আমেনা বেগম(এমএসএস): আজ ২৪ আগস্ট। বাংলাদেশের নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিন আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নির্মম সেই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নকে চিরতরে ধ্বংস করেনি, বরং গোটা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ইয়াসমিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে যে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা পরবর্তী সময়ে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংগঠন ২৪ আগস্টকে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। ৩১ বছর পেরিয়ে গেছে। সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু ইয়াসমিনের নাম আজও উচ্চারিত হয় একটি প্রশ্ন নিয়ে—নারী ও শিশুর নিরাপত্তা কি সত্যিই নিশ্চিত হয়েছে?

যে মেয়েটি বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল
১৯৯৫ সালে ইয়াসমিনের বয়স ছিল মাত্র ১৩-১৪ বছর—বিভিন্ন সমকালীন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ১৩ বা ১৪ বছর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইয়াসমিন ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন পর ছুটি পেয়ে তিনি বাড়ি, দিনাজপুরে মায়ের কাছে ফেরার জন্য রওনা হন। ২৩ আগস্ট রাতে তিনি ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী ‘হাছনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি নৈশ বাসে ওঠেন। দিনাজপুরগামী সরাসরি বাসের টিকিট না পাওয়ায় ওই বাসেই তাঁকে যাত্রা করতে হয়েছিল। ২৪ আগস্ট ভোরে বাসটি দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে থামে। সেখানে ইয়াসমিনকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সকাল হলে দিনাজপুর শহরের দিকে কোনো বাসে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। একজন কিশোরী, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছেছেন—স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে তখন হয়তো ছিল মায়ের সঙ্গে দেখা করার আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ আর পূর্ণ হয়নি।

পুলিশের গাড়ি, মিথ্যা আশ্বাস এবং ভয়াবহ পরিণতি
দশমাইল এলাকায় অপেক্ষমাণ ইয়াসমিনের কাছে পুলিশের একটি টহল দল আসে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এরপর তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় এবং মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দিনাজপুরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দ্রুত ব্যাপক আকার ধারণ করে। ইয়াসমিনের হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল—অভিযুক্তরা ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে, সেই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে। এ কারণেই ইয়াসমিনের ঘটনা একটি সাধারণ অপরাধের সীমা ছাড়িয়ে রাষ্ট্র, আইন, বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নে পরিণত হয়।

প্রতিবাদে উত্তাল দিনাজপুর
ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে দিনাজপুরের মানুষ ব্যাপক বিক্ষোভে অংশ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কারফিউ জারি করে। কিন্তু মানুষের ক্ষোভ থামেনি। কারফিউ অমান্য করে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন; শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ ইয়াসমিনের মৃত্যুর পর শুধু একজন কিশোরীর জন্যই মানুষ রাস্তায় নামেনি; তারা প্রশ্ন তুলেছিল—আইনের রক্ষক যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? সেই আন্দোলন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

বিচারের দীর্ঘ পথ
ইয়াসমিন হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২০০৪ সালে। এই বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিল—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হলেও অপরাধের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা যায় না। তবে ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর বিচার দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকার বিষয়টিও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা পাঁচটি মামলার বিচার দীর্ঘ সময়েও শেষ হয়নি। এখানেই ইয়াসমিনের ঘটনা আমাদের সামনে আরেকটি বড় প্রশ্ন রাখে—একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হলেই কি সংশ্লিষ্ট সব দায় ও প্রশ্নের সমাধান হয়ে যায়?

ইয়াসমিন শুধু একটি নাম নয়
আজ ইয়াসমিন শুধু দিনাজপুরের একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া সন্তান নন। তিনি বাংলাদেশের নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনের একটি প্রতীক। তাঁর মৃত্যুর পর ২৪ আগস্টকে ঘিরে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের কর্মসূচি গড়ে ওঠে। বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠন প্রতিবছর দিনটি পালন করে। মানববন্ধন, আলোচনা সভা, স্মরণসভা, প্রতিবাদ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি সামনে আনা হয়। ইয়াসমিনের স্মরণে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভও নির্মিত হয়েছে। সেখানে প্রতিবছর মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে দশমাইলের স্মৃতিস্তম্ভ, যাত্রীছাউনি ও পাঠাগার অব্যবহৃত পড়ে থাকার কথা উঠে এসেছে। একটি জাতির ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সংরক্ষিত থাকলে হয় না। ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্নও সংরক্ষণ করতে হয়, যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ একদিন কীভাবে দাঁড়িয়েছিল।

