মাহবুবুর রহমান

ডিজিটাল বাংলাদেশের পথ ধরে বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে চলছে। ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এটা জাতির জন্য সুখবর। এই স্মার্ট বাংলাদেশের ধরণ কেমন হবে ? কে বাস্তবায়ন করবে এই স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন ? কোন মাঝি শেখ হাসিনার নৌকার বৈঠা ধরবে এটা দেখার বিষয়।

তৃণমূলে চারজন মানুষের উপর নির্ভর করছে উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এই চারজন মানুষের উপর নির্ভর করছে সরকারের উন্নয়ন সুনাম-বদনাম। এই চার জন মানুষ হলো তৃণমূলে দলীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান/আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি বা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এই চার জন মানুষ যদি দায়িত্বভার সঠিকভাবে পালন না করে থাকে। তাহলে এখন প্রশ্ন জাগে তাদের ব্যর্থতার দায়ভার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিবে কেন ?

এই চারজন মানুষের মধ্যে দু’জন হলো দলীয় পাতাকাধারী, শেখ হাসিনার সরাসরি প্রতিনিধি। একজন আইন তৈরী করবেন আর একজন উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবেন। আর বাকী দু’জন হলো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী বা সেবক কিংবা সরকারী আমলা। যে নামেই আমরা চিনি না কেন।
মাননীয় সাংসদ তাঁর নিজ এলাকার মানুষের জন্য কোন আইনটি তৈরী করার জন্য জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করেছেন ? এটা জন সাধারণের বোধগম্য নয়।

সরকার হলো জনগণের উন্নয়ন ও সেবাদানকারী একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানসমুহকে সাহায্য-সহযোগীতা করার জন্য বিভিন্ন বেসরকারী সামাজিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই ধরণের প্রতিষ্ঠানসমুহের কাজ হলো সরকারকে সাহায্য করা। সংবাদপত্র এই সকল প্রতিষ্ঠানসমুহের মধ্যে একটি। যে প্রতিষ্ঠান সরকারকে তথ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত সাহায্য করেই চলছে।

সংবাদপত্র প্রতিদিন যে সকল সংবাদসমুহ প্রচার করে থাকে তা সরকার না দেখে বিষয়সমুহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ না করে বরং সরকারের সাথে সংবাদ পত্রের একটি দেয়াল বা সরকার বিরোধী বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে এক শ্রেণীর সুবিধালোভী মানুষ সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে। সরকার কি এই বিষয়টা বুঝতে পারছে, নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করেই চলছে তা সাধারণের বোধগম্য নয়।

চট্টগ্রাম জেলার কিছুচিত্র তুলে ধরছি যে চিত্রসমুহ নজরে আসলে বিষয়সমুহ স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে সাধারণ জনগণ মনে করেন।
লোহাগাড়া উপজেলায় বিভিন্ন সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। সংবাদ প্রকাশিত হবার পর পর উপজেলা প্রশাসন বালু জব্দও করেছে। এখন প্রশ্ন হলো এই বালু কি সাংসদ কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা নির্বাহী অফিসার কিংবা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তোলন করেছে ? না তারা কেউ এটার সাথে জড়িত নয় বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

অথচ আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু সুবিধাভোগীরা এই অবৈধ কাজটি করেই চলছে। এই বিষয়ে চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কেউ জানে না, জানলে কথা বলে না। মাঝখানে সংবাদপত্রে বিষয়টি প্রকাশিত হলে সাংবাদিকদের কে তাদের রোষানলে পড়তে হয়। এখন সাধারণের প্রশ্ন দলীয় ভাইটাল পোস্টের নেতা যদি এই অপকর্মের সাথে জড়িত না থাকে তাহলে এর দায়ভার পুরো আওয়ামী লীগ বা দলীয় সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিবে কেন?

তারপর আছে লোহাগাড়া আমিরাবাদ থেকে যে সকল সিএনজি বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে তাতে প্রতি মাসে একটি নিদিষ্ট হারে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ আছে। এই টাকাতো আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাংসদ কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পকেটে যাচ্ছে না। তাহলে এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন?

