বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: চারদিন আগে সন্তানকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন গৃহবধূ কোহিনূর। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন ও গুজব। কেউ বলেছিলেন তিনি নাকি পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন, আবার কেউ বলেছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছেন।কিন্তু সব গুজবের অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার (০৭ মার্চ) সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার মরদেহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই কোহিনূর নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের মন্তব্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে।
অবশেষে ৭ মার্চ শনিবার হাসপাতালের লিফটের নিচে তার মরদেহ পাওয়া গেলে পুরো ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই মরদেহটি সেখানে পড়ে ছিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—একটি ব্যস্ত সরকারি হাসপাতালের ভেতরে চারদিন ধরে একটি মরদেহ পড়ে থাকলেও তা কীভাবে কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি? হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকি ও দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এটি শুধু একটি রহস্যজনক মৃত্যু নয়; বরং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার বিষয়টিও সামনে এনে দিয়েছে।
এ ঘটনায় কোহিনূরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তারা বলছেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহবধূর এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা জানতে এখন অপেক্ষা তদন্তের ফলাফলের।




