নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত আধিপত্য বিস্তারে সশস্ত্র মহড়া থেকে শুরু করে খুনোখুনি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে প্রদর্শিত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বেশিরভাগই অক্ষত রয়ে গেছে। এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক মদদপুষ্ট কথিত ‘বড় ভাই’ ও তাদের অনুসারীদের কাছে মজুদ থাকা অবৈধ অস্ত্র পুলিশের জব্দ তালিকার বাইরেই রয়ে গেছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবৈধ অস্ত্রধারী গ্রেফতার হলেও তাদের কথিত বড় ভাই শেষ পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেছে। অবশ্য গত তিন মাসে নগরীর বিভিন্ন থানা পুলিশ দেশে তৈরি এলজিসহ কয়েকজন অবৈধ অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সিএমপির গোয়েন্দা শাখা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একেবারেই নিস্ক্রিয়। তারা শুধু সামারী ব্যবসায় নিয়োজিত।

জানা গেছে, গত বছরের ১৪ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে নগরীর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় সিটি নির্বাচনে গণসংযোগকালে পেছন থেকে ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন স্থানীয় মহল্লা সর্দার আজগর আলী বাবুল। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় করা হত্যা মামলায় র‌্যাব ও পুলিশ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার ও আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের হদিস পায়নি।

এর আগে মেসার্স আর.এস. কর্পোরেশন ও এস.এন. ট্রেড এর পরিচালক সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর অস্ত্রের মুখে প্রতিপক্ষরা অপহরণ করেছিল। এই সময় আশি লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করার অভিযোগ উঠে হালিশহরের মধ্যম রামপুরের (ফকির গলি)মৃত সামশুল আলমের পুত্র নওশাদ মাহমুদ রানার বিরুদ্ধে। পরের দিন ১৭ অক্টোবর সাইফুলের স্ত্রীর হালিশহর থানায় রানার বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং- ১৯(১০)২০) করলে মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) পুলিশ আদালতে অভিয়োগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এই অপহরণে প্রদর্শিত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এখন পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে মিরসরাই জোরারগঞ্জ দূর্গাপুরের আ. হাকিম মুন্সীর বাড়ী মরহুম আবুল কালামের পুত্র মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমি এবং আমার পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সাইফুল বলেন, রানা নানানভাবে আমি ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে, তার দাবীমত টাকা না পেলে আমাদের চরম ক্ষতি করবে এবং আরো মিথ্যা মামলা জড়িয়ে দিবে। এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে নওশাদ মাহমুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও নগরীতে পৃথকভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোঁড়ার অন্তত দুটি ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানার দুই নম্বর গেট এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নামধারী বিবদমান স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তৈয়ব হোসেন (৩০) ওরফে রুবেল নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করলেও সংঘর্ষে ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এভাবে চট্টগ্রামের অস্ত্র ভান্ডারগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে।

সিএমপি জানিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট এলাকাভিত্তিক বড় ভাইদের হাতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের বিশাল মজুদ। শক্তি বৃদ্ধির জন্য বড় ভাইরা ধীরে ধীরে অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছে। এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক লেবাসধারী সেসব বড় ভাইরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে অবৈধ অস্ত্র তুলে দিচ্ছে নিজ নিজ এলাকার উঠতি বয়সীদের হাতে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র তুলে দেয়ায় তারা চোখের পলকেই বিপথগামী হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত আধিপত্য বিস্তারে সশস্ত্র মহড়া থেকে শুরু করে খুনোখুনি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে প্রদর্শিত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বেশিরভাগই অক্ষত রয়ে গেছে। এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক মদদপুষ্ট কথিত ‘বড় ভাই’ ও তাদের অনুসারীদের কাছে মজুদ থাকা অবৈধ অস্ত্র পুলিশের জব্দ তালিকার বাইরেই রয়ে গেছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবৈধ অস্ত্রধারী গ্রেফতার হলেও তাদের কথিত বড় ভাই শেষ পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেছে। অবশ্য গত তিন মাসে নগরীর বিভিন্ন থানা পুলিশ দেশে তৈরি এলজিসহ কয়েকজন অবৈধ অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সিএমপির গোয়েন্দা শাখা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একেবারেই নিস্ক্রিয়। তারা শুধু সামারী ব্যবসায় নিয়োজিত।

জানা গেছে, গত বছরের ১৪ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে নগরীর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় সিটি নির্বাচনে গণসংযোগকালে পেছন থেকে ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন স্থানীয় মহল্লা সর্দার আজগর আলী বাবুল। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় করা হত্যা মামলায় র‌্যাব ও পুলিশ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার ও আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের হদিস পায়নি।

এর আগে মেসার্স আর.এস. কর্পোরেশন ও এস.এন. ট্রেড এর পরিচালক সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর অস্ত্রের মুখে প্রতিপক্ষরা অপহরণ করেছিল। এই সময় আশি লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করার অভিযোগ উঠে হালিশহরের মধ্যম রামপুরের (ফকির গলি)মৃত সামশুল আলমের পুত্র নওশাদ মাহমুদ রানার বিরুদ্ধে। পরের দিন ১৭ অক্টোবর সাইফুলের স্ত্রীর হালিশহর থানায় রানার বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং- ১৯(১০)২০) করলে মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) পুলিশ আদালতে অভিয়োগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এই অপহরণে প্রদর্শিত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এখন পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে মিরসরাই জোরারগঞ্জ দূর্গাপুরের আ. হাকিম মুন্সীর বাড়ী মরহুম আবুল কালামের পুত্র মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমি এবং আমার পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সাইফুল বলেন, রানা নানানভাবে আমি ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে, তার দাবীমত টাকা না পেলে আমাদের চরম ক্ষতি করবে এবং আরো মিথ্যা মামলা জড়িয়ে দিবে। এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে নওশাদ মাহমুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও নগরীতে পৃথকভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোঁড়ার অন্তত দুটি ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানার দুই নম্বর গেট এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নামধারী বিবদমান স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তৈয়ব হোসেন (৩০) ওরফে রুবেল নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করলেও সংঘর্ষে ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এভাবে চট্টগ্রামের অস্ত্র ভান্ডারগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে।

সিএমপি জানিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট এলাকাভিত্তিক বড় ভাইদের হাতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের বিশাল মজুদ। শক্তি বৃদ্ধির জন্য বড় ভাইরা ধীরে ধীরে অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছে। এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক লেবাসধারী সেসব বড় ভাইরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে অবৈধ অস্ত্র তুলে দিচ্ছে নিজ নিজ এলাকার উঠতি বয়সীদের হাতে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র তুলে দেয়ায় তারা চোখের পলকেই বিপথগামী হচ্ছে।