ক্রাইম প্রতিবেদক: বর্ণিল নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বহুল প্রতিক্ষিত তিন দিন ব্যাপী পটিয়া উৎসব আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ব্যাতিক্রমী এ আয়োজন উদ্বোধন করেন।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি।
ঐতিহ্যবাহী পটিয়ার শতবর্ষের বিভিন্ন পেশায় অবদান কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ৭৮ জনকে পটিয়ার রত্ন ঘোষনা করে স্বর্ণ পদক ও স্বর্ণ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। পটিয়া ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে তিন দিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন অনুষ্ঠানে জাঁকজমক ভাবে অংশ নেন।
৩২ জনকে মরনোত্তর তাদের প্রতিনিধিদের হাতে পটিয়া রত্ন স্বর্ণ স্বারক তুলে দেওয়ার আগে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি বলেন, মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সব পেশর শ্রেষ্ট সন্তানদেরও সম্মাননা স্বীকৃতি দিয়ে পটিয়াবাসীর এ আয়োজন এবং উপস্থিতি সারা দেশের মানুষকে উৎসাহিত করবে। এ ধরনের উৎসাহমুলক অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সঠিক ইতিহাস বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট এলাকার কৃতি সন্তানদের সম্মাননা নতুন প্রজন্ম প্রভাবিত হবে। দেশ ও জাতি গঠনে তাদের অবদানের স্মৃকিতি পরিবারগুলোকে যেমন গর্বিত করেছে তেমনি আমাদের নগরিক দায়িত্বও পালন হয়েছে। তিনি এজন্য উৎসবের আদলে কৃতিজনদের সম্মননা অনুষ্ঠান আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
পটিয়া উৎসব উৎযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তিনদিনের প্রথমদিনে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি।
বক্তব্য রাখেন, উৎসব কমিটির কো- চেয়ারম্যান কবি সাংবাদিক রাশেদ রউফ, উৎসব কমিটির সচিব মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম. শামসুজ্জামান, পটিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন।
উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার ছালেহ মো. তানভীর, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, দক্ষিণ জেলা আলীগের সদস্য বিজন চক্রবর্ত্তী, পটিয়া পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বাবুল।
প্রধান অতিথি সম্মাননার তালিকায় ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা দেশের বরেণ্যজনদেও নাম দেখে অভিভুত হয়ে বলেন, পটিয়ার ইতিহাস অনেক গৌরবের। এখানে অনেক কৃতিজনের জন্মস্থান তাদেও স্মাননা এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, পটিয়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক কারন সারা দেশে উন্নয়নের রোল মডেলে পটিয়াকে বাদ দেয়া যায়না। পটিয়া বাসীর সকলের সহযোগীতা থাকলে তাদেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে বর্তমান নেতৃত্বেই কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, সম্মাননা প্রদানের আগে প্রধান অতিথি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে তিন দিন ব্যাপী পটিয়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বিকেলে দ্বিতীয় পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আকাশে বর্ণিল আলোকজ্জল দৃষ্টিনন্দন ৫০ টি আতশবাজি উৎক্ষেপন করা হয়। বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও পটিয়অর নগরবাসী এ আতশবাজি উৎক্ষেপন উপভোগ করেন। আজ বুধবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে পটিয়ার বিশিষ্ট ১১ গুনীজনকে “পটিয়া রত্ন” ঘোষনা করে স্বর্ণ পদক সম্মাননা প্রদান করা হবে। এ অনুষ্ঠানে বিকেল তিনটায় পটিয়া হাই স্কুল মাঠে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি।



