শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের দক্ষিণ নড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মারধরের শিকার হওয়া নেতারা হলেন—উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি নোমান চোকদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল সিকদার এবং পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান রাজিব। এই হামলার ঘটনায় পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়াল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
আহত নেতাকর্মীদের দাবি, জরুরি কথা বলার কথা বলে সালাউদ্দিন ছৈয়াল সন্ধ্যায় নোমান চোকদার ও মাসুদ খানকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। নোমান সেখানে পৌঁছে মাগরিবের নামাজ পড়তে গেলে সালাউদ্দিনের সঙ্গে থাকা ইব্রাহিম, নুরু মল্লিক ও নুরুজ্জামান শেখসহ কয়েকজন মাসুদ খানের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাসুদকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে আঘাত করা হয়। এ সময় ইব্রাহিমের হাতে থাকা একটি ছোট অস্ত্র দেখিয়ে মাসুদকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান রাজিব জানান, মাসুদ খানকে মারধর করতে দেখে তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকেও আক্রমণ করা হয়। পরবর্তীতে নামাজ শেষে নোমান চোকদার সেখানে এলে তাঁর ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁদের রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন তাজুল সিকদারও। পরে স্থানীয় আশপাশের মানুষ এসে তাঁদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। রাজিব এটিকে একটি পরিকল্পিত হামলা আখ্যা দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন ছৈয়াল। তিনি ঘটনাটিকে পার্টনারশিপ ব্যবসার লেনদেনকেন্দ্রিক বিবাদের জেরে হাতাহাতি বলে উল্লেখ করেছেন। সালাউদ্দিন জানান, যৌথভাবে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে মাসুদ ও নোমান তাঁর কাছ থেকে দুই দফায় ৪৪ লাখ টাকা নেন। এরপর জমি কেনাবেচার ব্যবসা শেষে লভ্যাংশ ফেরত চাইলে তাঁকে আর অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল না।
সালাউদ্দিনের ভাষ্যমতে, শনিবার তাঁর ওই পাওনা টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু করলে একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে অপর পক্ষের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। তিনি নিজে চেষ্টা করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি বলে দাবি করেন। তবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি কিংবা ৪৪ লাখ টাকা লেনদেনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মারামারির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা গেছে, আহত ব্যক্তিরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




