নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেখানে প্রতিহিংসার পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা, সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নসিমন ভবন কার্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, এখন হোক ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
কেন্দ্রীয় পরামর্শ ও নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সমন্বয়ে আয়োজিত এ সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল। জুলুম-নির্যাতন, মামলা-হামলা, গুম ও হত্যার মতো নানা পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপির নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে সরে যাননি।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় পরামর্শ অনুযায়ী মহানগর, উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলার সমন্বয়ের মাধ্যমে আজকের এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমাদের ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবন মোটেও সহজ ছিল না। ফ্যাসিবাদী জুলুম-নির্যাতনের মধ্য দিয়েও আমরা রাজনীতি করে গেছি, লড়াই করেছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা সবসময় একটি স্বাভাবিক জীবন এবং গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছি। আজ আমরা সেই গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি।
এ্যানি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে, তা ধরে রাখতে হলে প্রতিহিংসা, সংঘাত ও উসকানির রাজনীতি পরিহার করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টরা আমাদের সঙ্গে যেভাবে মোকাবিলা করেছে, আমরা তাদের সঙ্গে সেভাবে মোকাবিলা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। আমরা রাজনৈতিকভাবেই সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টার মোকাবিলা করতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা পরীক্ষিত জিয়ার সৈনিক। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা শিখেছি কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। তাই আমাদের ধৈর্য ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। “আমরা এভাবেই নিয়মিত সভা করে যাব। রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখব। মানুষের কাছে যাব, তাদের কথা শুনব এবং তাদের পাশে দাঁড়াব। আমাদের রাজনীতি হতে হবে মানুষের কল্যাণের রাজনীতি।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম।নির্বাচনের পর দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, সহিংসতা ও গণতন্ত্রবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে।
শামীম বলেন, অতীতের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি যাতে কোনোভাবেই না ঘটে, সে বিষয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় নিয়মিত সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে জনগণের কাছে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব অপকর্ম বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনসম্মতভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
নেতাকর্মীদের রাজপথে দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে শামীম বলেন, কোনো মহল যেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, মনে রাখবেন, স্বৈরাচার কখনো বাংলাদেশে ফিরতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষই তাকে ফিরতে দেবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেকের বিরুদ্ধে এখনো দোসরদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। আমি তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন সরকারি পোশাকের মর্যাদা রক্ষা করেন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন।




