মিরসরাই প্রতিনিধি: মিরসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহি হযরত আলহাজ্ব সৈয়দ শাহ সূফী আবদুল লতিফ আমানটুলী (রহ.) এবং তদীয় পীর হযরত আলহাজ্ব সৈয়দ শাহ সূফী হাফিজ উল্লাহ রেঙ্গুনী (রহ.) এর ইছালে সওয়াব মাহফিল ও উরস মোবারক আগামীকাল ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতি বছর এইদিনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিশ্ব দরবার কমপ্লেক্সের দুইদিন ব্যাপী উরসে দেশ বিদেশের অসংখ্য ভক্ত আশেকান জমায়েত হন।
বিশ্ব দরবার কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন জানান, ইছালে সওয়াব মাহফিল ও উরস মোবারক দুইদিন ব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বাদ ফজর যিকির-এ জ¦লি, বাদ জোহর খতমে কুরআন, বাদ আছর মোলাকাত ও রওজা আকদাস জিয়ারত, বাদ মাগরিব যিকির-এ জ্বলি, মহিলা ও শিশুদের নেয়াজ বিতরণ, বাদ এশা ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল শেষে মুনাজাত নিয়াজ বিতরণ শেষে দুই দিনব্যাপী উরস মোবারক সম্পন্ন হবে।
প্রসঙ্গত: মিরসরাই উপজেলার ৯নং ইউনিয়নে বিশ্ব দরবার কমপ্লেক্স অবস্থিত। রেঙ্গুন থেকে ধর্মীয় প্রচার ও প্রসারের জন্য এখানে এসে জীবন সায়াহেৃ সমাহিত হন হযরত আলহাজ¦ সৈয়দ শাহ সূফী হাফিজ উল্লাহ রেঙ্গুনী (রহ.)। পরবর্তীতে উনার উত্তরসূরী হন হযরত আলহাজ¦ সৈয়দ শাহ সূফী আবদুল লতিফ আমানটুলী (রহ.)। বংশ পরম্পরায় বর্তমান সাজ্জাদানশীন সৈয়দ শাহ সূফী তাজ ইসলাম মনবতার কল্যাণে এখানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
এদের আধ্যাত্মিক সাধনায় দেশ বিদেশের হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হন। তাদের কাছে ভক্তি ও ভালবাসার তীর্থস্থানে পরিনত হয় বিশ^দরবার কমপ্লেক্স। তারা এখানে এসে মুসাফির খানায় অলীর সার্নিধ্যে এসে আত্মর প্রশান্তি লাভ করেন। ৯৮ বছর ধরে এখানে চলছে মানবতার কল্যাণে অসংখ্য মানবিক কাজ। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ^ দরবার কমপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার মানুষের কাছে বিভিন্ন সেবামূলক কাজের জন্য পরিচিতি লাভ করে। বিশ্ব দরবার কমপ্লেক্সের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে বিশ্ব দরবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়। মিরসরাই উপজেলা ব্যাপী শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে অনাথ, এতিম অসহায় শিশুরা উন্নত পরিবেশে লেখাপড়া করে প্রতি বছর এসএসসিতে উপজেলা পর্যায়ে প্রথমস্থান অর্জন করে দেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার স্বাক্ষর রাখছে।
রয়েছে লঙ্গর খানা। প্রতি বেলা খানার সময় হলে এখানে “খানেওয়ালা হাজির” বলে ডেকে ডেকে খাওয়ানো হয়। দরবার কর্তৃপক্ষ জানান, এখানে শুরু থেকে এ খানার ডাক চলমান রয়েছে। কখনো চুলার আগুন নিভানো হয়না।
এছাড়া এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফোরকানিয়া মাদরাসা, দাফন ও কবরস্থান ব্যবস্থা, গণ পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, শিশু সদন, মসজিদ, মুসাফির খানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহ এই কমপ্লেক্স দ্বারা যুগ যুগ ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।



