নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরীর বন্দর টোল রোড ও রেললাইনের মধ্যবর্তী এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিতে শুধু শাক আর শাক। ফুলকপি বাঁধাকপি শিম, বেগুনসহ শীতকালীন অন্য সবজি তেমন একটা নেই। কিছু টমেটোর চাষ রয়েছে। বেশির ভাগ জমি লাল শাক, পালং শাক, ডাটা শাক, মুলা শাক, সরিষা শাকসহ বিভিন্ন রকমের শাকে পরিপূর্ণ। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার মতোই কংক্রিটের নগরীতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ফসল ফলিয়ে যাচ্ছেন নগরীর উত্তর কাট্টলী উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা।
নিচু জমি হওয়ার কারণে এখানে শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষ করা প্রায় দুরূহ। আছে আরও নানাবিধ সমস্যা। তবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে রাজি নন এখানকার কৃষকরা। সবজি চাষ কমিয়ে দিয়ে শুরু করলেন শাকের আবাদ। আর তাতেই যেন বাজিমাত। শুধুমাত্র বিভিন্ন রকমের শাক চাষ করেই সফল তারা। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত এক একজন কৃষক প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন শাক বিক্রি করে। মহেশ খালের উত্তর পাশ থেকে উত্তর কাট্টলী পর্যন্ত এ এলাকায় প্রায় ৮০ একর জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি মৌসুমি শাক—সবজির চাষ হয়ে থাকে।
ডবলমুরিং থানার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র দত্ত বলেন, নগর উপকূলবর্তী অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখানকার জমি কিছুটা নিচু। শীতকালীন সবজি চাষ করা কৃষকদের জন্য কিছু কষ্টকর। শাক চাষে পরিশ্রম ও পুঁজি দু’টাই তুলনামূলক কম। এছাড়া বাজারে এখন শাকের চাহিদা প্রচুর। তাই এখানকার কৃষকরা সবজি চাষের চেয়ে শাক উৎপাদনই বেশি করে। তবে বর্ষা মৌসুমে ধানচাষসহ অন্যান্য ফসলও আবাদ হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
গত দুই দিন সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মজুরদের সাথে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এদের কেউ শাক তুলে বাজারজাত করছেন, কেউ শাকের জমি পরিচর্যা করছেন, আর কেউবা শাক চাষের জন্য জমি তৈরি করছেন। এদের একজন মো. ইলিয়াছ পাট শাক চাষের জন্য জমি তৈরিতে ব্যস্ত। নিজেই হাল নিয়ে জমির পাড় বানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, শীত মৌসুমে এবার শাকের চাষ করেছি। কিছু জমিতে টমোটো চাষ করলেও এখনও ফলন আসেনি। এরমধ্যে লক্ষাধিক টাকার লাল শাক, পালং শাক, লাউ শাক ও কুমড়ো শাক এ চার প্রকারের শাক বাজারজাত করেছি। এখন পাট শাকের জন্য জমি তৈরির কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, এখানকার জমিগুলো নিচু হওয়ায় শীতকালীন সবজি তেমন ভাল হয় না। চাষের জন্য ভাল পানিও নেই। লবণাক্ত পানি জমিতে দিলে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। এখানকার কৃষকরা তাই সবজি চাষেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বর্তমানে প্রায় এক একর জমিতে চাষাবাদ করছি।
শুধু ইলিয়াছ নয়, এ এলাকার সিরাজ, ফরিদ মাঝি, মঈনুদ্দিন, আনিস, কামালসহ প্রায় প্রত্যেক কৃষকের বেশিরভাগ জমি শাকে পরিপূর্ণ। কিছু জমিতে টমেটো, মরিচ, শালগমসহ অন্যান্য সবজি থাকলেও তা খুবই কম।