সাতকানিয়ার চিত্রও একই। নলুয়া, আমিলাইশ, চরতীতে সরকারী নদী ড্রেজিং এর বালু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিক্রি হয়ে আসছে। অথচ এই বালি আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধরণ সম্পাদক কিংবা সাংসদ বিক্রি করে টাকা নিচ্ছে না। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতারা যারা পুরোপুরি আওয়ামী ভাবধারাকে লালন ও পালন করে না তারাই বালু বিক্রি করেই চলছে। সরকারী রাজস্বের টাকা লো-পাট হচ্ছে তৃণমুলের চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কারো মাথাব্যথা নেই। তাহলে একটা প্রশ্ন এসেই যায় এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন?

চন্দনাইশে অবৈধভাবে মাটিকাটা নিয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়সমুহ স্থানীয় সাংসদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিংবা পদধারী কেউ এই ব্যবসার সাথে জড়িত নয়।

মাঝখানে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বরমা-বরকল থেকে কিছু বালিও জব্দ করা হয়েছে। পাহাড়ের মাটিকাটার বিষয়ে আয়ুব মিয়াজী নামের একজন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার সংবাদ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নয়, দুর্নীতিবাজ কিছু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের তথ্য তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তুলে ধরেছেন। অথচ যারা জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের কথা বলে তাদের উচিত ছিল এই সকল সংবাদ পর্যালোচনা করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা। অথচ তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। মাঝখানে সাংবাদিকদের হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার। সাংবাদিকদের মারধরের কারণে সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে। অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য কিছু হাইব্রিড নেতা থানা প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেখা যায় যারা প্রভাববিস্তার করছে তারা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিংবা স্থানীয় সাংসদ নয়। তাহলে এই পাতি-হাইব্রিড নেতাদের অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন?

পটিয়াতেও যেখানে সেখানে ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে। পাহাড় কেটে ইটের ভাটা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চারজন ব্যক্তির কোন মাথা ব্যথা নেই। তাদের ব্যবহার করে কিছু অনুপ্রবেশকারী নেতা ফায়দা লুফে নিচ্ছে। এদের অপকর্মের দায়বার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

সরকারের উন্নয়ন মহাযজ্ঞের যে চিত্র দৃশ্যমান তা আনোয়ারা কর্ণফুলি এলাকা দেখলেই বুঝা যায়। এই সংসদীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে মইজ্যারটেক। এই মইজ্যারটেক থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ সিএনজি দক্ষিণ চট্টগ্রামে যাতায়াত করেই চলছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই সকল সিএনজি থেকে প্রতি মাসে আটশত থেকে বারশত টাকা পর্যন্ত রীতিমত চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদা সমিতি কিংবা শ্রমিক লীগের নামধারী কিছু নেতা দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট কিংবা টিআইকে টাকা তুলে দিচ্ছে। এখান থেকে একটি টাকাও স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পাচ্ছে না। প্রতিদিন শত শত ট্রাক স্ক্রাব কর্ণফুলির দক্ষিণ পাড় থেকে আনলোড হয়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছে। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অনুসন্ধানে জানা গেছে এই সকল টাকা গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি স্থানীয় সাংসদ, আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পকেটে যাচ্ছে না। তাহলে এই টাকা যাচ্ছে কোথায় ? তাহলে এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

