ক্রাফু মারমা: দুর্গম পাহাড়ের মাঝ দিয়ে খাড়া সিঁড়ি। সেই পথ ধরে উঠতে হয় খাগড়াছড়ি হাতিমাথা পাহাড়ের চূড়ায়। স্থানীয়দের কাছে সেটি পরিচিত স্বর্গের সিঁড়ি নামে। ‘ও তুই লাল পাহাড়ির দেশে যা, ও তুই রাঙামাটির দেশে যা, এখানে তোকে মানাইছে নাই রে, ইক্কেবারেই মানাইছে নাই রে’। যেতে পারেন খাগড়াছড়ির যেসব দর্শনীয় জায়গায়।এর মধ্যে অন্যতম ‘মায়ুং কপাল’ বা ‘হাতিমুড়া’। ত্রিপুরাদের কাছে এটি ‘এদো সিরে মন’ বলে পরিচিত আর হাতির মাথার মতো দেখতে বলে পর্যটকরা এটিকে বলেন ‘হাতিমাথা’। ঢাকা-চিটাগং হাইওয়ের মিরসরাই করেরহাট থেকে বাঁ দিকে মোড় নিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা শুরু। এই রাস্তা ধরে সাড়ে ৩ ঘণ্টার রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর।

এই লোকালয়ের পথে চলতে চলতে চোখ পড়বে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা, খাবার আর সংস্কৃতি। পাহাড়ি বাচ্চারা ছোটাছুটি করছে, পাশের ফাঁকা জমিতে নারীরা জুম চাষ করছেন, গাছে গাছে নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর। পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে যতটা কষ্ট হবে তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক প্রশান্তি পাবেন প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য উপভোগ করে।

চলার পথে ২-৩টি বাঁশের সাঁকো পেরোনোর পর উঁচু-নিচু পাহাড় দেখা যাবে। মনে হবে গন্তব্যের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। পাহাড়ে পথ খুব কাছে মনে হলেও হেঁটে যেতে বেশ সময় লাগে।

চোখে পড়বে এখানকার মানুষের সংগ্রামী জীবন। কত কষ্ট করে তারা পাহাড়ের বুক চিরে ফসল ফলান, সেই ফসল নিজেরা খান আর কিছু বিক্রি করে সংসার চালান। মনটা বিষণ্ন হলেও চোখ ঘুরিয়ে প্রকৃতির মায়ায় পড়বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠলে খাগড়াছড়ি শহরটা স্পষ্ট দেখা যাবে। চারদিকে সবুজ আর সবুজ। ওপরের আকাশটা মেঘে ঢাকা, কখনও মেঘ কেটে নীলিমা উঁকি দিবে। সেখানে ডাব আর পাহাড়ি নানা ধরণের ফল পাবেন।

অবশ্যই পাহাড়ে ঘুরতে গেলে হালকা জামাকাপড় পরা উচিত। ট্র্যাকিংয়ের জন্য ভালো গ্রিপওয়ালা জুতা নিতে ভুলবেন না। দূর থেকে চোখে পড়ল কাঙ্ক্ষিত হাতিমাথা। চলার পথের দুই পাশেও পাহাড় আর পাহাড়। এর ভেতরেও আদিবাসী নারী-পুরুষকে কাজ করতে দেখা যাবে। চোখ জুড়িয়ে যাবে জুম চাষ দেখে। ধান, কলা, আনারস থেকে শুরু করে শাকসবজিও চাষ হয় এত উঁচু পাহাড়ে।

হাতিমাথা কাছ থেকে দেখেই লাফিয়ে উঠবেন। সম্ভবত পাহাড়ের ওপর এত সুন্দর সিঁড়ি দেশে আর কোথাও নেই। অনেকের কাছে এটি স্বর্গের সিঁড়ি হিসেবেও পরিচিত। বহু নামের অধিকারী হাতিমাথা পাহাড়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অনেক গ্রামের বাসিন্দা চলাচল করেন। গ্রামবাসীর চলাচলকে সুবিধাজনক করতে এই পাহাড়ে ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি তৈরি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

উচ্চতা ভীতি থাকার পরও শক্ত হাতে রেলিং ধরে নিচে না তাকানোর চেষ্টা করবেন। একেবারে শেষভাগে এসে খাড়া সিঁড়ি দেখে ভয়ও লাগবে, আবার গন্তব্য শেষ করার নেশাও পেয়ে বসবে। হাতিমাথা পাহাড়ের এই চূড়া থেকে দূরের খাগড়াছড়ি শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ ছাড়া চারপাশের সবুজে মোড়ানো পাহাড়ি প্রকৃতি, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং আদিবাসী জীবনধারার বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা পেতে পর্যটকদের কাছে হাতিমাথা বা হাতিমুড়া ক্রমেই জনপ্রিয়।

