দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের জেরে দুই সাংবাদিককে ব্লেড দিয়ে পোঁচ দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, হাসপাতাল পরিদর্শনে রোগীদের ভোগান্তি ও সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত অহিদুল ইসলাম চৌধুরী দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নেতা এবং স্থানীয়ভাবে সংসদ সদস্যের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের পর তিনি নিজেকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নেতা অহিদ পরিচয় দিয়ে দুই সাংবাদিককে ফোন করেন এবং বলেন, এমপির বিরুদ্ধে কোনো রোগী, চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম সাজ্জাদ চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক টিভি ও জিন্নাত আইয়ুব আঞ্চলিক পত্রিকায় কর্মরত। তাদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর তাদের হুমকি দেওয়া হয়। একটি অডিও রেকর্ডে অভিযুক্তকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে এবং ব্লেড দিয়ে পোঁচ দিয়ে হুমকি দিতে শোনা গেছে।
এ ঘটনায় একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ছাত্রদল নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কল রেকর্ড করতে বলেন এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় হুমকি দেন, ‘নেক্সট বারোত উল্টঅ পোল্টঅ নিউজ গরিলি পোনচাই ব্লেট মাইরজ্জুম।’
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাজ্জাদ বলেন, রোগীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংবাদ প্রকাশ করার পর স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আমাকে হুমকি দেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে এক ছাত্রদল নেতা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।
ঘটনার পর আনোয়ারায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে এ ধরনের হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা অহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। আমি বিশেষ করে আমার নেতা নিজাম সাহেব ও আমার দলকে নিয়ে যাতে আর মিথ্যা সংবাদ প্রচার না করে তার জন্য তাকে সাবধান করেছি। হুমকির বিষয়ে যদি কোনো ধরনের নিউজ করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




