পটিয়া থেকে শফিউল আলমঃ গত ১৬ জুন প্রতিদিনের মত দুপুরে বাড়ির সামনে খেলছিল ৫ বছরের শিশু পুত্র জায়হান। দুপুর ১২ টার পর তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেল না তাকে। অবশেষে বাড়ির সামনের পুকুরে ও তল্লাশি চালায় তার আত্মীয় স্বজন ও বাড়ির লোকজন। পুকুরে ও তাকে পাওয়া গেল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পটিয়া থানায় একটি ডায়েরি করেন তার বাবা।
এমতাবস্থায় , স্থানীয় জনসাধারণ এসে তাকে এই সেই বলে শান্তনা দেন। তবুও নারী ছেড়া ধন বলে কথা। তার পরিবারের অনর্গল কান্নায় আকাশ বাতাশ ভারী হতে থাকে।
এ প্রেক্ষিতে হঠাৎ জায়হানের মায়ের চোখ পরে তাদের বিছানার উপর একটি সাদা কাগজের দিকে। তিনি দেরি না করে ঐ কাগজ হাতে নিয়ে দেখেন, জায়হানের বাবাকে সম্মোধন করে লেখা আছে ৩ লাখ টাকা মুক্তি পণ দাবি করে একটি হাতের লেখা চিঠি। ঐ চিঠির কথা পুলিশকে না জানাতে বারণ করা হয়। জানালে জায়ানকে মেরে ফেলা হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়।
চিঠির অংশে লেখা ছিল , “তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোন চালাকি করার চেষ্টা করস , তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না। পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস , তাহলে ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানে মত। তোর পরিবারের উপর নজর আছে সব সময়। আধা ঘন্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা, আর তোর ফ্যমিলির যে কোন এক জনের মোবাইল আনলক করে তোর বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভিতর ঢুকে যাবি। ঢুকে দরজা , জানালা, সব বন্ধ করে দিবি। যদি কোন চালাকি করস আমার কোন ক্ষতি হবে না। তোর ছেলেকে জীবনে খুঁজে পাবি না। মোবাইলটা তোর ছেলেকে তোকে দেখানোর জন্য……আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি। চিঠির শেষাংশ খতিয়ে দেখেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
শিশু জায়হানের বাবা শাহজাহান বলেন, ” আামার এক মাত্র ছেলেকে কারা নিয়ে গেল, জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেকে সুস্থবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে হুমকির কারণে আমরা খুবই আতংকে আছি। চিঠিটি পাওয়ার পর স্পষ্ট হলো যে, এটি অপহরণ বই কিছুই নয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক বলেন, “খবর শুনার পরপরই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। মুক্তি পণের চিঠি জব্দ করা হয়। শিশুটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও চিঠির ভাষা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আশ -পাশের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। “
এদিকে অপহরণের ২ দিন পর জায়হানের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয় ময়লার এক ভাগার থেকে। গত বিষুদবার ভোরেই পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ড , দক্ষিণ গোবিন্দরখীল গ্রামের পূর্ব এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। সংগে সংগে সন্দেহ ভাজন ৩ জনকে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সাতকানিয়া সার্কেল)আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে বাড়ির পাশের ডোবা হতে শিশুটির বস্তুাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ” লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
শিশুটির অভিভাবক জানান , টাকার লোভে তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়ছে। ধরা পরে যাওয়ার ভয়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকারীরাও নাটকীয় ভাবে জায়হানের স্বজনদের সাথে তাকে খোঁজাখুঁজির অভিনয় করছিল।
অবশেষে গতকাল রবিবার( ২১ জুন) ক্ষোভের বশে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা জায়হান হত্যার প্রধান আসামী সাদিয়া সুলতানা নিহার বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক জানান , জায়হান হত্যার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ক্ষোভের বশে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ থানা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ”




