নগর প্রতিবেদক: কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দিয়েছে সরকার। মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মুক্তির অনুমতি দেয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হক প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল পুণ্ডরিক ধামে মারা যান চিন্ময় কৃষ্ণের মা শ্রীমতী সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১)। এরপর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় কৃষ্ণকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে তার পরিবার।চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ভাই রঞ্জন কুমার ধর এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, সন্ধ্যা রাণী ধর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্যে কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। মায়ের জীবনের শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারার পর অন্তত শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টির মানবিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য চিন্ময় কৃষ্ণকে প্যারোলে মুক্তি অথবা নিরাপত্তাসহ প্যারোলে উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। আবেদনের সঙ্গে মৃত্যু সনদ ও আবেদনকারীর পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করা হয়।পরে সরকার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক ২৪ দিন আগে, ১৭ জানুয়ারি (শনিবার), চট্টগ্রাম-৯ আসনে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং মঠ-মন্দিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তৎকালীন এমপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান।
সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকে চিন্ময় প্রভুর কথা বলেছেন। আমিও কয়েকটি সভায় তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। পরে বিএনপি নেতাকে (চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান)কে দিয়ে একটি মামলা করানো হলো। বিএনপি তাকে বহিষ্কার করেছে।’
আবু সুফিয়ান আরও বলেন, ‘যখন আমরা তদন্ত করে দেখলাম, ওই বিএনপি নেতাকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি দল জোর করে তাঁর কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে। এখানেই বোঝা যায়, পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে হিন্দুদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এ কাজ করেছে ওই দলটি।’
নির্বাচনের পর অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপির আর কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে কিছু বলতে দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৫ মাস, বিএনপির ৮ মাস, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় আট দফা দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কারাগারে। তাঁর মা সন্ধ্যা রানী ধর মৃত্যুর আগে একবার ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কারণে আবেদনে অনুমতি মেলেনি। আজ তাঁর গর্ভধারিনীর অপেক্ষার প্রহরগুনে মৃত্যুর পর পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে কারাগার থেকে বের করার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
চিন্ময়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ধামকেন্দ্রিক সিআর মামলা, যে গুলোতে তিনি আগে থেকেই জামিনে আছেন। সমসাময়িক সময়ে করা ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটিতে জামিন হয়েছে। চারটি মামলা থেকে রুলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং একটি মামলা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের লালদীঘি মাঠের মহাসমাবেশ শেষে নিউমার্কেট মোড়ের স্বাধীনতা স্তম্ভে জাতীয় পতাকার ওপর ধর্মীয় পতাকা টানিয়ে যায় কয়েকজন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা পতাকা অবমাননার বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালতে তাঁর মুক্তির দাবিতে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে পুলিশ ও আইনজীবীদের একাংশের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে মেটিকুলাশ ডিজাইনে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংশভাবে খুন করা হয়। এই রাজনৈতিক মামলায়ও তাঁকে আসামী করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চলছে। সেই মামলাতেও চিন্ময় আসামি।
তাঁর আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, এসব মিলিয়ে সমসাময়িক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার সংখ্যা ছয়টি।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ইসকন বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। মূলত আট দফার আন্দোলনে সরাসরি জড়িয়ে যাওয়ার কারণে তাকে বহিষ্কার করে ইসকন।




