চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার উসমান খাজা নিজের ক্রিকেটজীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে খেলার সময় তার শরীরে বাতজনিত এক দীর্ঘস্থায়ী রোগ ধরা পড়ে। বিষয়টি তিনি পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই গোপন রেখেছিলেন। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮৮টি টেস্টে ৬ হাজার ২২৯ রান, ৪০টি ওয়ানডে ম্যাচে ১ হাজার ৫৫৪ রান এবং ৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৪১ রান করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার অনুষ্ঠান ‘অস্ট্রেলিয়ান স্টোরি’তে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খাজা বলেন, 'আমি সত্যিই ভেবেছিলাম, আমি মারা যাব। পেশাদার ক্রিকেট খেলা একজন ক্রীড়াবিদ থেকে এমন অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলাম যে বাথরুম পর্যন্ত ১০ মিটার হাঁটার সামর্থ্যও ছিল না।' ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। অথচ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নার এবং টেস্ট দলের সতীর্থ মাইকেল হাসিও তার অসুস্থতার কথা জানতেন না।

বাঁ হাঁটুর অসহনীয় ব্যথা তাকে ভীষণ আতঙ্কিত করে তুলেছিল। এই রোগ নিয়েও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেশাদার ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। খাজা বলেন, 'একজন মানুষ যদি বাতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে পারে, তাহলে আমার বিশ্বাস, আরও অনেক মানুষও জীবনে অনেক কিছু অর্জন করতে পারবেন।' শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাওয়া নিজের আত্মজীবনী ‘সবর’-এ অসুস্থতা নিয়ে আরও বিস্তারিত লেখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত একটি ওষুধের ইনজেকশন নিয়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতেন খাজা। ওষুধটিকে নিজের জন্য আশীর্বাদ হিসেবেই দেখেন তিনি। তিনি জানান, ওই ওষুধ না থাকলে তিনি আর কখনোই ক্রিকেট খেলতে পারতেন না, এমনকি স্বাভাবিক জীবন যাপন করাও সম্ভব হতো না।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবেক তারকা ব্রেট লি ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অবদানের কথা স্মরণ করে খাজা বলেন, 'তারাই আমাকে অস্ট্রেলিয়া দলের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর আমি অস্ট্রেলিয়াকে আরও বেশি সমর্থন করতে শুরু করি। একসময় আমার কাছে সবকিছু হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া আর অস্ট্রেলিয়া।'

তবে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানি ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের কয়েকজন তাকে বলেছিলেন, 'তুমি ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু কখনো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারবে না। কারণ, তারা আমাদের মতো মানুষদের দলে নেয় না। তারা বাদামি চামড়ার মানুষদের অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে দেয় না। সেখানে বর্ণবাদ অনেক বেশি। তুমি কখনোই সেখানে পৌঁছাতে পারবে না।' সব সংশয় ভুল প্রমাণ করে খাজা পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার উসমান খাজা নিজের ক্রিকেটজীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে খেলার সময় তার শরীরে বাতজনিত এক দীর্ঘস্থায়ী রোগ ধরা পড়ে। বিষয়টি তিনি পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই গোপন রেখেছিলেন। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮৮টি টেস্টে ৬ হাজার ২২৯ রান, ৪০টি ওয়ানডে ম্যাচে ১ হাজার ৫৫৪ রান এবং ৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৪১ রান করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার অনুষ্ঠান ‘অস্ট্রেলিয়ান স্টোরি’তে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খাজা বলেন, 'আমি সত্যিই ভেবেছিলাম, আমি মারা যাব। পেশাদার ক্রিকেট খেলা একজন ক্রীড়াবিদ থেকে এমন অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলাম যে বাথরুম পর্যন্ত ১০ মিটার হাঁটার সামর্থ্যও ছিল না।' ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। অথচ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নার এবং টেস্ট দলের সতীর্থ মাইকেল হাসিও তার অসুস্থতার কথা জানতেন না।

বাঁ হাঁটুর অসহনীয় ব্যথা তাকে ভীষণ আতঙ্কিত করে তুলেছিল। এই রোগ নিয়েও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেশাদার ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। খাজা বলেন, 'একজন মানুষ যদি বাতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে পারে, তাহলে আমার বিশ্বাস, আরও অনেক মানুষও জীবনে অনেক কিছু অর্জন করতে পারবেন।' শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাওয়া নিজের আত্মজীবনী ‘সবর’-এ অসুস্থতা নিয়ে আরও বিস্তারিত লেখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত একটি ওষুধের ইনজেকশন নিয়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতেন খাজা। ওষুধটিকে নিজের জন্য আশীর্বাদ হিসেবেই দেখেন তিনি। তিনি জানান, ওই ওষুধ না থাকলে তিনি আর কখনোই ক্রিকেট খেলতে পারতেন না, এমনকি স্বাভাবিক জীবন যাপন করাও সম্ভব হতো না।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবেক তারকা ব্রেট লি ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অবদানের কথা স্মরণ করে খাজা বলেন, 'তারাই আমাকে অস্ট্রেলিয়া দলের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর আমি অস্ট্রেলিয়াকে আরও বেশি সমর্থন করতে শুরু করি। একসময় আমার কাছে সবকিছু হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া আর অস্ট্রেলিয়া।'

তবে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানি ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের কয়েকজন তাকে বলেছিলেন, 'তুমি ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু কখনো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারবে না। কারণ, তারা আমাদের মতো মানুষদের দলে নেয় না। তারা বাদামি চামড়ার মানুষদের অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে দেয় না। সেখানে বর্ণবাদ অনেক বেশি। তুমি কখনোই সেখানে পৌঁছাতে পারবে না।' সব সংশয় ভুল প্রমাণ করে খাজা পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নেন।