দক্ষিণ চট্টগ্রামের মতো উত্তর চট্টগ্রামের দৃশ্যও সমান। একটু উদাহরণ তুলে ধরি। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে লক্ষ লক্ষ সিএনজি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই সকল গাড়ি থেকে প্রতিমাসে আটশত টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। এই সকল চাঁদা সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই টাকাতো সরকারী রাজস্বে জমা হচ্ছে না। এই টাকা থেকে ভাগ পাচ্ছে না, রাউজানে সাংসদ, রাঙ্গুনিয়া কিংবা বোয়ালখালীর সাংসদ কিংবা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। যুবলীগ নামধারী কিছু হাই ব্রিড নেতা, দুনীতিবাজ সরকারী কিছু অসাধু অফিসার এই সকল অপকর্মের সাথে জড়িত। এতে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দুর্নামের ভাগি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। সাধারণের প্রশ্ন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণীরা যদি এই সকল অপকর্মের সাথে জড়িত না থাকে তাহলে এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দলীয় লোক হিসাবে এখানে একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন সরকার। তিনি কি আসলেই সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারছে ? এখানে টেবিলে টেবিলে দুর্নীতি। সিডিএতে সরকারী কর্মকর্তা ছাড়াও এখানে এক ধরণের হাইব্রিড নেতাদের তকবীর করতে দেখা যায়। প্রত্যেকটা অফিসার নিজস্ব লোক রেখে দিয়েছেন ফাইল তদবীর করার জন্য। এই সকল বিষয়ের তদারকি কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করবেন নাকি যাকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি তদারকি করবেন ? এখানে যে অপকর্ম হচ্ছে সেই অপকর্মের দায়ভার দলীয় সভাপতি হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিবে কেন ?

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। এখানে দুই ধরণের সিন্ডিকেট। একদল বাইরের আর একদল ভেতরের। এখানে দলীয় লোক হিসাবে বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, উপ-সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেক পরিদর্শক, বিদ্যালয় পরিদর্শক হলো পেষণ কর্মকর্তা। এরা দুই বছর এখানে কাজ করবেন। কিন্তু দুই বছরের চেয়েও বেশী হয়ে গেছে তাদের কোন বদলী নেই। এখানে নাম সংশোধণী, রেজিষ্ট্রাশন, বিদ্যালয় বা কলেজ অনুমোদন সবখানেই দুর্নীতির ছড়াছড়ি। এই বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি দুদকের একটি দল দুর্নীতির অনুসন্ধানে এলে এতে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-উপ পরিচালক ফজলুল বারির সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের অবসর প্রাপ্ত পরিদর্শক অধির রঞ্জন নাথকে দেখা যায়। তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ভায়রা ভাই। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান ও পেষণ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দমন অনুসন্ধানে এসেছেন উনার সাথে এই অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তার কেন? এই প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। এই দুর্নীতিবাজ ক্ষমতার অপব্যবহারকারী অফিসারদের অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

একই ধরণের পরিস্থিতি চট্টগ্রামের এলজিইডি, কর্ণফুলী গ্যাস, ওয়াসা, সিএমপি, পেট্রোবাংলা, বন্দর, কাস্টম, হাসপাতাল, পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রত্যেকটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সন্ধ্যা হলে টিকাদারদের লম্বাভিড়। শুধু মাত্র বিল নেওয়ার জন্য। সরকারী অফিস যদিও পাঁচটার পর ছুটি কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের একাউন্স বিভাগ শুরু হয় সন্ধ্যার পরে। অনেক টিকাদার অভিযোগ করে বলেছেন, যে টিকাদার বিলের পনের পার্সেন অগ্রিম দিতে পেরেছেন তাদের বিলের চেকে সই হয়েছে। বাকিরা জুতার তলার ক্ষয়ে ফেলেছেন। কর্মকর্তাদের এই ধরণের আচরণে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। এখানে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে সেবার জন্য। তারা যদি সঠিকভাবে সেবা না দেয় এই দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

নির্বাচন কমিশন অফিসের ওয়েব সাইটে বাংলাদেশের সকল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নাম্বার দেওয়া আছে। অথচ একটা নাম্বারেও ফোন যায় না। তাহলে এই নাম্বার দিয়ে কি লাভ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি চাই আর সরকারী কর্মকর্তা কি বলে ? তাহলে এই অবহেলার দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারেরা। উপজেলা পর্যায়ে একলক্ষ টাকা প্রকল্পে অঘোষিতভাবে ত্রিশ হাজার টাকা তাদের দিয়ে আসতে হয়। তাহলে না হলে প্রকল্পের টাকা পাস হয়না। এক লক্ষ টাকার প্রকল্পে কাজ হয় মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকার। বাকি ৫০% নেই। স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের চোখের সামনেই এই অনিয়ম চলেই আসছে। উনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ! দলীয় কোন লোক নয়। তাদের এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

