চকরিয়া থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি চাকরি হলেও যেন দুর্নীতির অভিযোগে ঘেরা কক্সবাজারের চকরিয়া বিপিডিবি’র এক মিটার রিডার। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া, মিটার টেম্পারিং, বিল কারসাজি এবং গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মিটার রিডার নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিপুল অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার একটি চক্র গড়ে তুলেছেন নুর মোহাম্মদ। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। পাশাপাশি মিটার টেম্পারিং ও বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকেও নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি মালিক হয়েছে। যা তার সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
স্থানীয়রা জানান, চকরিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের কোচপাড়া এলাকায় নুর মোহাম্মদের একটি বহুতল ভবন রয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি চকরিয়া পৌর এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে সুদের ভিত্তিতে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলেও জানা গেছে।
এদের মধ্যে পৌরশহরের খোদারকুম এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে আমি নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে সুদের ভিত্তিতে ২১ লাখ টাকা নিয়েছিলাম।
অন্যদিকে, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী এডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য আমি নুর মোহাম্মদকে ১০ হাজার ২০০ টাকা দিই। পরে জমার স্লিপ চাইতে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে অফিসে গিয়ে জানতে পারি, তিনি বিল জমা করেননি। উল্টো আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং অশোভন আচরণ করেন।
এছাড়াও গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই মিটার রিডারের বিরুদ্ধে বলে দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, অতীতে কয়েকজন সাংবাদিকের কাছেও নুর মোহাম্মদ তার অনিয়মের কথা স্বীকার করেছিলেন। পরে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ঘুষের প্রস্তাবও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ বলেন, আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি।
জানতে চাইলে চকরিয়া বিপিডিবির সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ ব্যাপারী বলেন, গ্রাহকের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি এখন জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বলে জানান তিনি।




