দি ক্রাইম ডেস্ক: আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ আছে বলে দাবি করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এরপরও কাউন্সিলর না থাকায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সার্ভিস বঞ্চিত হওয়ায় এবং নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য নির্বাচন চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার দুপুরে নগরের হালিশহর এইচ ব্লক আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকরা মেয়রের কাছে জানতে চান, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চসিকের বর্তমান পর্ষদের (ষষ্ঠ) মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। ফলে আজ সোমবার থেকে তিনি (ডা. শাহাদাত) মেয়র নাকি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন? জবাবে ডা. শাহাদাত বলেন, আমি কোনো প্রশাসক না, মেয়র। বাংলাদেশে আমি একমাত্র মেয়র এবং সেটা কোর্টের রায়ে আমাকে ঘোষণা করেছে। এখানে কেউ আমাকে ঘোষণা করেনি, কোর্ট আমাকে অর্ডার দিয়েছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। কাজেই চাইলে আমি ২৯ সাল পর্যন্ত থাকতে পারব।

তিনি বলেন, আমার কনসার্ন মন্ত্রণালয়, মানে এলজিডি মিনিস্ট্রি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে অবশ্যই থাকতে হবে। আমি না থাকলে কর্পোরেশন চালাবে কে? শহরটা তো এতিম হয়ে যাবে। প্রশাসক দিতে পারবে না। কারণ প্রশাসককে বদলি করে আমি এসেছি। এখানে প্রশাসক ছিল, তাকে বদলি করে আমাকে মেয়র দেওয়া হয়েছে। কাজেই মেয়রের পরে আর প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। এখন আমি যদি ২৯ সাল পর্যন্ত থাকতে চাই, কোর্ট অর্ডারের (আদালতের আদেশ) ভিত্তিতে থাকতে পারব। কিন্তু জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসাবে আমি চাই একটা ট্রেডিবেল ইলেকশন হোক, যে নির্বাচনের প্রতীক্ষা আমি অনেক বছর ধরে করছি এবং আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই।

মেয়র বলেন, আমাকে যখন কোর্টের রায়টা দেওয়া হয়, সেটা আপনারা দেখেছেন। এটা ঐতিহাসিক রায় ছিল। ২০২১ সালে যখন নির্বাচন (চসিক) করি, আমাকে হাত–পা বেঁধে পুকুরে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়। আমার সমস্ত এজেন্ট ও নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। নির্বাচনের দিন আমার নিজের সেন্টার বিএড কলেজে ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম, আমার কিছু মেয়ে এজেন্ট ছিল, তাদেরকে মেরেছে, তারা আমার সামনে কান্নাকাটি করছে। সেখানে ঢাকা থেকে আসা একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ছিল। ওই যে একটা ভীতিকর পরিস্থিতিতে নির্বাচন, যেখানে নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল। ওই সময় আমি ফাইট করেছি। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ ইলেকশনের সময় আমাকে দুই মাস আগে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সমস্ত নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। আমীর খসরু চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান সবাইকে কিন্তু নির্যাতন করা হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, ২১ সালের নির্বাচনটা (চসিক নির্বাচন) আরো ভীতিকর ছিল। ওই জায়গায় তারা ইভিএমে ভোট করেছে, কিন্তু সেখানে ইভিএমের রেজাল্টের প্রিন্টেড কপি না দিয়ে হাতে লিখে দিয়েছে। এটাই আমি বলেছি, ‘ভাই হাতে লেখা কোনো রেজাল্ট আমি নিব না। তোমরা যদি আমাকে হারাতে চাও তাহলে প্রিন্টেড কপি দাও। এই প্রিন্টেড কপি দিয়ে যদি আমি হারি, আমি এই রেজাল্ট গ্রহণ করব।’