ইয়াসমিনের মায়ের অপেক্ষা
একজন মায়ের কাছে ৩১ বছরও হয়তো খুব দীর্ঘ নয়। কারণ সন্তানের মৃত্যু কোনো ক্যালেন্ডার দিয়ে মাপা যায় না। ইয়াসমিনের মা শরীফা বেগম বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, তিনি আর কোনো পরিবারের মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা দেখতে চান না। ২০১৬ সালে তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল—এ ধরনের নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি তিনি দেখতে চান না। একজন মায়ের এই আকুতি আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন যতই কঠোর হোক, বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

৩১ বছর পর বাংলাদেশের বাস্তবতা
ইয়াসমিনের হত্যার পর বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন, প্রতিষ্ঠান ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ নানা আইনি কাঠামো রয়েছে। কিন্তু শুধু আইন থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আইনের কার্যকর প্রয়োগ, দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার, সাক্ষীর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগী পরিবারের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবমুক্তভাবে বিচারের আওতায় আনা—এসব বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াসমিনের ঘটনা বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা
ইয়াসমিন হত্যার ঘটনা সামনে আসার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশ্যে আসার পর জনমত আরও শক্তিশালী হয়। তৎকালীন সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশি চাপ ও হুমকির মধ্যেও ঘটনার সংবাদ প্রকাশের কথা উঠে এসেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বাধীন সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ প্রকাশ করে না; অনেক সময় সেটি ন্যায়বিচারের সামাজিক ভিত্তিও তৈরি করে।  তবে নারী নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশে আজও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। ভুক্তভোগীর পরিচয়, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে যেন ভুক্তভোগীকেই আবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

স্মরণ নয়, প্রতিরোধ চাই
২৪ আগস্ট শুধু ইয়াসমিনকে স্মরণ করার দিন নয়। এটি আত্মসমালোচনার দিনও। প্রতিবছর আমরা ইয়াসমিনের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিই, আলোচনা সভা করি, মানববন্ধন করি। কিন্তু এরপর কী? একটি মেয়েকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে হলে কী কী প্রয়োজন—এই প্রশ্নের উত্তর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাই হতে পারে ইয়াসমিনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। প্রয়োজন— নারী ও শিশুর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় রাখা; নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; অপরাধীদের রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় বিবেচনা না করে বিচার করা; কর্মজীবী ও গৃহকর্মী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; শিশু ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা; পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; এবং সর্বোপরি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক নীরবতা ভেঙে দেওয়া।

তাঁর অপরাধ ছিল না; তাঁর ছিল নিরাপত্তার প্রয়োজন।
কিন্তু সেই নিরাপত্তার জায়গাতেই তিনি প্রতারণা ও সহিংসতার শিকার হন। তাই ইয়াসমিনের স্মরণে সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কোনো মেয়ে যেন অসহায় অবস্থায় সাহায্য চাইতে গিয়ে ভয় না পায়। কোনো নারী যেন পুলিশের কাছে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকেই নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন। কোনো পরিবার যেন বিচার পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য না হয়।

আজকের দিনে ইয়াসমিনকে স্মরণ
১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্টের সেই ঘটনা আজও বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর ইয়াসমিনের নাম উচ্চারিত হলে শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের কথা মনে পড়ে না; মনে পড়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি শহরের জেগে ওঠার ইতিহাস।  মনে পড়ে সেই সাধারণ মানুষদের কথা, যারা ভয়কে উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিলেন। মনে পড়ে তাঁদের কথা, যাঁরা ইয়াসমিনের জন্য বিচার দাবি করেছিলেন। মনে পড়ে সেই সাতজন মানুষের কথাও, যাঁরা প্রতিবাদের সময় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। আর মনে পড়ে একটি মায়ের কথা—যিনি সন্তান হারিয়েও চান, আর কোনো মা যেন তাঁর মতো সন্তান হারানোর বেদনা না পান। ৩১ বছর পর তাই ইয়াসমিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অর্থ কেবল তাঁর নাম স্মরণ করা নয়। এর অর্থ হলো নারী ও শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে আরও সোচ্চার হওয়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তোলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।  ইয়াসমিন আজ নেই। কিন্তু তাঁর নাম একটি সামাজিক অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে আছে। ২৪ আগস্ট তাই কেবল শোকের দিন নয়—এটি প্রতিবাদের দিন, জবাবদিহির দিন এবং নতুন করে শপথ নেওয়ার দিন। ইয়াসমিনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

 

আমেনা বেগম(এমএসএস): আজ ২৪ আগস্ট। বাংলাদেশের নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিন আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নির্মম সেই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নকে চিরতরে ধ্বংস করেনি, বরং গোটা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ইয়াসমিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে যে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা পরবর্তী সময়ে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংগঠন ২৪ আগস্টকে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। ৩১ বছর পেরিয়ে গেছে। সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু ইয়াসমিনের নাম আজও উচ্চারিত হয় একটি প্রশ্ন নিয়ে—নারী ও শিশুর নিরাপত্তা কি সত্যিই নিশ্চিত হয়েছে?

