এস এম আকাশ: চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ১৮ বাহিনীর ৫০ জলদস্যু বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্র জমা দিয়ে অন্ধকার থেকে আলোর জীবন ফিরতে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা জলদস্যু রয়েছেন।এই জলদস্যুরা একনালা বন্দুক ৩৫ টি, এসবিবিএল ১৮ টি,ওয়ান শুটার গান ১৭ টি, দুইনালা বন্দুক ১টি, পিস্তল ১টি, রিভালভার ১টি,বিদেশী পিস্তল ৩টি,এসএমজি ১টি, এয়ারগান ২টিসহ মোট ৯০ টি অস্ত্র জমা দিয়েছেন। চারটি ওয়াকিটকি জমা দিয়েছেন। এছাড়া গুলি ও কার্তুজ ২৮৩ রাউন্ড জমা দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে নগরীর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭) এর সদর দপ্তর মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালে উপস্থিতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। এ উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান।

র্যাব জানায়,আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী,সাংসদ,সংস্থার মহাপরিচালক খুরশিদ হোসেন,পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নুরে আলম মিনা,কোস্টগার্ডের প্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করবে জলদস্যুরা। চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলের চিহ্নিত অস্ত্রের কারিগর ও কুখ্যাত ১৮টি বাহিনীর ৫০ জন জলদস্যু সদলবলে আত্মসমর্পণ করবে। এটি চতুর্থবারের মতো। এবারের ৫০ জনসহ মোট ২১৩ জন জলদস্যু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল থেকে সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানান মধ্যস্থতাকারী মীর মোহাম্মদ আকরাম হোসাইন।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার বাঁশখালী,চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর নেতা ও সদস্য। এসব বাহিনীর সব অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সদলবলে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাছে আত্মসমর্পণের ফলে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যুতায় নিয়োজিত অন্যান্য জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দারুণভাবে উৎসাহিত হবে।

র্যাব আরো জানায়,বাঁশখালী,চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জলদস্যু অথবা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে র্যাব-৭-এর ধারাবাহিক অভিযান সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
র্যাব-৭ কর্মকর্তারা বলছেন, আজকে পর্যন্ত র্যাব-৭ এর কাছে বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ৩৪২ জন কুখ্যাত জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করে। এ সময় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বমোট ২,৬০৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ ২৯,১২৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।

এ ছাড়া গত ২০১৮ এবং ২০২০ সালে ৭৭ জন জলদস্যু র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে সরকারি ও বেসরকারি প্রণোদনায় পুনর্বাসিত হয়। যার ফলে বাঁশখালী,চকরিয়া,পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।