তিনি বলেন, আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। আপনারা দেখেছেন, মামলা করার এক সপ্তাহের মধ্যে আমাকে আমার হসপিটাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি রোগী দেখছি। রোগী দেখা অবস্থায় সমস্ত প্রশাসন, থানা মিলে ঘেরাও করে আমাকে গ্রেপ্তার করে। আমার পিএস মারুফ আমার সাথে কথা বলতে এসেছে, তাকেসহ জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।

মেয়র বলেন, তারা হার্ড ডিস্ক থেকে (ইভিএমের রেজাল্ট সংক্রান্ত) শুরু করে সব পুড়িয়ে ফেলেছে। যেদিন ইলেকশন হয়েছে তার ১৩ দিন পর রাতেই নাকি রেজাল্টসহ সব পুড়িয়ে ফেলেছে। রেজাল্টটা ইনশাআল্লাহ আমি পেয়েছিলাম কোর্টের মাধ্যমে। কোর্টের রায়টা এমন ছিল যে, রেজাউল করিমের যে টেনিউর (মেয়াদ) এটা কমপ্লিটলি অবৈধ। তার অর্থ হচ্ছে আমি যেদিন শপথ নিলাম সেদিন থেকে ৫ বছরের জন্য তারা আমাকে মনোনীত করেছে। দেখেন, আমাকে যে একটা ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেটাও কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আমাকে পাঁচ বছরের জন্য দিয়েছে। এটা কিন্তু দেড় বছরের জন্য দেয়নি।

তিনি বলেন, আমি নির্বাচনটা কেন চেয়েছি? আগামীকাল (আজ সোমবার) যেটা শেষ হবে সেটা আমার না, রেজাউল করিমের মেয়াদ শেষ। এটা একটা স্বৈরাচারী সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের টেনিউর শেষ হবে। আমার টেনিউর শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বরে, এর আগে নয়।

মেয়র বলেন, কেন বলেছি, আমি নির্বাচন চাই। এজন্য নির্বাচন চাই, ৩৯–৪০ আমার রাজনৈতিক জীবন হয়ে গেছে। আমার লাইফে একটা অনুশোচনা, আমি এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেডিবেল ইলেকশন ফেস করতে পারিনি, যেখানে জনগণ অত্যন্ত ফেস্টিভ মুডে, অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ‘আমার ভোট আমি দিব যাকে খুশি তাকে দিব’ এই মতবাদ ব্যক্ত করে ভোট দিবে। এই ধরনের পরিবেশ গত ১৬ বছর ছিল না। এই ১৬ বছর আমি যে দুটো নির্বাচন করেছি সেখানে নির্বাচনের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এজন্য আমি একটা নির্বাচন চাই, যেখানে আমার জনপ্রিয়তা আমি যাচাই করতে চাই। যাচাই করতে চাই জনগণ আমাকে কতটুকু ভালোবাসে। চট্টগ্রাম শহরে ২২ লক্ষ ভোটার আছে। এর মধ্যে কত পারসেন্ট লোক আমাকে চায়? এটাও তো আমার একটা প্রাপ্তির ব্যাপার। আমারও তো রাজনৈতিক জীবনে কিছু চাওয়ার আছে। আমি তো অনেক কিছু পেয়েছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় আমি সব পেয়েছি। কিন্তু এখন আমি এখনো জানি না যে, আমাকে শহরের কত লাখ মানুষ চায়। অথবা আদৌ চাই কিনা।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি আমি প্রার্থী হই তাহলে তফসিল ঘোষণা হলে অবশ্যই পদত্যাগ করব। যদি আমাকে দল প্রার্থী ঘোষণা করে তখন তো আমাকে অটোমেটিক্যালি পদত্যাগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, চসিকের ষষ্ঠ পর্ষদের প্রথম সভা হয়েছে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার আইনে বলা আছে, কর্পোরেশনের মেয়াদ হবে কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর। ওই হিসেবে ষষ্ঠ পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয় ২২ ফেব্রুয়ারি। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় চসিকের ষষ্ঠ পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাত ৯ জনকে বিবাদী করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিন ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে এ মামলার রায় দেন। ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ শেষে ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শাহাদাত।