যে মেয়েটি বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল
১৯৯৫ সালে ইয়াসমিনের বয়স ছিল মাত্র ১৩-১৪ বছর—বিভিন্ন সমকালীন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ১৩ বা ১৪ বছর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইয়াসমিন ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন পর ছুটি পেয়ে তিনি বাড়ি, দিনাজপুরে মায়ের কাছে ফেরার জন্য রওনা হন। ২৩ আগস্ট রাতে তিনি ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী ‘হাছনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি নৈশ বাসে ওঠেন। দিনাজপুরগামী সরাসরি বাসের টিকিট না পাওয়ায় ওই বাসেই তাঁকে যাত্রা করতে হয়েছিল। ২৪ আগস্ট ভোরে বাসটি দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে থামে। সেখানে ইয়াসমিনকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সকাল হলে দিনাজপুর শহরের দিকে কোনো বাসে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। একজন কিশোরী, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছেছেন—স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে তখন হয়তো ছিল মায়ের সঙ্গে দেখা করার আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ আর পূর্ণ হয়নি।

পুলিশের গাড়ি, মিথ্যা আশ্বাস এবং ভয়াবহ পরিণতি
দশমাইল এলাকায় অপেক্ষমাণ ইয়াসমিনের কাছে পুলিশের একটি টহল দল আসে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এরপর তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় এবং মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দিনাজপুরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দ্রুত ব্যাপক আকার ধারণ করে। ইয়াসমিনের হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল—অভিযুক্তরা ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে, সেই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে। এ কারণেই ইয়াসমিনের ঘটনা একটি সাধারণ অপরাধের সীমা ছাড়িয়ে রাষ্ট্র, আইন, বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নে পরিণত হয়।

প্রতিবাদে উত্তাল দিনাজপুর
ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে দিনাজপুরের মানুষ ব্যাপক বিক্ষোভে অংশ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কারফিউ জারি করে। কিন্তু মানুষের ক্ষোভ থামেনি। কারফিউ অমান্য করে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন; শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ ইয়াসমিনের মৃত্যুর পর শুধু একজন কিশোরীর জন্যই মানুষ রাস্তায় নামেনি; তারা প্রশ্ন তুলেছিল—আইনের রক্ষক যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? সেই আন্দোলন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

বিচারের দীর্ঘ পথ
ইয়াসমিন হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২০০৪ সালে। এই বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিল—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হলেও অপরাধের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা যায় না। তবে ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর বিচার দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকার বিষয়টিও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা পাঁচটি মামলার বিচার দীর্ঘ সময়েও শেষ হয়নি। এখানেই ইয়াসমিনের ঘটনা আমাদের সামনে আরেকটি বড় প্রশ্ন রাখে—একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হলেই কি সংশ্লিষ্ট সব দায় ও প্রশ্নের সমাধান হয়ে যায়?

ইয়াসমিন শুধু একটি নাম নয়
আজ ইয়াসমিন শুধু দিনাজপুরের একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া সন্তান নন। তিনি বাংলাদেশের নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনের একটি প্রতীক। তাঁর মৃত্যুর পর ২৪ আগস্টকে ঘিরে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের কর্মসূচি গড়ে ওঠে। বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠন প্রতিবছর দিনটি পালন করে। মানববন্ধন, আলোচনা সভা, স্মরণসভা, প্রতিবাদ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি সামনে আনা হয়। ইয়াসমিনের স্মরণে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভও নির্মিত হয়েছে। সেখানে প্রতিবছর মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে দশমাইলের স্মৃতিস্তম্ভ, যাত্রীছাউনি ও পাঠাগার অব্যবহৃত পড়ে থাকার কথা উঠে এসেছে। একটি জাতির ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সংরক্ষিত থাকলে হয় না। ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্নও সংরক্ষণ করতে হয়, যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ একদিন কীভাবে দাঁড়িয়েছিল।