তবে বৃষ্টির মধ্যে এখানে না আসা উত্তম। খুব সতর্ক এবং সাহসী না হলে দুর্ঘটনা হতে পারে যে কোনো মুহূর্তে। সবশেষে এখান থেকে নামাও একটা ঝুঁকির ব্যাপার, পদে পদে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। সে যাই হোক, পাহাড়ের এত ওপর থেকে এমন সৌন্দর্য উপভোগের পর আমাদের শরীরের ক্লান্তি যেন নিমেষেই হাওয়ায় মিশে যাবে।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার বিভিন্ন বাস পয়েন্ট থেকে শান্তি, হানিফ, সেন্টমার্টিন পরিবহন, গ্রিন লাইন পরিবহন, রবি এক্সপ্রেস, ঈগল এবং শ্যামলী পরিবহনের এসি বা নন-এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়। বেশির ভাগ বাস ঢাকা-খাগড়াছড়ি যাতায়াত করে সকালে এবং রাতে। শান্তি পরিবহনসহ ২-১টি অপারেটর দিনের অন্যান্য সময়ও চলাচল করে। এসব বাসে নন-এসি ৭০০-৭৫০ টাকা টিকিট জনপ্রতি। এসি গাড়ির প্রকারভেদে জনপ্রতি ১০০০-১৬০০ টাকা ভাড়া।

যেখানে থাকবেন
খাগড়াছড়ি শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে হোটেল গাইরিং, নূর হোটেল, পর্যটন মোটেল অন্যতম। ছুটির মৌসুম বা ছুটির দিনে আগে থেকেই হোটেল বুক করা ভালো। অন্য সময় হলে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দরদাম করে হোটেল বুক করতে পারেন। এক বেডের নন-এসি রুম ৮০০-১০০০ টাকা নিতে পারে। ডাবল বেডের নন-এসি রুম ১৮০০-২০০০ টাকা আর সিঙ্গেল এসি রুম ১৫০০-২০০০, ডাবল বেডের এসি রুম ২৫০০-৩৫০০ পর্যন্ত নিতে পারে। এসব আবাসিক হোটেলের আশপাশেই বিভিন্ন বাঙালি এবং আদিবাসী হোটেল-রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রকার বাঙালি ও আদিবাসী খাবার খেতে পারেন।

ক্রাফু মারমা: দুর্গম পাহাড়ের মাঝ দিয়ে খাড়া সিঁড়ি। সেই পথ ধরে উঠতে হয় খাগড়াছড়ি হাতিমাথা পাহাড়ের চূড়ায়। স্থানীয়দের কাছে সেটি পরিচিত স্বর্গের সিঁড়ি নামে। ‘ও তুই লাল পাহাড়ির দেশে যা, ও তুই রাঙামাটির দেশে যা, এখানে তোকে মানাইছে নাই রে, ইক্কেবারেই মানাইছে নাই রে’। যেতে পারেন খাগড়াছড়ির যেসব দর্শনীয় জায়গায়।এর মধ্যে অন্যতম ‘মায়ুং কপাল’ বা ‘হাতিমুড়া’। ত্রিপুরাদের কাছে এটি ‘এদো সিরে মন’ বলে পরিচিত আর হাতির মাথার মতো দেখতে বলে পর্যটকরা এটিকে বলেন ‘হাতিমাথা’। ঢাকা-চিটাগং হাইওয়ের মিরসরাই করেরহাট থেকে বাঁ দিকে মোড় নিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা শুরু। এই রাস্তা ধরে সাড়ে ৩ ঘণ্টার রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর।

এই লোকালয়ের পথে চলতে চলতে চোখ পড়বে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা, খাবার আর সংস্কৃতি। পাহাড়ি বাচ্চারা ছোটাছুটি করছে, পাশের ফাঁকা জমিতে নারীরা জুম চাষ করছেন, গাছে গাছে নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর। পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে যতটা কষ্ট হবে তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক প্রশান্তি পাবেন প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য উপভোগ করে।

চলার পথে ২-৩টি বাঁশের সাঁকো পেরোনোর পর উঁচু-নিচু পাহাড় দেখা যাবে। মনে হবে গন্তব্যের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। পাহাড়ে পথ খুব কাছে মনে হলেও হেঁটে যেতে বেশ সময় লাগে।