দি ক্রাইম ডেস্ক: আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ আছে বলে দাবি করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এরপরও কাউন্সিলর না থাকায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সার্ভিস বঞ্চিত হওয়ায় এবং নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য নির্বাচন চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার দুপুরে নগরের হালিশহর এইচ ব্লক আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকরা মেয়রের কাছে জানতে চান, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চসিকের বর্তমান পর্ষদের (ষষ্ঠ) মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। ফলে আজ সোমবার থেকে তিনি (ডা. শাহাদাত) মেয়র নাকি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন? জবাবে ডা. শাহাদাত বলেন, আমি কোনো প্রশাসক না, মেয়র। বাংলাদেশে আমি একমাত্র মেয়র এবং সেটা কোর্টের রায়ে আমাকে ঘোষণা করেছে। এখানে কেউ আমাকে ঘোষণা করেনি, কোর্ট আমাকে অর্ডার দিয়েছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। কাজেই চাইলে আমি ২৯ সাল পর্যন্ত থাকতে পারব।

তিনি বলেন, আমার কনসার্ন মন্ত্রণালয়, মানে এলজিডি মিনিস্ট্রি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে অবশ্যই থাকতে হবে। আমি না থাকলে কর্পোরেশন চালাবে কে? শহরটা তো এতিম হয়ে যাবে। প্রশাসক দিতে পারবে না। কারণ প্রশাসককে বদলি করে আমি এসেছি। এখানে প্রশাসক ছিল, তাকে বদলি করে আমাকে মেয়র দেওয়া হয়েছে। কাজেই মেয়রের পরে আর প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। এখন আমি যদি ২৯ সাল পর্যন্ত থাকতে চাই, কোর্ট অর্ডারের (আদালতের আদেশ) ভিত্তিতে থাকতে পারব। কিন্তু জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসাবে আমি চাই একটা ট্রেডিবেল ইলেকশন হোক, যে নির্বাচনের প্রতীক্ষা আমি অনেক বছর ধরে করছি এবং আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই।

মেয়র বলেন, আমাকে যখন কোর্টের রায়টা দেওয়া হয়, সেটা আপনারা দেখেছেন। এটা ঐতিহাসিক রায় ছিল। ২০২১ সালে যখন নির্বাচন (চসিক) করি, আমাকে হাত–পা বেঁধে পুকুরে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়। আমার সমস্ত এজেন্ট ও নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। নির্বাচনের দিন আমার নিজের সেন্টার বিএড কলেজে ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম, আমার কিছু মেয়ে এজেন্ট ছিল, তাদেরকে মেরেছে, তারা আমার সামনে কান্নাকাটি করছে। সেখানে ঢাকা থেকে আসা একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ছিল। ওই যে একটা ভীতিকর পরিস্থিতিতে নির্বাচন, যেখানে নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল। ওই সময় আমি ফাইট করেছি। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ ইলেকশনের সময় আমাকে দুই মাস আগে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সমস্ত নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। আমীর খসরু চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান সবাইকে কিন্তু নির্যাতন করা হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, ২১ সালের নির্বাচনটা (চসিক নির্বাচন) আরো ভীতিকর ছিল। ওই জায়গায় তারা ইভিএমে ভোট করেছে, কিন্তু সেখানে ইভিএমের রেজাল্টের প্রিন্টেড কপি না দিয়ে হাতে লিখে দিয়েছে। এটাই আমি বলেছি, ‘ভাই হাতে লেখা কোনো রেজাল্ট আমি নিব না। তোমরা যদি আমাকে হারাতে চাও তাহলে প্রিন্টেড কপি দাও। এই প্রিন্টেড কপি দিয়ে যদি আমি হারি, আমি এই রেজাল্ট গ্রহণ করব।’

