* সরব প্রচারণা চলছে সর্বত্র
* পক্ষপাতের অভিযোগ দুই ওসির বিরুদ্ধে
বিশেষ প্রতিবেদক: প্রথমে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন ৬জন। সর্বশেষ প্রত্যাহারের দিন তিন প্রার্থী আবুল কালাম চৌধুরী ডাঃ নাসির উদ্দীন মাহমুদ ও ছাবের আহমদ চৌধুরী নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান বা মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। সর্বশেষ নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকেন তিন প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী এমএ মান্নান চৌধুরী ও কাজী মোজাম্মেল হক। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে তিন প্রার্থী কোমড় বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন। একই সাথে কর্মী সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই।
গণসংযোগে মিছিলে মিছিলে তারাও নির্বাচনী মাঠ গরম করে তুলেন। রাতদিন সমানতালে প্রচারণা চালাতে থাকেন। যা দেখার মতো প্রচারণা। ভোটাররা ভাবছেন মনে হয় বহু বছর পর তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনী মাঠের প্রভাবশালী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মান্নান চৌধুরী হঠাৎ অদৃশ্য চাপের মুখে বা নিজের খেয়াল খুশি মতো মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন। এঘটনার পর ভোটাররা মনে করতে শুরু করেন এই হচ্ছে মাঠের রাজনীতির খেলা। ক্ষমতা ঠিকিয়ে রাখার খেলা।
রাজনীতির মাঠে ঠিকে থাকার খেলা। জনগণ ঠিকই বুঝে এসব মন্তব্য করতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ভোটার সচেতন লোকজন। লোকজন বা ভোটাররা আগামী ২৯ মে নির্বাচনের দিন সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে ভোট দিলে উন্নয়ন পাবেন সহযোগিতা পাবেন দুঃখের সময়ে কাছে পাবেন। আবার অনেক ভোটার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন কাকে ভোটটি দিতে পারবেন। প্রশাসন অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে ভোটের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারবেন কিনা ভোটাররা ওইদিন সকালে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে পারবেন কিনা এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা আঙ্গুল তুলে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন প্রশাসনের দিকে।
ওসি
সোহেল আহমদ এর বিরুদ্ধে আনা হয় পক্ষপাতের অভিযোগ। একই অভিযোগ আনা হয় ওসি (তদন্ত) মহিউদ্দীন আহমদ এর বিরুদ্ধেও। নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা ও আনোয়ারা থেকে প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন এক প্রার্থী। সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মোজাম্মেল হকের ভোটার সমর্থকরা ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন,হঠাৎ নির্বাচনের মাঠ থেকে এমএ মান্নান চৌধুরীকে সরে যেতে বাধ্য করায় ভোটের আলাদা একটি পরিবেশ হিসেব নিকাশ সৃষ্টি হতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন ভোটারা। শঙ্কা জাগতেও শুরু করেছে ভোটের মাঠে ভোটারদের মধ্যে।
এলাকার সাধারণ জনগণ ভোটারগণ মনে করছে, আনারস প্রতীকের প্রার্থীকে চলে বলে কৌশলে হারিয়ে দেয়ার জন্য প্রতিপক্ষের লোকজন কৌশল ঠিক করতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকে। কেউ কেউ হাঙ্গামা সৃষ্টির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও মনে করছেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম শফিউল্লাহ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, ভোট অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ পরিবেশে করার জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হচ্ছে। এতে আতঙ্ক হওয়ার ভাবার কোন কারন নেই বলে জানান তিনি।
স্থানীয় লোকজন বলেছেন, দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী ভোটের মাঠে বলে বেড়াচ্ছেন তিনি নাকি মরহুম বাবু পরিবারের সম্মান রাখার জন্য ভোটে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে বলেছেন, তার কোন অভিভাবক নেই কেউ প্রার্থী হয়েছেন মন্ত্রীর সমর্থন নিয়ে আর কেউ হয়েছেন এমপির সমর্থন নিয়ে প্রার্থী। তিনি কারো প্রার্থী নন বরং জনগনের প্রার্থী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন ওই মতবিনিময় সভায়। তিনি ওই মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সহযোগিতাও চেয়েছেন। হঠাৎ তিনি সুর পাল্টে বলতে শুরু করেছেন মরহুম বাবু পরিবারের কথা সম্মান রক্ষার কথা।
ভোটের মাঠে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাঠ অনেকটা উত্তাপে পরিণত হতে যাচ্ছে। ভোটের আগের দিন পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে। সর্বত্র সরব হতে শুরু করেছে ভোটের মাঠ। পুরো আনোয়ারার অলিগলি ও ঘরে বাইরে আলোচনা চলছে ভোটের। সর্বত্র ছেয়ে গেছে ভোটের পোষ্টার ব্যানার। মাইকিংয়ে প্রচারণা চলছে জোরে শোরে। অমুক ভাই এগিয়ে চলো আমি আছি তোমার সাথে, অমুক ভাই ভাল মানুষ তাকে তুমি ভোটটি দিও। এভাবে চলছে ভোটের প্রচারণা। মাঝখানে ভোটের জোর একটু কম দেখা গেলেও বর্তমান চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী জোর একটু বেড়ে গেছে। এমএ মান্নান চৌধুরী হঠাৎ ভোটের মাঠ থেকে প্রত্যাহারের ঘোষনা দিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ায় তৌহিদুল হক চৌধুরীর কোমড়ে শক্তি বেড়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন মাঠের লোকজন। তবে অনেক ভোটার মন্তব্য করে বলেছেন,কাজী মোজাম্মেল হক দক্ষ কৌশলী রাজনীতিবিদ পাকা খেলোয়াড় এবং উচ্চ শিক্ষিত কাজী বংশের লোক।
ভোটের মাঠে রাজনীতির মাঠে তাকে বহু নির্যাতন করা হয়েছে। পদ কেড়ে নিয়েছে, মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানো হয়েছে। তারপরও তিনি দমানোর পাত্র নন। জনবিচ্ছিন্ন হননি, মাঠ ছেড়ে যাননি। জনগণের মধ্যে ভোটারদের কাছে তার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।
আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে কাজী মোজাম্মেল হক ও তৌহিদুল হক চৌধুরী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুগ্রীব মজুমদার দোলন (তালা) আবু জাফর চৌধুরী (পাখি) সালাউদ্দীন সারো (টিউবওয়েল) আবদুল মান্নান মান্না (চশমা), প্রদীপ দত্ত কনক (মাইক), সন্তোষ কুমার দে (বই), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম (ফুটবল), পারভিন আকতার (কলসি) ও এডভোকেট চুমকি চৌধুরী (হাঁস) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। মোট ভোটার রয়েছে ২লাখ ৩৩ হাজার ১০ ভোট। তম্মধ্যে পুরুষ ১লাখ ২৩ হাজার ৮৮৮জন ও মহিলা ভোটার ১লাখ ৯হাজার ২২১জন। ভোট কেন্দ্র আছে ৭৪টি।
ভোটার ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে থেকে দুই ওসি সোহেল আহমদ ও ওসি (তদন্ত) মহিউদ্দীন আহমদ এর মনোভাব আচার আচারণ নিরপেক্ষ নন। এই দুই ওসির বিরুদ্ধে আনা হয় গুরুতর পক্ষপাতের অভিযোগ। সন্ধ্যা হলে থানা ও থানার আশপাশে দালালদের আনাগোনা ও হাট বসে বলে জানিয়েছেন নির্যাতিত অনেকে। আদালতের আইন অমান্যের অভিযোগও আছে এই দুই ওসির বিরুদ্ধে।




