*প্রয়োজনীয় জলবাহন না থাকায় আক্ষেপ!

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের বাঁধভাঙ্গা জলে নিমজ্জিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে সাতকানিয়া উপজেলায় বন‍্যাদূর্গত প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য গঠন করা হয়েছে একটি করে মেডিকেল টিম, যাতে তাৎক্ষণিক কেউ অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভবপর হয়ে উঠে।

ইউনিয়ন ছাড়াও পৌরসভা এলাকায় অসুস্থদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় মেডিকেল টিমও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আপাতত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন মত ওষুধও মজুদ রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে, শুধু নেই, দুর্গত এলাকায় যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় উপাদান নৌকা বা বোট। ফলে প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দুর্গম এলাকায় অসুস্থদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ফলে এ অপারগতায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রদানের নেতৃত্বদানকারী, খোদ সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.অমিত দে।

সরেজমিনে প্রতীয়মান হয়, গত বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) থেকে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ ভবন, আদালত, থানা ও ভূমি অফিসসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোথাও কোমর কোথাও বুকসম পানিতে তলিয়ে যায় এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও। কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথ, উঠান ও হাসপাতালের নিচতলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ছিল কোমরসমান পানি। তবুও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সর্বোচ্চ সম্ভব সেবা প্রদানের লক্ষ‍্যে মাঠে দৃশ্যমান রয়েছেন। তবে এতে বিপত্তি ঘটে বন্যা দুর্গত এলাকায় যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় জলবাহন না থাকা। তবুও কয়েকটি নৌকা দিয়ে দূর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা টিম।

আজ (রবিবার) বিকেলে কয়েকজন সাপে কাটা ও বিষাক্ত পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীকে কলা গাছের ভেলা ও নৌকায় করে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নিতে আসতেও দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফ পিও) ডা. অমিত দে বলেন, যে দিন থেকে সাতকানিয়ায় আবহাওয়া খারাপের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে সে দিন থেকে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়নগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরতদের সাথে আলাপ করে পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ সম্ভব সেবা প্রদানের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ১৭টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। প্রতিটি টিমে সদস্য সংখ্যা চারজন। সে টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন মেডিকেল অফিসার।

অন্য সদস্যরা হলেন-স্বাস্থ্য সহকারী, ফার্মাসিস্ট ও কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রস্তুত রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মেডিকেল টিম। যে টিমের সদস্যরা পৌরসভা এলাকার সব ওয়ার্ডেই চিকিৎসা সেবা দিতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত।

ডা.অমিত দে বলেন, এপর্যন্ত চারজন সাপে কাঁটা রোগী হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এদিকে আননোন বাইট অর্থাৎ অপরিচিত পোকামাকড়ের কামড়ে আক্রান্ত ১০ জন রোগী এসেছিল। তাদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০০টা অ্যান্টি-স্নেক ভেনম বা সাপের বিষের প্রতিষেধক হাসপাতালে রয়েছে। আরো ১০০টি প্রতিষেধকের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আপাতত প্রয়োজন মেটানো চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধ মজুদ রয়েছে।

শুধু তাই নয়, বন্যা পরবর্তী ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর, হেপাটাইটিস, চর্মরোগ ইত্যাদি মোকাবেলার জন্যও আমাদের হাসপাতালে আগাম প্রস্তুতি রয়েছে।

তবে, ডা.অমিত দে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সম্ভব সেবা দেওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।বন্যা দুর্গত এলাকায় তা বাস্তবায়নের জন‍্য যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই জলবাহন আমাদের নেই বললেই চলে। কয়েকটি নৌকা ম‍্যানেজ করে কোনরকমে তা দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, আমি নিজেও সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তবুও হাসপাতাল ছেড়ে যাইনি। হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছি। অসুস্থ শরীর নিয়ে হাসপাতালে মেডিকেল টিমের সাথে থেকে পুরো উপজেলার চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছি।

*প্রয়োজনীয় জলবাহন না থাকায় আক্ষেপ!