স্থানীয় থানা প্রশাসন কিন্তু স্থানীয় সাংসদের আওতাধীন। এই প্রশাসন স্থানীয় সাংসদের পরামর্শের বাইরে কোন কাজ করতে পারে না। পরিবহনে এত চাঁদাবাজি হচ্ছে তা কি মাননীয় সাংসদের নজরে আসে না? মহল্লায় মহল্লায় মাদক বিরোধী সভা-সেমিনার হচ্ছে। কিন্তু সেমিনার দিয়ে কি হবে? মাদক ব্যবসায়ীরাই এই সকল সভা-সেমিনারে আয়োজক বলে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এর কারণেই নাকি মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সুত্রে জানা যায়। প্রশাসনের এই গাফিলতির দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

একমাত্র স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অবহেলা ও রাজনৈতিক চর্চার অভাবে এই অপকর্ম ও দুর্নীতিসমুহ হচ্ছে। দলীয় এই নের্তৃত্বে থাকা দায়িত্ব প্রাপ্তরা যদি বিষয় ভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মসুচী রাখে তাহলে কিছুতেই এই অপকর্ম হতে পারে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যোগ্যভেবেই স্থানীয়ভাবে নৌকার বৈঠা তাদের হাতে দিয়েছেন। কিন্তু তারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মান রক্ষা করতে পারছি কিনা ? যদি প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ কর্মসুচী বাস্তবায়ন ও সুফল সাধারণ জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছানো লক্ষ্য থাকে তাহলে স্থানীয়ভাবে থাকা এই চার পদে আসীন সাংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একসাথে বসেই কর্মসুচী বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে দলীয় ও সরকারী কর্মচারীদের, তা না হলে এই সকল অনিয়মের দায়ভার আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। সাধারণ জনগণের কাছে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ‘এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?”

লেখক: সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী। 

 মাহবুবুর রহমান

ডিজিটাল বাংলাদেশের পথ ধরে বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে চলছে। ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এটা জাতির জন্য সুখবর। এই স্মার্ট বাংলাদেশের ধরণ কেমন হবে ? কে বাস্তবায়ন করবে এই স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন ? কোন মাঝি শেখ হাসিনার নৌকার বৈঠা ধরবে এটা দেখার বিষয়।

তৃণমূলে চারজন মানুষের উপর নির্ভর করছে উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এই চারজন মানুষের উপর নির্ভর করছে সরকারের উন্নয়ন সুনাম-বদনাম। এই চার জন মানুষ হলো তৃণমূলে দলীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান/আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি বা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এই চার জন মানুষ যদি দায়িত্বভার সঠিকভাবে পালন না করে থাকে। তাহলে এখন প্রশ্ন জাগে তাদের ব্যর্থতার দায়ভার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিবে কেন ?

এই চারজন মানুষের মধ্যে দু’জন হলো দলীয় পাতাকাধারী, শেখ হাসিনার সরাসরি প্রতিনিধি। একজন আইন তৈরী করবেন আর একজন উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবেন। আর বাকী দু’জন হলো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী বা সেবক কিংবা সরকারী আমলা। যে নামেই আমরা চিনি না কেন।
মাননীয় সাংসদ তাঁর নিজ এলাকার মানুষের জন্য কোন আইনটি তৈরী করার জন্য জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করেছেন ? এটা জন সাধারণের বোধগম্য নয়।

সরকার হলো জনগণের উন্নয়ন ও সেবাদানকারী একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানসমুহকে সাহায্য-সহযোগীতা করার জন্য বিভিন্ন বেসরকারী সামাজিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই ধরণের প্রতিষ্ঠানসমুহের কাজ হলো সরকারকে সাহায্য করা। সংবাদপত্র এই সকল প্রতিষ্ঠানসমুহের মধ্যে একটি। যে প্রতিষ্ঠান সরকারকে তথ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত সাহায্য করেই চলছে।

