সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: তফসিল ঘোষণার পর বন্যার অজুহাত দেখিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভোটগ্রহণ স্থগিত এবং পরবর্তীতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে ‘হঠাৎ’ এক মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। তাঁরা পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করে ভোটের মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

এ দাবিতে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবী জানিয়ে  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাতকানিয়ার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ এনামুল হক।

এদিকে, ইউএনও জানিয়েছেন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যয়নপত্র দাখিল না করায় এডহক কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।  অপরদিকে, ভোটবিহীন কমিটিতে স্থান পাওয়া সহ সভাপতি পদে দুই জন ও কার্যনির্বাহী পদে একজনসহ তিন জন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ফলে বৃহৎ অংশের ক্রীড়ামোদীর অসন্তোষের মধ্যে আদৌ এ নব গঠিত কমিটি ক্রীড়ার উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনের তারিখ পুনঃ ঘোষণা না করলে গণবিস্ফোরণের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন বলেন ক্রীড়া মোদীরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট  বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের ১১.৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গত চলতি বছরের ২০ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আবেদনে উল্লিখিত তিনটি দাবি হলো—নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নবগঠিত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন।

আবেদনকারী আইনজীবী এনামুল হক বলেন, বন্যার কারণে ভোট স্থগিত হলে পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করে বিনা ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। আশা করি জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি  নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দিবেন।

এদিকে, তফসিল অনুযায়ী গত ২৩ জুলাই ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হক। পরবর্তীতে ইউএনও’র নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেন। এরপর তাঁরা নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত আদেশে ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ না দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বন্ধ করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রীড়ামোদী ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা।  ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্তমান কমিটি থেকে পদত্যাগ করা বিভিন্ন পদবীর তিনজন তাদের নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে নানা মন্তব্য করেছেন। এদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি ও নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসাইন লিখেন, নির্বাচন হলে আমিই জিততাম। আমার মতামত ছাড়া কমিটিতে আমাকে এ কার্যনির্বাহী সদস্য রাখা হয়েছে। আমি তার নিন্দা ও উক্ত কমিটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এছাড়া ঘোষিত কমিটিতে কতজন ক্রীড়া সংগঠক রয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে শাহাদাত ঘোষিত কমিটি বাতিল করে অতিসত্বর পূর্ব ঘোষিত নির্বাচন দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান।

বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি নেচার আহমেদ চৌধুরী তাকে বর্তমান কমিটিতে রাখায় ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামির কর্মী হিসেবে দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে তার ব্যবহৃত ফেসবুকে উল্লেখ করেন।

কমিটির অপর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন তার ফেসবুকে লেখেন, আমার নামটি ব্যবহার করে কমিটি জাতে তোলার চেষ্টা ! এটা ‘আওয়ামী অহংকার’ কমিটি। তাই আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।

ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনী প্রচারণার সাথে সম্পৃক্ত ও সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, অজানা কারণে উপরের মহলের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত  করেছেন বলে সে সময় ইউএনও  আমাদের জানিয়েছিলেন। অথচ প্রার্থীদের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই নিজ দায়িত্বে আমাদেরকে দেওয়া কথা না রেখে হঠাৎ করে ইউএনও’র উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটির ঘোষণা বে আইনী, অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারিতার শামিল।

এ ব্যাপারে ক্রীড়া মোদী ও সচেতন মহল ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে। যেকোনো সময় তা গণবিস্ফোরণে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবগঠিত এ কমিটি শীঘ্রই বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করলে আমরা আইনের আশ্রয়ের পাশাপাশি  আন্দোলনে নামতেও পিছ পা হবো না।

বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন হিরু বলেন, প্রার্থীদের ক্রীড়া সংস্থার প্রাথমিক সদস্য পদ না থাকায় এডহক কমিটির মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোট বিহীন কিভাবে কমিটি হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনি ইউএনও সাহেবের সাথে আলাপ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে হলে তাকে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সদস্য হতে হয়। এ বিষয়ে প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়ে পত্রও দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে পারেনি তাদের প্রার্থীতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী এডহক কমিটির মাধ্যমে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়েছে।

ইউএনও’র বক্তব্যের প্রেক্ষিতে  সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দিদারুল আলম বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে হঠাৎ করে নির্বাচন স্থগিত, পরে  প্রত্যয়নপত্র চেয়ে চিঠি, এর কয়েকদিনের মধ্যে কমিটি গঠন কতটুকু যৌক্তিক তা বিবেচ্য বিষয়।

