সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও: কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশনে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং পরিবহন ব্যবসায়ী ও চালকদের কাছ থেকে মাসিক টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিশেষ করে ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তময়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের প্রশ্ন অভিযোগ উঠলেও আর কতদিন বহাল থাকবেন তিনি? তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কবে?

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাঁও বাসস্টেশনে যানজট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশবক্স। সেখানে একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই), একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট, একজন সহকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট ও দু’জন কনস্টেবলসহ পাঁচজন দায়িত্ব পালনের কথা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে দিনের বড় একটি সময় ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর তৎপরতা দেখা যায় না। এর সুযোগে মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা চলছে। ফলে ঈদগাঁও কলেজ এলাকা থেকে খোদাইবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদগাঁও বাসস্টেশনের উভয় পাশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর সারি সারি যানবাহন দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক পাশে কক্সবাজারগামী বাস, মাইক্রোবাস,মাহিন্দ্রা ও সিএনজি; অন্য পাশে ঈদগাঁও বাজারের প্রবেশমুখে অটোরিকশা ও টমটমের দীর্ঘ লাইন। এর পাশেই সিএনজি ও ইজিবাইক পার্কিং করে রাখা হয়েছে। মহাসড়কের ওপরই চলছে যাত্রী ওঠানামা। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। আটকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে দিনের পর দিন এমন অব্যবস্থাপনা চললেও ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিকেল ৩টার দিকে ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ ট্রাফিক পুলিশবক্সে গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর একজন সহকারী ট্রাফিক সার্জেন্টকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে শপিং ব্যাগসহ সেখানে আসতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, ভিআইপি প্রটোকল কিংবা বিশেষ অভিযান ছাড়া নিয়মিত যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা তেমন চোখে পড়ে না। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-টমটম, মালবাহী ট্রাক-ডাম্পার আটক এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জরিমানার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

মাংস ব্যবসায়ী ফুরুক আহমদ অভিযোগ করে বলেন, প্রতি সপ্তাহে তাকে দুই কেজি খাসির মাংস ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তময়কে দিতে হয়। তার অভিযোগ, কোনো সপ্তাহে মাংস দিতে দেরি হলে ব্যবসা উচ্ছেদ ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বনফুল ডিলারের গাড়িচালক আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ করে বলেন, মালবাহী গাড়ি আটক করে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে এবং অন্যান্য ডিলার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসিক টাকা আদায় করা হয়।

তিনি বলেন, এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী অনিয়মের প্রতিবাদ করতেও ভয় পান।

বাজার এলাকার সওদাগর পাড়ার টমটমচালক আমিন অভিযোগ করেন, তার গাড়ি আটক করে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, শুধু তিনি নন, আরও অনেক চালক একই ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

মাইক্রোবাস মালিক সমিতি ও সিএনজি-মাহিন্দ্রা সমিতির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তময়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করলে তাদের গাড়িতে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনিয়ম দেখেও তারা চুপ থাকেন।

তাদের আরও অভিযোগ, শান্তময় দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য কর্মকর্তারা নিয়মিত বদলি হলেও তার বদলি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর মৃদুল কুরি বলেন, “এ সবের মধ্যে তিনি জড়িত নন।এ গুলো অবশ্যই অপরাধ। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও: কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশনে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং পরিবহন ব্যবসায়ী ও চালকদের কাছ থেকে মাসিক টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিশেষ করে ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তময়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের প্রশ্ন অভিযোগ উঠলেও আর কতদিন বহাল থাকবেন তিনি? তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কবে?

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাঁও বাসস্টেশনে যানজট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশবক্স। সেখানে একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই), একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট, একজন সহকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট ও দু’জন কনস্টেবলসহ পাঁচজন দায়িত্ব পালনের কথা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে দিনের বড় একটি সময় ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর তৎপরতা দেখা যায় না। এর সুযোগে মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা চলছে। ফলে ঈদগাঁও কলেজ এলাকা থেকে খোদাইবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদগাঁও বাসস্টেশনের উভয় পাশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর সারি সারি যানবাহন দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক পাশে কক্সবাজারগামী বাস, মাইক্রোবাস,মাহিন্দ্রা ও সিএনজি; অন্য পাশে ঈদগাঁও বাজারের প্রবেশমুখে অটোরিকশা ও টমটমের দীর্ঘ লাইন। এর পাশেই সিএনজি ও ইজিবাইক পার্কিং করে রাখা হয়েছে। মহাসড়কের ওপরই চলছে যাত্রী ওঠানামা। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। আটকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে দিনের পর দিন এমন অব্যবস্থাপনা চললেও ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিকেল ৩টার দিকে ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ ট্রাফিক পুলিশবক্সে গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর একজন সহকারী ট্রাফিক সার্জেন্টকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে শপিং ব্যাগসহ সেখানে আসতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, ভিআইপি প্রটোকল কিংবা বিশেষ অভিযান ছাড়া নিয়মিত যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা তেমন চোখে পড়ে না। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-টমটম, মালবাহী ট্রাক-ডাম্পার আটক এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জরিমানার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

মাংস ব্যবসায়ী ফুরুক আহমদ অভিযোগ করে বলেন, প্রতি সপ্তাহে তাকে দুই কেজি খাসির মাংস ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তময়কে দিতে হয়। তার অভিযোগ, কোনো সপ্তাহে মাংস দিতে দেরি হলে ব্যবসা উচ্ছেদ ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বনফুল ডিলারের গাড়িচালক আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ করে বলেন, মালবাহী গাড়ি আটক করে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে এবং অন্যান্য ডিলার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসিক টাকা আদায় করা হয়।

তিনি বলেন, এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী অনিয়মের প্রতিবাদ করতেও ভয় পান।

বাজার এলাকার সওদাগর পাড়ার টমটমচালক আমিন অভিযোগ করেন, তার গাড়ি আটক করে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, শুধু তিনি নন, আরও অনেক চালক একই ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

মাইক্রোবাস মালিক সমিতি ও সিএনজি-মাহিন্দ্রা সমিতির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তময়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করলে তাদের গাড়িতে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনিয়ম দেখেও তারা চুপ থাকেন।

তাদের আরও অভিযোগ, শান্তময় দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য কর্মকর্তারা নিয়মিত বদলি হলেও তার বদলি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর মৃদুল কুরি বলেন, “এ সবের মধ্যে তিনি জড়িত নন।এ গুলো অবশ্যই অপরাধ। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।