নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম আদালত ভবনের এজলাস কক্ষে মামলার বাদীকে গলায় চুরি ডুকিয়ে দিয়েছে আসামীরা। গত রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টায় চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন মেজিস্ট্রেট আদালত -৩ এর এজলাস কক্ষের সামনে এ ঘটনায় সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনটি মামলার বাদী ও ব্যবসায়ী নুরুল কবির। ওই দিন ঘটনার পর পর বিচারকের নির্দেশে পুলিশ পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার এই ব্যবসায়ী নূরুল কবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে।
নুরুল কবির স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চাাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, চুরিসহ তিনটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওইসব মামলার বিচারকাজে উপস্থিত হলে আসামীরা এমন ঘটনা ঘটায় বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। তবে এখানো পুলিশ অভিযোগ গ্রহন করেনি বলে বাদী জানিয়েছেন।
বাদী নুরুল কবির জানান, ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। আমার অভিযোগও গ্রহন করেনি।
কোতোয়ালী থানায় দেয়া অভিযোগে পাঁচলাইশ ৭নং ওয়ার্ডস্থ হাদু মাঝি পাড়া সারের মাষ্টারের বাড়ীর মৃত ইউনুছের পুত্র ইলিয়াস হোসেন প্রকাশ অপু (৩২), মৃত জহির আহাম্মদের পুত্র মো. ইমরান (২৫), কবির হোসেনের (করি) পুত্র মো.আনোয়ার (৪৮), মো. নাছেরের পুত্র জয়নাল আবেদীন সোহেল (৩৮), ইলিয়াস হোসেন প্রকাশ অপুর স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২২), মো. ইমরানের স্ত্রী ঊর্মি আক্তার (২০)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মো. নুরুল কবির (৪১) পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ইতিপূর্বে বাদী ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার রুপা বিভিন্ন ঘটনায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানা তিনটি মামলা ( নং-০৩ (১১) ২০২৪, ০৪ (০৬) ২০২৬, ২৩ (০৬) ২০২৬ এবং ২৪ (০৮) ২০২৬) দায়ের করেন।
মামলা সমূহ দায়েরের পর থেকে আসামীরা নুরুল কবিরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধমকী প্রদান করে কিন্তু বাদী মামলা প্রত্যাহারে অনড় থাকায় আসামীরা তাকে প্রাণে মারার পাঁয়তারায় লিপ্ত ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
চলতি বছরের গত ৬ আগষ্ট পাঁচলাইশ মডেল থানার মামলা নং- ২৪ (০৮) ২০২৬ সংক্রান্তে শুনানীর দিন ধার্য হলে বাদী ও তার স্ত্রী মামলার শুনানীতে অংশগ্রহণ করার জন্য আদালত ভবনে এলে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা মামলাসমূহ প্রত্যাহার না করায় বাদীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধমকী দেয়। এ সময় বাদী প্রতিবাদ করিলে আসামীরা অতর্কিতভাবে বাদীকে মারধর করে।
ঘটনার এক পর্যায়ে ইলিয়াস হোসেন প্রকাশ অপু তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে বাদীর গলার ডান পাশে উপর্যুপুরি আঘাত করে রক্তাক্ত করে। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে আসামী মো. ইমরান বাদীর গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধক্রমে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। তখন বাদীর স্ত্রী প্রতিবাদ করিলে আসামী কুলসুমা আক্তার বাদীর স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে টানা হেছড়া করে এজলাশের নীচে এনে তাকে মারধর করে। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় বাদী প্রতিবাদ করলে আসামী জয়নাল আবেদীন সোহেল তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদীর ডান হাতে আঘাত করে এবং সকল আসামী বাদীকে মারধর এলাপাতাড়ি মারধর করে।
এ সময় আসামী মো.আনোয়ার বাদীর পকেট থেকে কৌশলে নগদ টাকা নিয়ে যায়। বাদী ও তার স্ত্রীর শোরচিৎকারে কোর্ট বিল্ডিংয়ের আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে বাদী আদালতে থাকা পুলিশের সহায়তায় চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার বাদীর শরীরিক অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।




