খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার নাগরিক পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি-সম্প্রীতি জাতীয় কমিটিকে অভিনন্দন, আরেকদিকে সরকারের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’ গঠনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)।
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নির্বাহী কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ(পিসিএনপি) ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
আজ শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিনন্দন জানানো হয়। পিসিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ(পিসিএনপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো: আব্দুল মজিদ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তারা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটিগুলো দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের স্বার্থ, শান্তি-শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নবগঠিত কমিটি গুলো কাজ করবে এটাই তাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক সমাধান এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পিসিএনপি খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেন, রবিউল হোসেন ও মো: এরশাদ হোসেন, পিসিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখা’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম। এছাড়া পিসিসিপি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে সরকার, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। নবগঠিত কমিটিগুলো পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে,এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা। এদিকে ‘অপারেশন উত্তরণ’ প্রত্যাহার ও পাহাড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির গণদাবি উপেক্ষিত, নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও আমলা নির্ভর কর্মকৌশল ব্যর্থ হতে বাধ্য ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৬রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে নবগঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমস্যা নিরসনে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কমিটি গঠন করায় এ উদ্যোগের প্রতি সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শনিবার(১২ই সেপ্টেম্বর) ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটি ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সভাপতি প্রসিত খীসা সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতি দিয়েছেন।
সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা বিএনপি সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের মত জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত ও স্বীকৃত ‘রাজনৈতিক সমস্যাকে’ দেশের সাধারণ আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন সরকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার চাইতে মাত্রাতিরিক্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে চাইছে। ‘অপারেশন উত্তরণ’, ‘১১দফা নির্দেশনা’ প্রত্যাহারপূর্বক পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাহাড়-সমতলের দীর্ঘদিনের গণদাবি উপেক্ষিত হয়েছে মন্তব্য করে বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা স্পষ্ট বলেছেন, সরকারের গঠিত কমিটিসমূহে পাহাড়িদের প্রথাগত নেতা(রাজা- হেডম্যান-কার্বারি) বাদ দিয়ে সরকারের মনোনীত জেলা পরিষদ-আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী ও আমলাদের অত্যধিক নির্ভর করা হয়েছে এবং এ ধরনের উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বাধ্য।
সেনা-সেটলার প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট রোড ম্যাপ ঘোষণা না দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ধসঢ়;ক্ষা পদদলিত করে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন এর নামে আশির দশকের ফৌজি শাসকদের মত বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করা হলে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ে অস্থিরতা বাড়বে এবং পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে, জাতিগত দূরত্ব বাড়াবে বলে তিনি বিবৃতিতে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।