সংবাদপত্র প্রতিদিন যে সকল সংবাদসমুহ প্রচার করে থাকে তা সরকার না দেখে বিষয়সমুহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ না করে বরং সরকারের সাথে সংবাদ পত্রের একটি দেয়াল বা সরকার বিরোধী বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে এক শ্রেণীর সুবিধালোভী মানুষ সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে। সরকার কি এই বিষয়টা বুঝতে পারছে, নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করেই চলছে তা সাধারণের বোধগম্য নয়।

চট্টগ্রাম জেলার কিছুচিত্র তুলে ধরছি যে চিত্রসমুহ নজরে আসলে বিষয়সমুহ স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে সাধারণ জনগণ মনে করেন।
লোহাগাড়া উপজেলায় বিভিন্ন সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। সংবাদ প্রকাশিত হবার পর পর উপজেলা প্রশাসন বালু জব্দও করেছে। এখন প্রশ্ন হলো এই বালু কি সাংসদ কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা নির্বাহী অফিসার কিংবা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তোলন করেছে ? না তারা কেউ এটার সাথে জড়িত নয় বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

অথচ আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু সুবিধাভোগীরা এই অবৈধ কাজটি করেই চলছে। এই বিষয়ে চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কেউ জানে না, জানলে কথা বলে না। মাঝখানে সংবাদপত্রে বিষয়টি প্রকাশিত হলে সাংবাদিকদের কে তাদের রোষানলে পড়তে হয়। এখন সাধারণের প্রশ্ন দলীয় ভাইটাল পোস্টের নেতা যদি এই অপকর্মের সাথে জড়িত না থাকে তাহলে এর দায়ভার পুরো আওয়ামী লীগ বা দলীয় সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিবে কেন?

তারপর আছে লোহাগাড়া আমিরাবাদ থেকে যে সকল সিএনজি বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে তাতে প্রতি মাসে একটি নিদিষ্ট হারে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ আছে। এই টাকাতো আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাংসদ কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পকেটে যাচ্ছে না। তাহলে এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন?

সাতকানিয়ার চিত্রও একই। নলুয়া, আমিলাইশ, চরতীতে সরকারী নদী ড্রেজিং এর বালু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিক্রি হয়ে আসছে। অথচ এই বালি আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধরণ সম্পাদক কিংবা সাংসদ বিক্রি করে টাকা নিচ্ছে না। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতারা যারা পুরোপুরি আওয়ামী ভাবধারাকে লালন ও পালন করে না তারাই বালু বিক্রি করেই চলছে। সরকারী রাজস্বের টাকা লো-পাট হচ্ছে তৃণমুলের চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কারো মাথাব্যথা নেই। তাহলে একটা প্রশ্ন এসেই যায় এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন?

চন্দনাইশে অবৈধভাবে মাটিকাটা নিয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়সমুহ স্থানীয় সাংসদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিংবা পদধারী কেউ এই ব্যবসার সাথে জড়িত নয়।

মাঝখানে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বরমা-বরকল থেকে কিছু বালিও জব্দ করা হয়েছে। পাহাড়ের মাটিকাটার বিষয়ে আয়ুব মিয়াজী নামের একজন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার সংবাদ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নয়, দুর্নীতিবাজ কিছু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের তথ্য তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তুলে ধরেছেন। অথচ যারা জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের কথা বলে তাদের উচিত ছিল এই সকল সংবাদ পর্যালোচনা করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা। অথচ তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। মাঝখানে সাংবাদিকদের হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার। সাংবাদিকদের মারধরের কারণে সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে। অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য কিছু হাইব্রিড নেতা থানা প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেখা যায় যারা প্রভাববিস্তার করছে তারা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিংবা স্থানীয় সাংসদ নয়। তাহলে এই পাতি-হাইব্রিড নেতাদের অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন?