তিনি বলেন, আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। আপনারা দেখেছেন, মামলা করার এক সপ্তাহের মধ্যে আমাকে আমার হসপিটাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি রোগী দেখছি। রোগী দেখা অবস্থায় সমস্ত প্রশাসন, থানা মিলে ঘেরাও করে আমাকে গ্রেপ্তার করে। আমার পিএস মারুফ আমার সাথে কথা বলতে এসেছে, তাকেসহ জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।

মেয়র বলেন, তারা হার্ড ডিস্ক থেকে (ইভিএমের রেজাল্ট সংক্রান্ত) শুরু করে সব পুড়িয়ে ফেলেছে। যেদিন ইলেকশন হয়েছে তার ১৩ দিন পর রাতেই নাকি রেজাল্টসহ সব পুড়িয়ে ফেলেছে। রেজাল্টটা ইনশাআল্লাহ আমি পেয়েছিলাম কোর্টের মাধ্যমে। কোর্টের রায়টা এমন ছিল যে, রেজাউল করিমের যে টেনিউর (মেয়াদ) এটা কমপ্লিটলি অবৈধ। তার অর্থ হচ্ছে আমি যেদিন শপথ নিলাম সেদিন থেকে ৫ বছরের জন্য তারা আমাকে মনোনীত করেছে। দেখেন, আমাকে যে একটা ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেটাও কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আমাকে পাঁচ বছরের জন্য দিয়েছে। এটা কিন্তু দেড় বছরের জন্য দেয়নি।

তিনি বলেন, আমি নির্বাচনটা কেন চেয়েছি? আগামীকাল (আজ সোমবার) যেটা শেষ হবে সেটা আমার না, রেজাউল করিমের মেয়াদ শেষ। এটা একটা স্বৈরাচারী সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের টেনিউর শেষ হবে। আমার টেনিউর শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বরে, এর আগে নয়।

মেয়র বলেন, কেন বলেছি, আমি নির্বাচন চাই। এজন্য নির্বাচন চাই, ৩৯–৪০ আমার রাজনৈতিক জীবন হয়ে গেছে। আমার লাইফে একটা অনুশোচনা, আমি এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেডিবেল ইলেকশন ফেস করতে পারিনি, যেখানে জনগণ অত্যন্ত ফেস্টিভ মুডে, অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ‘আমার ভোট আমি দিব যাকে খুশি তাকে দিব’ এই মতবাদ ব্যক্ত করে ভোট দিবে। এই ধরনের পরিবেশ গত ১৬ বছর ছিল না। এই ১৬ বছর আমি যে দুটো নির্বাচন করেছি সেখানে নির্বাচনের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এজন্য আমি একটা নির্বাচন চাই, যেখানে আমার জনপ্রিয়তা আমি যাচাই করতে চাই। যাচাই করতে চাই জনগণ আমাকে কতটুকু ভালোবাসে। চট্টগ্রাম শহরে ২২ লক্ষ ভোটার আছে। এর মধ্যে কত পারসেন্ট লোক আমাকে চায়? এটাও তো আমার একটা প্রাপ্তির ব্যাপার। আমারও তো রাজনৈতিক জীবনে কিছু চাওয়ার আছে। আমি তো অনেক কিছু পেয়েছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় আমি সব পেয়েছি। কিন্তু এখন আমি এখনো জানি না যে, আমাকে শহরের কত লাখ মানুষ চায়। অথবা আদৌ চাই কিনা।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি আমি প্রার্থী হই তাহলে তফসিল ঘোষণা হলে অবশ্যই পদত্যাগ করব। যদি আমাকে দল প্রার্থী ঘোষণা করে তখন তো আমাকে অটোমেটিক্যালি পদত্যাগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, চসিকের ষষ্ঠ পর্ষদের প্রথম সভা হয়েছে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার আইনে বলা আছে, কর্পোরেশনের মেয়াদ হবে কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর। ওই হিসেবে ষষ্ঠ পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয় ২২ ফেব্রুয়ারি। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় চসিকের ষষ্ঠ পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাত ৯ জনকে বিবাদী করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিন ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে এ মামলার রায় দেন। ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ শেষে ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শাহাদাত।