ইফতেখার, নগর প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মাঝে মধ্যেই হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও উচ্ছেদের পর অল্প সময়ের মধ্যেই একই জায়গায় আবার হকার বসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে নগরবাসীর প্রশ্ন—হকার উচ্ছেদে পরিচালিত অভিযান কি সত্যিই স্থায়ী সমাধানের জন্য, নাকি কেবল লোক দেখানো অভিযানেই সীমাবদ্ধ? মূলত যানজট নিরসনকল্পে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার দায়িত্ব চসিক ও সিএমপি পুলিশের। এ ক্ষেত্রে সিডিএ’র কি কোন ভুমিকা রয়েছে?
সুত্রটি জানান, চেয়ারম্যানের মেয়াদ কালের মধ্যে ৩/৪ মাস অতিবাহিত হলেও তিনি তার অফিস এখনো ঘুছাতে পারেনি। প্রশাসনিক চেইন্ড অব কমান্ড ও অনিয়ম-বিশৃংখলার কারণে ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন এবং নকশা অনুমোদনে মন্থরগতিসহ নানা দুর্ণীতিতে প্রতিষ্ঠানটি জর্জরিত। তিনি সে দিকে নজর না দিয়ে রহস্যজনকভাবে নগরবাসীর পাছায় মোবাইল লাইভের মাধ্যমে বাঁশ দেওয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নগরের হাসপাতালের মালিকরা এসবের কারণে সিডিএকে আইনি লিগ্যাল নোটিশ ও দিয়েছে।সেবা গ্রহিতারা চরম দুর্ভোগের কারণে সিডিএর বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করছে।
সুত্রটি আরো জানান, ৩/৪ বছরের পুরানো শহরে সঠিকভাবে নগরায়ন কস্মিনকালেও সম্ভব নহে। যদি নতুন শহর গড়ে তুলতে পারে তাহলে শতভাগ আইন-কানুনের মাধ্যমে নান্দনিক নগরায়ন গড়ে তোলা সম্ভব।এছাড়াও সিডিএ কর্তৃক যে সকল আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে সেগুলোতেও শতভাগ সিডিএ তাদের ইমারত বিধিমালা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত দখল করে হকার ব্যবসা পরিচালনার কারণে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কার্যালয়ের সামনের ফুটপাত এবং নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় কখনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়; কিন্তু কিছুদিন পর আবারও একই স্থানে হকারদের বসতে দেখা যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্ছেদের পর পুনরায় তারা কীভাবে ফুটপাত দখলের সুযোগ পাচ্ছেন? কার অনুমতি বা প্রশ্রয়ে তারা আবার বসছেন? উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ কি পরবর্তী সময়ে নিয়মিত নজরদারি করছে?
নগরবাসীর অভিযোগ, সিডিএ কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। উচ্ছেদের পর সেখানে যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য স্থায়ী নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একইভাবে নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত নিয়েও বারবার উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের অভিযোগ থাকায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একজন নগরবাসী বলেন, “উচ্ছেদ করা হলো, কয়েকদিন পর আবার হকার বসে গেল—এভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে না। নগরবাসী জানতে চায়, উচ্ছেদের পর আবার তাদের বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কীভাবে?”
নগরীর ফুটপাত মূলত পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল হয়ে গেলে মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে হাঁটেন। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই হকারদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে নগরবাসীর।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—উচ্ছেদ অভিযানের পর একই স্থানে পুনরায় হকার বসার দায় কার? যদি উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হয়, তাহলে উচ্ছেদের পর কয়েক দিনের মধ্যেই দখল ফিরে আসে কীভাবে? আর যদি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার ওপর থাকে, তাহলে সেই সংস্থা নিয়মিত তদারকি করছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
নগরবাসীর দাবি, হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হোক। কোথায় হকার বসতে পারবেন, কোথায় পারবেন না, উচ্ছেদের পর পুনর্দখল ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর জন্য কোন সংস্থা দায়ী—এসব বিষয়ে জনসমক্ষে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
উচ্ছেদ অভিযান যেন শুধু কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের কার্যক্রম না হয়ে স্থায়ীভাবে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার উদ্যোগে পরিণত হয়—এটাই এখন নগরবাসীর প্রত্যাশা।
ধারাবাহিক পর্ব-১(আগামীকাল পড়ুন ধারাবাহিক পর্ব-২ আমতলার সিডিএ মার্কেট: পার্কিং কোথায়, নকশার অনুমোদনই বা কতটুকু?)