ইয়াসমিনের মায়ের অপেক্ষা
একজন মায়ের কাছে ৩১ বছরও হয়তো খুব দীর্ঘ নয়। কারণ সন্তানের মৃত্যু কোনো ক্যালেন্ডার দিয়ে মাপা যায় না। ইয়াসমিনের মা শরীফা বেগম বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, তিনি আর কোনো পরিবারের মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা দেখতে চান না। ২০১৬ সালে তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল—এ ধরনের নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি তিনি দেখতে চান না। একজন মায়ের এই আকুতি আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন যতই কঠোর হোক, বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

৩১ বছর পর বাংলাদেশের বাস্তবতা
ইয়াসমিনের হত্যার পর বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন, প্রতিষ্ঠান ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ নানা আইনি কাঠামো রয়েছে। কিন্তু শুধু আইন থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আইনের কার্যকর প্রয়োগ, দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার, সাক্ষীর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগী পরিবারের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবমুক্তভাবে বিচারের আওতায় আনা—এসব বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াসমিনের ঘটনা বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা
ইয়াসমিন হত্যার ঘটনা সামনে আসার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশ্যে আসার পর জনমত আরও শক্তিশালী হয়। তৎকালীন সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশি চাপ ও হুমকির মধ্যেও ঘটনার সংবাদ প্রকাশের কথা উঠে এসেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বাধীন সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ প্রকাশ করে না; অনেক সময় সেটি ন্যায়বিচারের সামাজিক ভিত্তিও তৈরি করে।  তবে নারী নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশে আজও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। ভুক্তভোগীর পরিচয়, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে যেন ভুক্তভোগীকেই আবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

স্মরণ নয়, প্রতিরোধ চাই
২৪ আগস্ট শুধু ইয়াসমিনকে স্মরণ করার দিন নয়। এটি আত্মসমালোচনার দিনও। প্রতিবছর আমরা ইয়াসমিনের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিই, আলোচনা সভা করি, মানববন্ধন করি। কিন্তু এরপর কী? একটি মেয়েকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে হলে কী কী প্রয়োজন—এই প্রশ্নের উত্তর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাই হতে পারে ইয়াসমিনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। প্রয়োজন— নারী ও শিশুর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় রাখা; নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; অপরাধীদের রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় বিবেচনা না করে বিচার করা; কর্মজীবী ও গৃহকর্মী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; শিশু ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা; পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; এবং সর্বোপরি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক নীরবতা ভেঙে দেওয়া।

তাঁর অপরাধ ছিল না; তাঁর ছিল নিরাপত্তার প্রয়োজন।
কিন্তু সেই নিরাপত্তার জায়গাতেই তিনি প্রতারণা ও সহিংসতার শিকার হন। তাই ইয়াসমিনের স্মরণে সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কোনো মেয়ে যেন অসহায় অবস্থায় সাহায্য চাইতে গিয়ে ভয় না পায়। কোনো নারী যেন পুলিশের কাছে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকেই নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন। কোনো পরিবার যেন বিচার পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য না হয়।

আজকের দিনে ইয়াসমিনকে স্মরণ
১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্টের সেই ঘটনা আজও বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর ইয়াসমিনের নাম উচ্চারিত হলে শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের কথা মনে পড়ে না; মনে পড়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি শহরের জেগে ওঠার ইতিহাস।  মনে পড়ে সেই সাধারণ মানুষদের কথা, যারা ভয়কে উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিলেন। মনে পড়ে তাঁদের কথা, যাঁরা ইয়াসমিনের জন্য বিচার দাবি করেছিলেন। মনে পড়ে সেই সাতজন মানুষের কথাও, যাঁরা প্রতিবাদের সময় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। আর মনে পড়ে একটি মায়ের কথা—যিনি সন্তান হারিয়েও চান, আর কোনো মা যেন তাঁর মতো সন্তান হারানোর বেদনা না পান। ৩১ বছর পর তাই ইয়াসমিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অর্থ কেবল তাঁর নাম স্মরণ করা নয়। এর অর্থ হলো নারী ও শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে আরও সোচ্চার হওয়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তোলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।  ইয়াসমিন আজ নেই। কিন্তু তাঁর নাম একটি সামাজিক অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে আছে। ২৪ আগস্ট তাই কেবল শোকের দিন নয়—এটি প্রতিবাদের দিন, জবাবদিহির দিন এবং নতুন করে শপথ নেওয়ার দিন। ইয়াসমিনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।