পটিয়াতেও যেখানে সেখানে ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে। পাহাড় কেটে ইটের ভাটা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চারজন ব্যক্তির কোন মাথা ব্যথা নেই। তাদের ব্যবহার করে কিছু অনুপ্রবেশকারী নেতা ফায়দা লুফে নিচ্ছে। এদের অপকর্মের দায়বার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

সরকারের উন্নয়ন মহাযজ্ঞের যে চিত্র দৃশ্যমান তা আনোয়ারা কর্ণফুলি এলাকা দেখলেই বুঝা যায়। এই সংসদীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে মইজ্যারটেক। এই মইজ্যারটেক থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ সিএনজি দক্ষিণ চট্টগ্রামে যাতায়াত করেই চলছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই সকল সিএনজি থেকে প্রতি মাসে আটশত থেকে বারশত টাকা পর্যন্ত রীতিমত চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদা সমিতি কিংবা শ্রমিক লীগের নামধারী কিছু নেতা দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট কিংবা টিআইকে টাকা তুলে দিচ্ছে। এখান থেকে একটি টাকাও স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পাচ্ছে না। প্রতিদিন শত শত ট্রাক স্ক্রাব কর্ণফুলির দক্ষিণ পাড় থেকে আনলোড হয়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছে। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অনুসন্ধানে জানা গেছে এই সকল টাকা গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি স্থানীয় সাংসদ, আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পকেটে যাচ্ছে না। তাহলে এই টাকা যাচ্ছে কোথায় ? তাহলে এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

দক্ষিণ চট্টগ্রামের মতো উত্তর চট্টগ্রামের দৃশ্যও সমান। একটু উদাহরণ তুলে ধরি। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে লক্ষ লক্ষ সিএনজি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই সকল গাড়ি থেকে প্রতিমাসে আটশত টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। এই সকল চাঁদা সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই টাকাতো সরকারী রাজস্বে জমা হচ্ছে না। এই টাকা থেকে ভাগ পাচ্ছে না, রাউজানে সাংসদ, রাঙ্গুনিয়া কিংবা বোয়ালখালীর সাংসদ কিংবা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। যুবলীগ নামধারী কিছু হাই ব্রিড নেতা, দুনীতিবাজ সরকারী কিছু অসাধু অফিসার এই সকল অপকর্মের সাথে জড়িত। এতে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দুর্নামের ভাগি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। সাধারণের প্রশ্ন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণীরা যদি এই সকল অপকর্মের সাথে জড়িত না থাকে তাহলে এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দলীয় লোক হিসাবে এখানে একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন সরকার। তিনি কি আসলেই সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারছে ? এখানে টেবিলে টেবিলে দুর্নীতি। সিডিএতে সরকারী কর্মকর্তা ছাড়াও এখানে এক ধরণের হাইব্রিড নেতাদের তকবীর করতে দেখা যায়। প্রত্যেকটা অফিসার নিজস্ব লোক রেখে দিয়েছেন ফাইল তদবীর করার জন্য। এই সকল বিষয়ের তদারকি কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করবেন নাকি যাকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি তদারকি করবেন ? এখানে যে অপকর্ম হচ্ছে সেই অপকর্মের দায়ভার দলীয় সভাপতি হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিবে কেন ?

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। এখানে দুই ধরণের সিন্ডিকেট। একদল বাইরের আর একদল ভেতরের। এখানে দলীয় লোক হিসাবে বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, উপ-সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেক পরিদর্শক, বিদ্যালয় পরিদর্শক হলো পেষণ কর্মকর্তা। এরা দুই বছর এখানে কাজ করবেন। কিন্তু দুই বছরের চেয়েও বেশী হয়ে গেছে তাদের কোন বদলী নেই। এখানে নাম সংশোধণী, রেজিষ্ট্রাশন, বিদ্যালয় বা কলেজ অনুমোদন সবখানেই দুর্নীতির ছড়াছড়ি। এই বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি দুদকের একটি দল দুর্নীতির অনুসন্ধানে এলে এতে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-উপ পরিচালক ফজলুল বারির সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের অবসর প্রাপ্ত পরিদর্শক অধির রঞ্জন নাথকে দেখা যায়। তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ভায়রা ভাই। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান ও পেষণ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দমন অনুসন্ধানে এসেছেন উনার সাথে এই অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তার কেন? এই প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। এই দুর্নীতিবাজ ক্ষমতার অপব্যবহারকারী অফিসারদের অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