দায়েরেকৃত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়ে জানার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: তফসিল ঘোষণার পর বন্যার অজুহাত দেখিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভোটগ্রহণ স্থগিত এবং পরবর্তীতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে ‘হঠাৎ’ এক মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। তাঁরা পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করে ভোটের মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

এ দাবিতে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবী জানিয়ে  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাতকানিয়ার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ এনামুল হক।

এদিকে, ইউএনও জানিয়েছেন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যয়নপত্র দাখিল না করায় এডহক কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।  অপরদিকে, ভোটবিহীন কমিটিতে স্থান পাওয়া সহ সভাপতি পদে দুই জন ও কার্যনির্বাহী পদে একজনসহ তিন জন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ফলে বৃহৎ অংশের ক্রীড়ামোদীর অসন্তোষের মধ্যে আদৌ এ নব গঠিত কমিটি ক্রীড়ার উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনের তারিখ পুনঃ ঘোষণা না করলে গণবিস্ফোরণের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন বলেন ক্রীড়া মোদীরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট  বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের ১১.৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গত চলতি বছরের ২০ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আবেদনে উল্লিখিত তিনটি দাবি হলো—নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নবগঠিত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন।

আবেদনকারী আইনজীবী এনামুল হক বলেন, বন্যার কারণে ভোট স্থগিত হলে পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করে বিনা ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। আশা করি জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি  নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দিবেন।

এদিকে, তফসিল অনুযায়ী গত ২৩ জুলাই ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হক। পরবর্তীতে ইউএনও’র নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেন। এরপর তাঁরা নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত আদেশে ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ না দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বন্ধ করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রীড়ামোদী ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা।  ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্তমান কমিটি থেকে পদত্যাগ করা বিভিন্ন পদবীর তিনজন তাদের নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে নানা মন্তব্য করেছেন। এদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি ও নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসাইন লিখেন, নির্বাচন হলে আমিই জিততাম। আমার মতামত ছাড়া কমিটিতে আমাকে এ কার্যনির্বাহী সদস্য রাখা হয়েছে। আমি তার নিন্দা ও উক্ত কমিটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এছাড়া ঘোষিত কমিটিতে কতজন ক্রীড়া সংগঠক রয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে শাহাদাত ঘোষিত কমিটি বাতিল করে অতিসত্বর পূর্ব ঘোষিত নির্বাচন দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান।

বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি নেচার আহমেদ চৌধুরী তাকে বর্তমান কমিটিতে রাখায় ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামির কর্মী হিসেবে দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে তার ব্যবহৃত ফেসবুকে উল্লেখ করেন।

কমিটির অপর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন তার ফেসবুকে লেখেন, আমার নামটি ব্যবহার করে কমিটি জাতে তোলার চেষ্টা ! এটা ‘আওয়ামী অহংকার’ কমিটি। তাই আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।

ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনী প্রচারণার সাথে সম্পৃক্ত ও সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, অজানা কারণে উপরের মহলের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত  করেছেন বলে সে সময় ইউএনও  আমাদের জানিয়েছিলেন। অথচ প্রার্থীদের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই নিজ দায়িত্বে আমাদেরকে দেওয়া কথা না রেখে হঠাৎ করে ইউএনও’র উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটির ঘোষণা বে আইনী, অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারিতার শামিল।

এ ব্যাপারে ক্রীড়া মোদী ও সচেতন মহল ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে। যেকোনো সময় তা গণবিস্ফোরণে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবগঠিত এ কমিটি শীঘ্রই বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করলে আমরা আইনের আশ্রয়ের পাশাপাশি  আন্দোলনে নামতেও পিছ পা হবো না।

বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন হিরু বলেন, প্রার্থীদের ক্রীড়া সংস্থার প্রাথমিক সদস্য পদ না থাকায় এডহক কমিটির মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোট বিহীন কিভাবে কমিটি হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনি ইউএনও সাহেবের সাথে আলাপ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে হলে তাকে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সদস্য হতে হয়। এ বিষয়ে প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়ে পত্রও দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে পারেনি তাদের প্রার্থীতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী এডহক কমিটির মাধ্যমে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়েছে।

ইউএনও’র বক্তব্যের প্রেক্ষিতে  সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দিদারুল আলম বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে হঠাৎ করে নির্বাচন স্থগিত, পরে  প্রত্যয়নপত্র চেয়ে চিঠি, এর কয়েকদিনের মধ্যে কমিটি গঠন কতটুকু যৌক্তিক তা বিবেচ্য বিষয়।

দায়েরেকৃত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়ে জানার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।