*বিহারি বগা সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়াকিল হোসেন বগা (৪২)। যাকে ‘বিহারি বগা’ নামে চেনে সবাই। বাসা নগরীর খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায়। ১৯ মামলার আসামি। পুলিশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম আছে। অপরাধকর্মে যুক্ত থাকায় গত ৮ জুন বহিষ্কার হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে।

প্রথমে এক কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলা কেন রেকর্ড করল, ওসিকে মোবাইল ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করলেন। তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হন ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য। আবার মামলা তার বিরুদ্ধে, কিন্তু ঘটনার ১০ দিন পার হলেও পুলিশ তার টিকিও ছুঁতেও পারেনি।

উল্টো বাবাকে দিয়ে সেই ওসির বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করে ‘ক্ষমতার সবহাত’ দেখালেন তিনি। কিন্তু রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয় নন। মামলা মাথায় নিয়েই এলাকায় আছেন বীরদর্পে। চালাচ্ছেন কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রস্তুতিও। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ওয়াকিলের বাবা মোহাম্মদ জাবেদ গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। এতে খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম, এসআই শাহ পরান ও আনোয়ার হোসেনসহ আটজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশসহ আসামিরা জাবেদের বাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি পুত্রবধূ রীখা বেগমের কাছ থেকে নগদ আট লাখ টাকা ও প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন জাবেদ।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে কর্মরত খুলশী থানার জিআরও এসআই রাজীব কান্তি দে জানালেন, আদালত মামলা গ্রহণ করে সিআইডিকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর করে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে আসামি করে মামলা হয় খুলশী থানায়। মামলা নেওয়ায় ওসি আবদুর রহিমকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে ল্যাংটা করে ‘পেটানোর’ হুমকি দেন ওয়াকিল। ওসি থানায় জিডি করেন।

এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেফতারে করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয় পুলিশ। এতে খুলশী থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। ওসির সরকারি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০-২০০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করে। ওই মামলায় তিনজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন বলে জানালেন ওসি আবদুর রহিম।

ওয়াকিল হোসেন বগা বলেন, আমাদের ঘরে পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে। খুলশী থানার ওসি আমার নামে বারবার বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমাকে কেন সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে আমি নিজেই জানি না। আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমার আব্বা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বললেন, আমরা যখন তার (ওয়াকিল) বাসায় ঢুকি আমাদের সবার বডি ওর্ন ক্যামেরা অন করা ছিল। পুরো অভিযানের ভিডিও রেকর্ড আছে। পরিবারের সদস্যদের অত্যন্ত ভদ্রতার সঙ্গে মা ডেকে, বাবা ডেকে ঘরে তল্লাশি করা হয়েছে। আমরাই বরং সেদিন হামলার শিকার হয়েছি।

*বিহারি বগা সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়াকিল হোসেন বগা (৪২)। যাকে ‘বিহারি বগা’ নামে চেনে সবাই। বাসা নগরীর খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায়। ১৯ মামলার আসামি। পুলিশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম আছে। অপরাধকর্মে যুক্ত থাকায় গত ৮ জুন বহিষ্কার হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে।

প্রথমে এক কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলা কেন রেকর্ড করল, ওসিকে মোবাইল ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করলেন। তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হন ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য। আবার মামলা তার বিরুদ্ধে, কিন্তু ঘটনার ১০ দিন পার হলেও পুলিশ তার টিকিও ছুঁতেও পারেনি।

উল্টো বাবাকে দিয়ে সেই ওসির বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করে ‘ক্ষমতার সবহাত’ দেখালেন তিনি। কিন্তু রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয় নন। মামলা মাথায় নিয়েই এলাকায় আছেন বীরদর্পে। চালাচ্ছেন কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রস্তুতিও। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ওয়াকিলের বাবা মোহাম্মদ জাবেদ গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। এতে খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম, এসআই শাহ পরান ও আনোয়ার হোসেনসহ আটজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশসহ আসামিরা জাবেদের বাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি পুত্রবধূ রীখা বেগমের কাছ থেকে নগদ আট লাখ টাকা ও প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন জাবেদ।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে কর্মরত খুলশী থানার জিআরও এসআই রাজীব কান্তি দে জানালেন, আদালত মামলা গ্রহণ করে সিআইডিকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর করে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে আসামি করে মামলা হয় খুলশী থানায়। মামলা নেওয়ায় ওসি আবদুর রহিমকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে ল্যাংটা করে ‘পেটানোর’ হুমকি দেন ওয়াকিল। ওসি থানায় জিডি করেন।

এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেফতারে করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয় পুলিশ। এতে খুলশী থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। ওসির সরকারি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০-২০০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করে। ওই মামলায় তিনজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন বলে জানালেন ওসি আবদুর রহিম।

ওয়াকিল হোসেন বগা বলেন, আমাদের ঘরে পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে। খুলশী থানার ওসি আমার নামে বারবার বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমাকে কেন সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে আমি নিজেই জানি না। আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমার আব্বা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বললেন, আমরা যখন তার (ওয়াকিল) বাসায় ঢুকি আমাদের সবার বডি ওর্ন ক্যামেরা অন করা ছিল। পুরো অভিযানের ভিডিও রেকর্ড আছে। পরিবারের সদস্যদের অত্যন্ত ভদ্রতার সঙ্গে মা ডেকে, বাবা ডেকে ঘরে তল্লাশি করা হয়েছে। আমরাই বরং সেদিন হামলার শিকার হয়েছি।