সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়ায় মহাসড়ক পার হওয়ার প্রাক্কালে বাসের ধাক্কায় ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আহতের ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আজরোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট বাজারের অদূরে খুনি বটতল নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী হলেন কারীনা কালাম ঐশি (১৫)। সে সাতকানিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের প্রবাসী আবুল কালামের মেয়ে।
এঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। ফলে মহাসড়কে প্রায় আধ ঘণ্টা যানবাহন বন্ধ থাকায় যাত্রী ও মহাসড়কে চলাচলরতদের দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। পরে পুলিশ এসে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায় , আহত ঐশী নিজ বাড়ি থেকে গাড়িতে করে এসে রাস্তা পার হওয়ার জন্য মহাসড়কের পূর্ব পাশে দাঁড়ায়। এ সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী মারছা পরিবহনের দ্রুতগামীর একটি বাস (চট্টমেট্টো-ব ১১-১১৭৬) অপর একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী ঐশীকে ধাক্কা দেয়। এসময় ঐশি গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল, পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে ঐশি চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে প্রায় আধ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কে যাত্রী ও চলাচলরতদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাতকানিয়া থানা, দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং সাতকানিয়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে পুলিশ ঘটনার সুরাহার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে মারছা পরিবহন চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং স্কুলের সামনে দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করতে হবে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
সাতকানিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসাইন আল হিশাম মুহাম্মদ জাবেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা স্কুলের সামনে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে একটি স্পিড ব্রেকার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্কুল শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পরপর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করে অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




