ইফতেখার,নগর প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা রিয়াজউদ্দীন বাজার। প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা থাকা এই বাজারে অবৈধ ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ দীঘদিনের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তাদের একাংশের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন অংশে অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য, নকল পণ্য, অবৈধ সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যের হরদম বেচাকেনা চলছে। একই সাথে হুন্ডী ও স্বর্ণের অবৈধ লেনদেন নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিদের মতে, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রিয়াজউদ্দীন বাজারের অবস্থান ও ব্যস্ততার কারণে এখানে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর সমাগম ঘটে। ফলে বৈধ ব্যবসার আড়ালে কেউ কেউ নিষিদ্ধ বা অনুমোদনহীন পণ্য কেনাবেচার সুযোগ নিচ্ছে-এমন অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন দোকান ও গুদামে বিদেশি পণ্য আমদানির বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্বেও কিছু পণ্য বিক্রী করা হয়। এর মধ্যে বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের নামে নকল পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার বা অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে বাজারের কিছু ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে। একইভাবে স্বর্ণণের অবৈধ ও উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—এমন অভিযোগও স্থানীয় পযায়ে শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ঠ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বশীল সংস্থার মাধ্যমে বিধিমূলকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এ প্রতিবেদকে জানান, হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীর অনিয়মের কারণে পুরো বাজারের বৈধ ব্যবসায়ীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অবৈধ পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কাযকর নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ পণ্যের উৎস, সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের সংশ্লিষ্ঠদের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও চোরাচালানের সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ পণ্য জব্দ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এসব পণ্য কোথা থেকে আসছে, কারা সরবরাহ করছে এবং কীভাবে বাজারে প্রবেশ করছে—তা খুঁজে বের করে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রিয়াজউদ্দীন বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ঠ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তীক্ষ্ণ নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বৈধ ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে রিয়াজউদ্দীনন বাজারে হুন্ডি, অবৈধ স্বর্ণ, সিগারেট, চোরাই বা অনুমোদনহীন বিদেশি পণ্য এবং নকল পণ্যের বিষয়ে যে সব অভিযোগ রয়েছে, সবগুলোর সুনিদিষ্ট তথ্য ও সত্যতা সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের বক্তব্য এবং নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।




