড়ে তোলা হয়েছে। জনগনের টাকায় আসীন প্রজাতন্ত্রের কর্তাব্যক্তিরা যদি এসব বেআইনি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে জনগন কার কাছে যাবে। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরো দুর্ঘটনার ঘটার আশংকা প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে বিভিন্ন ইয়ার্ডে থাকা রাসায়নিক কনটেইনারগুলো শহরের বাহিরে জনমানবশূন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার দাবী জানান।

তিনি বলেন, বিএম ডিপোর আশেপাশে কোন প্রকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নেই কিন্তু নগরীর পতেঙ্গা, বন্দর, কাট্টলীসহ অন্যান্য এলাকায় গড়ে ওঠা আইসিডিগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। বিএম ডিপোর মতো কিংবা এর চেয়ে আরো কম শক্তিশালী দুর্ঘটনা নিমিষেই সেখানে লাখো মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। বিএম ডিপোর অগ্নিকান্ডই শহরের ভিতর অবস্থিত কনটেইনার ইয়ার্ডগুলোকে শহরের বাহিরে সরিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বন্দরের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বার বার এসব কনটেইনার ইয়ার্ডগুলো বন্দরের ২০ কিলোমিটার দুরত্বের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় কিন্তু অজানা অদৃশ্য কারণে সিদ্ধান্তগুলো আর বাস্তবায়ন হয় না। মানুষের জীবনের চেয়ে কি তাহলে ব্যবসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ? সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এরকম একটি দুর্ঘটনা যদি আবাসিক এলাকায় স্থাপিত কনটেইনার ইয়ার্ডগুলোতে হয় তাহলে কি পরিমাণ হতাহত এবং মানবিক বিপর্যয় হতে পারে সেদিকে নজর দেওয়ার সময় এসে গেছে। ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কিভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং হতাহতদের হাসপাতালে আনা নেওয়া করবে সে প্রশ্ন আজ সকলের মুখে মুখে। তাই আর অবহেলা নয়, এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বন্দর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে শক্ত হাতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। সীতাকুন্ড থেকে বাড়বকুন্ড পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশে লোকালয় বিহীন এলাকায় চাইলে বিশাল আকারের বেসরকারি কনটেইনার শিল্প জোন স্থাপন করা যায়। পাশাপাশি বন্দর থেকে যে রেললাইনটি ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে সেটিকে ডাবল লাইনে রূপান্তর করে এসব আইসিডির সাথে সংযুক্ত করা গেলে বন্দর এবং রেলের রাজস্ব আদায় বহুগুণ বেড়ে যাবে। জনগনও সমূহ বিপদ এবং আতংক থেকে মুক্তি পাবে। তবে এ কথাও সত্য যে বেসরকারি কনটেইনার ইয়ার্ডগুলো দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে গতি এনেছে বেসরকারি আইসিডিগুলো। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এসব ইয়ার্ডে। বেসরকারি আইসিডিগুলো এখন একটি শিল্পতে পরিণত হয়েছে। তাই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তবে তা কোনভাবেই আর কোন জীবনের বিনিময়ে নয়। এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের রপ্তানি শিল্পের ভবিষ্যত। ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এ দূর্ঘটনার পর বিদেশী ক্রেতাগণ আতংকিত হয়ে পড়েছেন। তাই এ শিল্পের সাথে জড়িত সকলকে আস্থায় আনতে হবে। এজন্য সকল পক্ষকে একসাথে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।

সুজন বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আন্তরিক। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নানারকম সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। তাই কনটেইনার ইয়ার্ড মালিকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের সাথে আলোচনা করুন। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা এবং উত্তরোত্তর সফলতার জন্য বেসরকারি আইসিডিগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে কালবিলম্ব না করে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।