নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাকলিয়া ১৭ নং ওয়ার্ড অফিসে কম্পিউটর অপারেটর না থাকায় সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাচ্ছে জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট নিতে আসা এলাকার লোকজন।এখানে দৈনন্দিন মানুষের ভিড় লেগেই থাকছে তাদের কাঙ্ক্ষিত নিবন্ধন সার্টিফিকেট পেতে।
গত ২০০১ সাল ও তার পরে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। তাতে মা-বাবার জন্ম নিবন্ধনের নম্বরও দিতে হয়। সে কারণে বর্তমানে কোনো শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন থাকাটা আবশ্যক। এর আগে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই যে কারও জন্ম নিবন্ধন করা যেত। গত ১ জানুয়ারি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় স্কুলে ভর্তির জন্য সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে আটকা পড়েন অনেক বাবা-মা। আগে তাদের জন্ম নিবন্ধন করতে হয়, তারপরে হয় সন্তানের জন্ম সনদ এক্ষেত্রে অনেকটা পুরো পরিবারের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড এ হিমশিম খাচ্ছে নগরবাসি। সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩/৪ গুন হারে এ কাজের চাপ বাড়ছে।
শুধুমাত্র, এ জন্মনিবন্ধন সার্টিকেটের কাজের জন্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমোদন ও পাসওয়ার্ড প্রদান সাপেক্ষে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রতিটি ওয়ার্ডে দৈনিক বেতন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে লোক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এ অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রেও রয়েছে আবার নানান পদ্ধতিগত জটিলতা। এ কারণে যেসব ওয়ার্ডে কম্পিটার অপারেটর নেই,সে সব ওয়ার্ডে জন্মনিবন্ধন সার্টিকেটের আবেদনের স্তুপ পড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।আর দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কিংবা তারো অধিক সময়েও কাঙ্ক্ষিত জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। বাকলিয়া ১৭ নং ওয়ার্ডে ১ ফেব্রুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত এখনো কোন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং কবে নাগাদ নিয়োগ দেওয়া হবে তাও কেউ সঠিক করে বলতে পারছেন না। কিন্তু বিভিন্ন কাজে এ জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেটের কারণে ১৭ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসি নানা সমস্যায় ভুগছেন।
বাকলিয়া ১৭ং ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী শিখা দত্ত আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের কাজ এলাকাবাসীর সেবা দেওয়া। কিন্তু কম্পিউটার অপারেটর না থাকায় এসব সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমাদের কিছুই করার থাকছে না। প্রতিদিন জন্মনিবন্ধন আবেদনের ফাইল বাড়ছে। কিন্তু কাউকেও সার্টিফিকেট দিতে পারছি না। এতে অনেকে বুঝে,আবার অনেকে না বুঝে আমাদের উপর মনক্ষুন্ন হন। আমাদের ওয়ার্ডে চলমান কার্যক্রমের মধ্যে হঠাৎ করে কম্পিউটার অপারেটর টিংকু দাস নামের অপারেটর চাকুরি ছেড়ে দেওয়ার কারণে আজকে পর্যন্ত ২ হাজারের মতো আবেদন জমা পড়ে আছে। অপারেটর নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আর আবেদন জমা নেবো না।
এ ব্যাপারে বাকলিয়া ১৭নং ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,তার ওয়ার্ডে কম্পিউটর অপারেটর নিয়োগের জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চসিক কর্তৃক শীঘ্রই কম্পিউটর অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে এ জটিলতা সহসা কেটে উঠা যাবে।
Post Views: 770