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের বাঁধভাঙ্গা জলে নিমজ্জিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে সাতকানিয়া উপজেলায় বন‍্যাদূর্গত প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য গঠন করা হয়েছে একটি করে মেডিকেল টিম, যাতে তাৎক্ষণিক কেউ অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভবপর হয়ে উঠে।

ইউনিয়ন ছাড়াও পৌরসভা এলাকায় অসুস্থদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় মেডিকেল টিমও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আপাতত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন মত ওষুধও মজুদ রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে, শুধু নেই, দুর্গত এলাকায় যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় উপাদান নৌকা বা বোট। ফলে প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দুর্গম এলাকায় অসুস্থদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ফলে এ অপারগতায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রদানের নেতৃত্বদানকারী, খোদ সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.অমিত দে।

সরেজমিনে প্রতীয়মান হয়, গত বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) থেকে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ ভবন, আদালত, থানা ও ভূমি অফিসসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোথাও কোমর কোথাও বুকসম পানিতে তলিয়ে যায় এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও। কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথ, উঠান ও হাসপাতালের নিচতলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ছিল কোমরসমান পানি। তবুও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সর্বোচ্চ সম্ভব সেবা প্রদানের লক্ষ‍্যে মাঠে দৃশ্যমান রয়েছেন। তবে এতে বিপত্তি ঘটে বন্যা দুর্গত এলাকায় যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় জলবাহন না থাকা। তবুও কয়েকটি নৌকা দিয়ে দূর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা টিম।

আজ (রবিবার) বিকেলে কয়েকজন সাপে কাটা ও বিষাক্ত পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীকে কলা গাছের ভেলা ও নৌকায় করে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নিতে আসতেও দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফ পিও) ডা. অমিত দে বলেন, যে দিন থেকে সাতকানিয়ায় আবহাওয়া খারাপের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে সে দিন থেকে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়নগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরতদের সাথে আলাপ করে পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ সম্ভব সেবা প্রদানের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ১৭টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। প্রতিটি টিমে সদস্য সংখ্যা চারজন। সে টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন মেডিকেল অফিসার।

অন্য সদস্যরা হলেন-স্বাস্থ্য সহকারী, ফার্মাসিস্ট ও কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রস্তুত রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মেডিকেল টিম। যে টিমের সদস্যরা পৌরসভা এলাকার সব ওয়ার্ডেই চিকিৎসা সেবা দিতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত।

ডা.অমিত দে বলেন, এপর্যন্ত চারজন সাপে কাঁটা রোগী হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এদিকে আননোন বাইট অর্থাৎ অপরিচিত পোকামাকড়ের কামড়ে আক্রান্ত ১০ জন রোগী এসেছিল। তাদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০০টা অ্যান্টি-স্নেক ভেনম বা সাপের বিষের প্রতিষেধক হাসপাতালে রয়েছে। আরো ১০০টি প্রতিষেধকের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আপাতত প্রয়োজন মেটানো চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধ মজুদ রয়েছে।

শুধু তাই নয়, বন্যা পরবর্তী ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর, হেপাটাইটিস, চর্মরোগ ইত্যাদি মোকাবেলার জন্যও আমাদের হাসপাতালে আগাম প্রস্তুতি রয়েছে।

তবে, ডা.অমিত দে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সম্ভব সেবা দেওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।বন্যা দুর্গত এলাকায় তা বাস্তবায়নের জন‍্য যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই জলবাহন আমাদের নেই বললেই চলে। কয়েকটি নৌকা ম‍্যানেজ করে কোনরকমে তা দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, আমি নিজেও সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তবুও হাসপাতাল ছেড়ে যাইনি। হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছি। অসুস্থ শরীর নিয়ে হাসপাতালে মেডিকেল টিমের সাথে থেকে পুরো উপজেলার চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছি।