জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী, আগামী বছরের (২০২৭ সাল) ৫ জানুয়ারি এই প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলায় গ্রেপ্তার অপর দুই সাংবাদিক হলেন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
রোববার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মামলায় মোট তিনজন আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে আরও সময় প্রয়োজন হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট এই তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল এবং ওই দিনই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। প্রসিকিউশনের দাবি, সেই সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে কয়েকজন সাংবাদিক কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে মন্তব্য করেন। প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে যে, সাংবাদিকদের এসব উসকানি ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্ট মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।