একই ধরণের পরিস্থিতি চট্টগ্রামের এলজিইডি, কর্ণফুলী গ্যাস, ওয়াসা, সিএমপি, পেট্রোবাংলা, বন্দর, কাস্টম, হাসপাতাল, পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রত্যেকটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সন্ধ্যা হলে টিকাদারদের লম্বাভিড়। শুধু মাত্র বিল নেওয়ার জন্য। সরকারী অফিস যদিও পাঁচটার পর ছুটি কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের একাউন্স বিভাগ শুরু হয় সন্ধ্যার পরে। অনেক টিকাদার অভিযোগ করে বলেছেন, যে টিকাদার বিলের পনের পার্সেন অগ্রিম দিতে পেরেছেন তাদের বিলের চেকে সই হয়েছে। বাকিরা জুতার তলার ক্ষয়ে ফেলেছেন। কর্মকর্তাদের এই ধরণের আচরণে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। এখানে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে সেবার জন্য। তারা যদি সঠিকভাবে সেবা না দেয় এই দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

নির্বাচন কমিশন অফিসের ওয়েব সাইটে বাংলাদেশের সকল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নাম্বার দেওয়া আছে। অথচ একটা নাম্বারেও ফোন যায় না। তাহলে এই নাম্বার দিয়ে কি লাভ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি চাই আর সরকারী কর্মকর্তা কি বলে ? তাহলে এই অবহেলার দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারেরা। উপজেলা পর্যায়ে একলক্ষ টাকা প্রকল্পে অঘোষিতভাবে ত্রিশ হাজার টাকা তাদের দিয়ে আসতে হয়। তাহলে না হলে প্রকল্পের টাকা পাস হয়না। এক লক্ষ টাকার প্রকল্পে কাজ হয় মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকার। বাকি ৫০% নেই। স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের চোখের সামনেই এই অনিয়ম চলেই আসছে। উনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ! দলীয় কোন লোক নয়। তাদের এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

স্থানীয় থানা প্রশাসন কিন্তু স্থানীয় সাংসদের আওতাধীন। এই প্রশাসন স্থানীয় সাংসদের পরামর্শের বাইরে কোন কাজ করতে পারে না। পরিবহনে এত চাঁদাবাজি হচ্ছে তা কি মাননীয় সাংসদের নজরে আসে না? মহল্লায় মহল্লায় মাদক বিরোধী সভা-সেমিনার হচ্ছে। কিন্তু সেমিনার দিয়ে কি হবে? মাদক ব্যবসায়ীরাই এই সকল সভা-সেমিনারে আয়োজক বলে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এর কারণেই নাকি মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সুত্রে জানা যায়। প্রশাসনের এই গাফিলতির দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?

একমাত্র স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অবহেলা ও রাজনৈতিক চর্চার অভাবে এই অপকর্ম ও দুর্নীতিসমুহ হচ্ছে। দলীয় এই নের্তৃত্বে থাকা দায়িত্ব প্রাপ্তরা যদি বিষয় ভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মসুচী রাখে তাহলে কিছুতেই এই অপকর্ম হতে পারে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যোগ্যভেবেই স্থানীয়ভাবে নৌকার বৈঠা তাদের হাতে দিয়েছেন। কিন্তু তারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মান রক্ষা করতে পারছি কিনা ? যদি প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ কর্মসুচী বাস্তবায়ন ও সুফল সাধারণ জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছানো লক্ষ্য থাকে তাহলে স্থানীয়ভাবে থাকা এই চার পদে আসীন সাংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একসাথে বসেই কর্মসুচী বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে দলীয় ও সরকারী কর্মচারীদের, তা না হলে এই সকল অনিয়মের দায়ভার আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। সাধারণ জনগণের কাছে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ‘এই অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নিবে কেন ?”

লেখক: সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।