খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন অ্যাজাক্স জুট মিলে চোর সন্দেহে সম্রাট ঢালী (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মিলের নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে। নিহত সম্রাট ঢালী নগরীর মীরেরডাঙ্গা এলাকার ফুলবাড়ি গেট এলাকার মজিবর ঢালীর ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে তিনতলা থেকে নিচে পড়ে আহত হন ওই যুবক। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সম্রাটসহ তিনজন ব্যক্তি খানজাহান আলী এলাকার অ্যাজাক্স জুট মিলে প্রবেশ করেন। এ সময় মিলের নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে সম্রাটকে আটক করলেও তাঁর সঙ্গে থাকা অপর দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপরই সম্রাটকে আটকে মারধর করা হয় বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন।
নিহত সম্রাটের স্বজনদের ভাষ্যমতে, নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের মুখে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে অথবা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সম্রাট ভবনটির তিনতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে প্রিজন সেলে রাখা হয়েছিল, যেখানে পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিষয়ে খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল বাশার মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ছাদ থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খানজাহান আলী থানায় নতুন ওসি যোগদানের পর থেকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। চোর সন্দেহে কাউকে আটক করে এভাবে মারধরের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও তিনতলা থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার নেপথ্যের পরিস্থিতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।