চোখে পড়বে এখানকার মানুষের সংগ্রামী জীবন। কত কষ্ট করে তারা পাহাড়ের বুক চিরে ফসল ফলান, সেই ফসল নিজেরা খান আর কিছু বিক্রি করে সংসার চালান। মনটা বিষণ্ন হলেও চোখ ঘুরিয়ে প্রকৃতির মায়ায় পড়বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠলে খাগড়াছড়ি শহরটা স্পষ্ট দেখা যাবে। চারদিকে সবুজ আর সবুজ। ওপরের আকাশটা মেঘে ঢাকা, কখনও মেঘ কেটে নীলিমা উঁকি দিবে। সেখানে ডাব আর পাহাড়ি নানা ধরণের ফল পাবেন।

অবশ্যই পাহাড়ে ঘুরতে গেলে হালকা জামাকাপড় পরা উচিত। ট্র্যাকিংয়ের জন্য ভালো গ্রিপওয়ালা জুতা নিতে ভুলবেন না। দূর থেকে চোখে পড়ল কাঙ্ক্ষিত হাতিমাথা। চলার পথের দুই পাশেও পাহাড় আর পাহাড়। এর ভেতরেও আদিবাসী নারী-পুরুষকে কাজ করতে দেখা যাবে। চোখ জুড়িয়ে যাবে জুম চাষ দেখে। ধান, কলা, আনারস থেকে শুরু করে শাকসবজিও চাষ হয় এত উঁচু পাহাড়ে।

হাতিমাথা কাছ থেকে দেখেই লাফিয়ে উঠবেন। সম্ভবত পাহাড়ের ওপর এত সুন্দর সিঁড়ি দেশে আর কোথাও নেই। অনেকের কাছে এটি স্বর্গের সিঁড়ি হিসেবেও পরিচিত। বহু নামের অধিকারী হাতিমাথা পাহাড়ের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অনেক গ্রামের বাসিন্দা চলাচল করেন। গ্রামবাসীর চলাচলকে সুবিধাজনক করতে এই পাহাড়ে ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি তৈরি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

উচ্চতা ভীতি থাকার পরও শক্ত হাতে রেলিং ধরে নিচে না তাকানোর চেষ্টা করবেন। একেবারে শেষভাগে এসে খাড়া সিঁড়ি দেখে ভয়ও লাগবে, আবার গন্তব্য শেষ করার নেশাও পেয়ে বসবে। হাতিমাথা পাহাড়ের এই চূড়া থেকে দূরের খাগড়াছড়ি শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ ছাড়া চারপাশের সবুজে মোড়ানো পাহাড়ি প্রকৃতি, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং আদিবাসী জীবনধারার বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা পেতে পর্যটকদের কাছে হাতিমাথা বা হাতিমুড়া ক্রমেই জনপ্রিয়।

তবে বৃষ্টির মধ্যে এখানে না আসা উত্তম। খুব সতর্ক এবং সাহসী না হলে দুর্ঘটনা হতে পারে যে কোনো মুহূর্তে। সবশেষে এখান থেকে নামাও একটা ঝুঁকির ব্যাপার, পদে পদে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। সে যাই হোক, পাহাড়ের এত ওপর থেকে এমন সৌন্দর্য উপভোগের পর আমাদের শরীরের ক্লান্তি যেন নিমেষেই হাওয়ায় মিশে যাবে।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার বিভিন্ন বাস পয়েন্ট থেকে শান্তি, হানিফ, সেন্টমার্টিন পরিবহন, গ্রিন লাইন পরিবহন, রবি এক্সপ্রেস, ঈগল এবং শ্যামলী পরিবহনের এসি বা নন-এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়। বেশির ভাগ বাস ঢাকা-খাগড়াছড়ি যাতায়াত করে সকালে এবং রাতে। শান্তি পরিবহনসহ ২-১টি অপারেটর দিনের অন্যান্য সময়ও চলাচল করে। এসব বাসে নন-এসি ৭০০-৭৫০ টাকা টিকিট জনপ্রতি। এসি গাড়ির প্রকারভেদে জনপ্রতি ১০০০-১৬০০ টাকা ভাড়া।

যেখানে থাকবেন
খাগড়াছড়ি শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে হোটেল গাইরিং, নূর হোটেল, পর্যটন মোটেল অন্যতম। ছুটির মৌসুম বা ছুটির দিনে আগে থেকেই হোটেল বুক করা ভালো। অন্য সময় হলে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দরদাম করে হোটেল বুক করতে পারেন। এক বেডের নন-এসি রুম ৮০০-১০০০ টাকা নিতে পারে। ডাবল বেডের নন-এসি রুম ১৮০০-২০০০ টাকা আর সিঙ্গেল এসি রুম ১৫০০-২০০০, ডাবল বেডের এসি রুম ২৫০০-৩৫০০ পর্যন্ত নিতে পারে। এসব আবাসিক হোটেলের আশপাশেই বিভিন্ন বাঙালি এবং আদিবাসী হোটেল-রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রকার বাঙালি ও আদিবাসী খাবার খেতে পারেন।